অস্তিত্ব সংকটে অ্যামাজন! তেল আগ্রাসনের বলি ৪০০-রও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী

Amazonas River : এছাড়া এখানে ৪০০-র বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, যাদের মধ্যে অনেকেই এখনো বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগহীন। সুকুরিজু ও আশপাশের অঞ্চলগুলো তাই শুধুমাত্র পরিবেশগত নয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক সংকটের মুখে।

Asish Gupta
৪ মিনিট
অস্তিত্ব সংকটে অ্যামাজন! তেল আগ্রাসনের বলি ৪০০-রও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের কল্পলোক থেকে বাস্তব জগতে নেমে আসা এক নদীবেষ্টিত গ্রামের নাম সুকুরিজু। অ্যামাজন নদীর মুখে, ম্যানগ্রোভে ঘেরা এই স্থান যেন সময়ের বাইরে টিকে থাকা এক জৈব-সামাজিক বাস্তুতন্ত্র। এখানে জীবন চলে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে, চন্দ্রচক্রের গতিপথে— প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য ছন্দে। অথচ এই সমন্বিত জীবনধারার বুকে বারবার থাবা বসিয়েছে এক আধুনিক দানব, তেল শিল্প। সুকুরিজু আজ দাঁড়িয়ে আছে অস্তিত্বের প্রান্তরেখায়— নতুন করে তেল খননের পরিকল্পনা শুধু তার নিজস্ব জীবিকা ও সংস্কৃতিকেই নয়, গোটা অ্যামাজনের উপকূল ও বৈশ্বিক পরিবেশ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ব্রাজিলের নিরক্ষীয় উপকূল বরাবর বিস্তৃত অঞ্চলটিকে ‘ইকুয়েটোরিয়াল মার্জিন’ বলা হয়। এটি শুধু একটি ভূগোলিক পরিভাষা নয়, বরং তেল কোম্পানিগুলোর নয়া আগ্রাসনের কেন্দ্রবিন্দু। সুকুরিজু এই অঞ্চলেই অবস্থিত, যেখানে ব্লক ৫৯ নামের একটি অফশোর তেল ব্লক নিয়ে এখন চলছে তীব্র টানাপোড়েন। ১৯৭০-এর দশক থেকেই এখানে তেল অনুসন্ধান চলছে। তখন ব্রিটিশ কোম্পানি শেল প্রথম হেলিকপ্টারে করে তেল কর্মীদের এনে গ্রামের হৃদয়ে ঘাঁটি তৈরি করেছিল। গ্রামবাসীদের ভাষায়, “ওই প্রথম আমরা বুঝতে পারি বাইরের দুনিয়া আমাদের জীবনে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

তবে প্রকৃত খনন কার্যক্রম শুরু হয়নি। পেট্রোব্রাস ২০২০ সালে ফরাসি কোম্পানি টোটাল এবং ব্রিটিশ বিপি-এর কাছ থেকে ব্লকগুলো অধিগ্রহণ করে। এই অধিগ্রহণ এমন এক সময়ে হয় যখন প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় বিশ্ব তীব্রভাবে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের আহ্বান জানাচ্ছে। পেট্রোব্রাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিন পিটার প্রেটো এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য সব সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে চাই।” কিন্তু এই ‘উন্নয়ন’-এর সংজ্ঞা আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

গবেষণাভিত্তিক সাংবাদিকদের যৌথ প্রকল্প ‘এভরি লাস্ট ড্রপ’ অনুসারে, পেট্রোব্রাস ব্লক ৫৯-এ খননের জন্য যে পরিবেশগত বিশ্লেষণ জমা দিয়েছে, তাতে সঠিক বিপদ বিশ্লেষণ অনুপস্থিত ছিল। প্রস্তাবিত জরুরি তেল ছড়ানোর প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা (oil spill response plan) পুরাতন প্রযুক্তিনির্ভর ও অপ্রতুল। এমনকি পেট্রোব্রাস স্বীকার করেছে যে যদি সমুদ্র প্রবাহ পূর্বদিকে থাকে, তবে ছড়িয়ে পড়া তেল অ্যামাজনের মুখ দিয়ে সোজা বেলেম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সেই বেলেম, যেখানে আগামী নভেম্বর মাসে ক'প ৩০ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এই বাস্তবতা স্বীকার করেও ব্রাজিল সরকার বলছে, তারা তেলের মাধ্যমে 'পরিবর্তনের জন্য তহবিল' জোগাড় করছে। রাষ্ট্রপতি লুলা দা সিলভা আন্তর্জাতিক মহলে নিজেকে পরিবেশবান্ধব নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও দেশের ভেতরে তিনি তেল কোম্পানির অনুকূলে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সহজ করে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, 'আমরা এমন এক দেশ, যার অধীনে দারিদ্র্য ও উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন।' এই বিবৃতি আদতে উন্নয়নের নামে জীববৈচিত্র্য ও আদিবাসী অধিকারের আপসের ইঙ্গিত বহন করে।

