বিশ্বের বিপদ বাড়বে নিমেষেই! কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের হরমুজ প্রণালী?

Israel-Iran conflict Strait of Hormuz: বিশ্বব্যাপী যত তেল ব্যবহার হয় তার প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল ট্রানজিট চোকপয়েন্ট বলা হয় এই হরমুজ প্রণালীকে।

inscript
৩ মিনিট
বিশ্বের বিপদ বাড়বে নিমেষেই! কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের হরমুজ প্রণালী?

বহু যুগ ধরেই একে অপরের শত্রু। তবে বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা অস্থিরতাকে আরও কিঞ্চিৎ বাড়িয়ে এবার তীব্রতর মুখোমুখি সংঘর্ষে নেমেছে যুযুধান ইজরায়েল এবং ইরান। দুই দেশই অস্ত্রের বলে বলীয়ান। ফলে ইরানের উপর যে হামলা ইজরায়েল করেছে, তার পাল্টা জবাব যে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েই ইরান ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস করবে, সহজেই অনুমেয়। আর এই সংঘাতের প্রভাবে কেবলই আঞ্চলিক নয়। সারা বিশ্বের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে চলেছে ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ। এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কথা বিবেচনা করছে সে দেশের সরকার। ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরিন জানিয়েছে, ইজরায়েলের সঙ্গে বিরোধ তীব্র হওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই পদক্ষেপটি তেলের দাম বাড়িয়ে তো দেবেই, পাশাপাশি যুদ্ধকেও প্রসারিত কররতে পারে। এই হরমুজ প্রণালী আসলে কী? কেন এটি বিশ্ব বাণিজ্যের পক্ষে এই প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ পারস্য উপসাগরে ঢোকার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশ পথ। এটি একদিকে ইরানকে বিভক্ত করছে এবং অন্যদিকে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে বিভক্ত করছে। হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে।

ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী যত তেল ব্যবহার হয় তার প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল ট্রানজিট চোকপয়েন্ট বলা হয় এই হরমুজ প্রণালীকে। এই প্রণালীর সংকীর্ণতম অংশে, এটি ৩৩ কিলোমিটার মাত্র প্রশস্ত। তবে জলপথে শিপিং লেনগুলি আরও সংকীর্ণ। ফলে এখানে আক্রমণ হলে বিপদ বাড়বে, তা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ! কী প্রভাব পড়বে ভারতে?

Iran-Israel conflict: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চললে খনিজ তেলের দাম বাড়বে। ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে বন্ধ হতে পারে উপসাগরীয় দেশ লাগোয়া সমুদ্র বাণিজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।

১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে ইরান-ইরাক দ্বন্দ্বের সময়, দুই পক্ষেরই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। দুই দেশই উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে হামলা করে। সেই সময় ট্যাঙ্কার যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত হয়েছিল এই সংঘাত। তবে হরমুজ প্রণালী কখনই পুরোপুরি বন্ধ ছিল না।

সাম্প্রতিককালে, ২০১৯ সালে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার রাষ্ট্রপতি হন, সেই সময় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ উপকূলে প্রণালীর কাছে চারটি জাহাজ আক্রমণ করা হয়েছিল। এই ঘটনার জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে দোষ দিয়েছিল, তবে ইরান অভিযোগ অস্বীকার করে। সাধারণত, দীর্ঘকালীন কোনও সংঘাতের মধ্যে আরও চাপ বাড়াতে সাধারণত শিপিং লেনগুলিতে আক্রমণ করা হয়। গাজায় যুদ্ধের পর থেকে ইয়েমেনের হাউথিরা আরব উপদ্বীপের ওপারে লোহিত সাগরে প্রবেশ পথ বাব আল-মন্ডেব প্রণালীর আশেপাশে জাহাজগুলিতে আক্রমণ করছে। হাউথিদের এই আক্রমণ বিশ্ব বাণিজ্যকে প্রভাবিত করেছে ঠিকই, তবে জাহাজগুলি আফ্রিকার আশেপাশ দিয়ে ঘুরে গিয়ে লোহিত সাগর এড়াতেও পারে - দীর্ঘতর হলেও নিরাপদ যাত্রা। কিন্তু হরমুজের মধ্য দিয়ে না গেলে উপসাগর থেকে সমুদ্রের বাইরে কিছু পাঠানোর কোনও উপায় নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান হামলার বিরোধিতা থেকে কেন সমর্থনে ট্রাম্প?

Iran Israel Conflict: মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠজন বলছে, ট্রাম্প প্রথমে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

এমনকী যে দেশগুলি উপসাগরীয় দেশের থেকে পেট্রোল আমদানি করে না তারাও এই প্রণালী বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবে কারণ এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহে ঘাটতি হবে আর তা ব্যারেল প্রতি তেলের দাম বাড়িয়ে তুলবে।

তবে ইরানের এই প্রণালী বন্ধ করার ক্ষমতা বা প্রকৃত ইচ্ছা আছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনটা করলে অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুপ থাকবে না। এই অঞ্চলে নৌ-সামরিক সম্পদ রয়েছে আমেরিকার।

ইজরায়েল গত শুক্রবার ভোরে ইরান জুড়ে আক্রমণ চালায়। মূলত সামরিক নেতা, আবাসিক ভবন, সেনা ঘাঁটি এবং পারমাণবিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চলেছিল। তারপর প্রত্যাঘাতে ইরান শ'য়ে শ'য়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ছোড়ে ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে নষ্ট করতে সহায়তা করেছে ঠিকই কিন্তু মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানকে আক্রমণ করেনি। এমনকী মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইজরায়েলের এই হামলার সঙ্গে ওয়াশিংটন কোনওভাবেই জড়িত ছিল না।

উল্টোদিকে দেখতে গেলে, তেহরানও কিন্তু এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা বা মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা করেনি। তাই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে আমেরিকাকে অহেতুক উত্যক্ত করার পথে কি ইরান হাঁটবে? ট্রাম্পের থেকে সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কি এই মুহূর্তে ইরান নিতে চাইবে? তবে ইরান একটি বিষয় স্পষ্ট করছে যে, এই জাহাজ চলাচলের প্রণালীগুলিকে আগামীতে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে সিরিয়ার দামাস্কাসে ইরানের কনস্যুলেটে এক মারাত্মক হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। তারপরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি জাহাজ দখল করে নেয়। তারপর ইরান ও ইজরায়ের মধ্যে সংঘাত চলে। দুই শত্রুর মধ্যে অন্যতম গুরুতর প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত ছিল সেটি। সংঘাত আবারও চলছে, হরমুজ প্রণালী সেখানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সেটিই দেখার।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।