"পিসি, ধর্ষণ কী?" গণধর্ষিতা হওয়ার ২ দিন আগে জিজ্ঞেস করেছিল অসমের নাবালিকা

Assam Gang Rape: এই গণধর্ষণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তফাজুল ইসলাম পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ

inscript
৩ মিনিট
"পিসি, ধর্ষণ কী?" গণধর্ষিতা হওয়ার ২ দিন আগে জিজ্ঞেস করেছিল অসমের নাবালিকা

২০২২ সালের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রেকর্ড বলছে, প্রতি ১৬ মিনিটে ভারতবর্ষে একজন মহিলা ধর্ষিতা হন। অর্থাৎ, যখন আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে পথে নামছেন মেয়েরা, ক্ষুব্ধ মানুষ চিৎকার করে স্লোগান তুলছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেও কোথাও না কোথাও, কেউ না কেউ ধর্ষিত হচ্ছেন। গত ২২ অগাস্ট আরেকটি মর্মান্তিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে অসমের নগাঁও জেলায়। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নাবালিকা। সবচেয়ে আশ্চর্যের, সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই ঘটনার ঠিক ২ দিন আগেই নিজের পিসিকে এই মেয়েটি জিজ্ঞাসা করেছিল, ধর্ষণ মানে কী?

খবরের কাগজে দেশ জুড়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভের খবর চোখে পড়েছিল ওই নাবালিকার। পিসিকে আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের মর্মান্তিক হত্যা ও ধর্ষণের খবর পড়তে দেখে জিজ্ঞেস করেছিল সে, "পিসি, ধর্ষণ কী?” ঠিক দুই দিন পরেই যে নিজের বাড়ির সন্তানের সঙ্গে এমন ভয়ানক ঘটনা ঘটবে কল্পনাও করেননি তিনি। এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছেন ওই নাবালিকার পিসি। বলেছেন, "আমি কখনই ভাবতেও পারিনি, এখানে এত ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে। আমি ওকে রক্ষা করতে পারলাম না।"

১৪ বছরের এই স্বপ্নদর্শী বালিকা বড় হয়ে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) হওয়ার স্বপ্ন দেখত। গণধর্ষণের শিকার হয়ে যখন হাসপাতালে দিন কাটছে এই মেয়ের, সেখানে ডিএসপি দেখা করতে এসেছেন তাঁর সঙ্গে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে, সারা দেহজুড়ে যন্ত্রণা নিয়ে ডিএসপির সঙ্গে কথা বলেছে সেই মেয়ে, যন্ত্রণা সহ্য করেও হেসেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লজ্জা! গুগলে, পর্ন সাইটে আরজি করের নির্যাতিতার ভিডিও খোঁজার হিড়িক...

RG Kar Rape Victim Google Search: ভিডিও এবং ছবি ছাড়াও গত ১৯ থেকে ২০ অগাস্টের মধ্যে নির্যাতিতার 'জাত'ও গুগলে সার্চ করেছেন মানুষ।

গত ২২ অগাস্ট টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় নগাঁওয়ের ধিং-এ নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে গণধর্ষণ করা হয় চোদ্দ বছরের এই মেয়েকে। মেয়েটি তার পিসি এবং দাদু-ঠাকুমার সঙ্গেই থাকত। সাধারণত পিসির সঙ্গে বা রিকশা ধরে টিউশন থেকে বাড়ি ফিরে আসত। ২২ অগাস্ট সাইকেলে টিউশনে গিয়েছিল এই নাবালিকা। সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ বাড়ি ফেরার সময় তিনজন লোক তার বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তাকে ধর্ষণ করে।

স্থানীয়রা মেয়েটিকে একটি জঙ্গলে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অসমে এই ঘটনার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ওই নাবালিকার জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে পথে নেমেছেন মানুষ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি করে মাদক, যৌনচক্র, মানব অঙ্গ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ! কেন চুপ মুখ্যমন্ত্রী?

RG Kar Rape and Murder: প্রাক্তন আমলারা এই চিঠিতে আরজি করে দুর্নীতির চক্র সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পিসি জানিয়েছেন, মেয়েটির বাবা গুয়াহাটিতে আছেন। মেয়েকে মানুষ করার মতো আর্থিক সামর্থ না থাকায় তিনি কন্যাকে ধিং-এ পিসির সঙ্গে থাকতে পাঠিয়ে দেন। পিসি প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা উপার্জন করেন। তিনিই এই কন্যার শিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার দায়িত্ব নিয়েছেন।

গণধর্ষণের শিকার ওই নাবালিকার বাবা বলছেন, "আমার মেয়েকে হাসপাতালে এমন অবস্থায় দেখতে হচ্ছে ভাবতে পারছি না। ও ভালো করে কথাও বলতে পারছে না।" বাবা বলেছেন, মেয়ে একবার সুস্থ হয়ে উঠলেই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাকে ধিং থেকে সরিয়ে নেবেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই গণধর্ষণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তফাজুল ইসলাম পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ। আরও তদন্ত চলছে। অন্য অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনার নিন্দা করে জানিয়েছেন, একজন নাবালিকার সঙ্গে ধিং-এ যে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। নাগরিকদের সম্মিলিত বিবেকে আঘাত করেছে এই ঘটনা। কাউকে ছাড়া হবে না, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া বিচার হবে। যেমনটা সকল প্রশাসনিক প্রধান বলে থাকেন, এ তার অতিরিক্ত কিছু নয়। ধর্ষণ তবু কমে না। সারা দেশের প্রতিবাদে ধর্ষকদের কিছুই যায় আসে না, তারই প্রমাণ অসমের এই ঘটনা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।