ব্রাজিলের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নবীকরণ যোগ্য সম্পদ বিষয়ক ইনস্টিটিউট ইবামা-র বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তারা এই খনন কার্যক্রমের বিরোধিতা করেছেন বহুবার। সুয়ালি আরাউজো, যিনি ২০১৮ সালে ইবামা-র প্রেসিডেন্ট ছিলেন, বলেন, 'অ্যামাজনের মুখে তেল ছড়ালে আপনি তা থামাতে পারবেন না। এটি হলো এমন একটি অঞ্চল যেখানে খনিজ অনুসন্ধান মানেই প্রাণ-ব্যবস্থার ওপরে চরম আঘাত।' তার মতে, পেট্রোব্রাসের পরিকল্পনা শুধুমাত্র ব্লক ৫৯ নয়, বরং এই অঞ্চলের বাকি ব্লকগুলোকেও ভবিষ্যতের খননের জন্য প্রস্তুত করা। এটি একটি সুপরিকল্পিত 'ফুট ইন দ্য ডোর' কৌশল।

সুকুরিজু গ্রামের মানুষদের জন্য এই সংঘাত নিছক পরিবেশগত নয়—এটি অস্তিত্বের লড়াই। ৬৯ বছর বয়সি মৎস্যজীবী আমিরালদো ফেরেইরা বলেন, 'এই ট্যাঙ্কগুলো আর কাজে আসে না। ওগুলো এখন শুধু স্মৃতি। কিন্তু যদি আবার তেল কোম্পানিগুলো ফিরে আসে, তাহলে আমরা যে জলে মাছ ধরি, সেই জলেই বিষ মিশবে।' তার পাশে বসে থাকা বৃদ্ধা মারিয়া কাস্ত্রো যোগ করেন, 'তেল এলেই শিশুরা অসুস্থ হবে, গাছগুলো মরবে, নদী বদলাবে। আমরা শুধু ইতিহাসের দর্শক হয়ে থাকব না।'

ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের একটি স্বাধীন, অলাভজনক গবেষণা সংস্থা, যার লক্ষ্য অ্যামাজন অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, অ্যামাজন-এর গবেষক ভ্যালেরিয়া পিনহেইরো বলেন, 'এই খনন কার্যক্রম শুরু হলে তা শুধু সুকুরিজুর নয়, গোটা অ্যামাজনীয় বাস্তুসংস্থানের অবনতির সূচনা ঘটাবে।' তিনি উল্লেখ করেন, অ্যামাজনের মুখে ৬০ টির বেশি স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাস, যাদের মধ্যে ১০ টিরও বেশি বিলুপ্তপ্রায়। এই অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ, সাভানা, এবং শেলফ লেগুন মিলিয়ে এক দুর্লভ পরিবেশ তৈরি করেছে—যা একবার নষ্ট হলে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংযুক্ত প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষের জীবন, খাদ্য, পানি ও সংস্কৃতি। এছাড়া এখানে ৪০০-র বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, যাদের মধ্যে অনেকেই এখনো বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগহীন। সুকুরিজু ও আশপাশের অঞ্চলগুলো তাই শুধুমাত্র পরিবেশগত নয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক সংকটের মুখে।

এই পটভূমিতে প্রশ্ন উঠছে—অ্যামাজন নদী, যা প্রতিদিন ২ লক্ষ কিউবিক মিটার পানি নিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়, তার মুখে তেল খননের ঝুঁকি আমরা নেব কোন মূল্যে? ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ কি আরেকবার 'উন্নয়নের' নাম করে ঔপনিবেশিক কায়দায় প্রাকৃতিক সম্পদকে বলি দেবে?

এই নদীর রক্তক্ষরণ শুধুমাত্র এক দেশ বা অঞ্চলের বিষয় নয়, বরং এটি এক বৈশ্বিক ইকো-রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। সুকুরিজু তাই এক প্রতীক—প্রাকৃতিক ভারসাম্য, আদিবাসী জীবিকার ব্যবস্থা, ও নীরব শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের। কিন্তু এই প্রতীক আজ আবারও ঝুঁকিতে। যদি আমরা এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হই, তবে ইতিহাসে লেখা থাকবে—আমরা জেনেও চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিলাম।

তথ্যসূত্র :

Agência Pública, 2024. “Every Last Drop” সিরিজ রিপোর্ট।

Imazon ও Instituto Socio Ambiental (ISA) গবেষণা প্রতিবেদন, 2023-2024।

Interviews from Amazônia Real, 2022–2024 archive।

লিখেছেন
Asish Gupta
Asish Gupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।