‘অন্তত অন্ত্যেষ্টিতে আসবেন...!‘ এ কী বললেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে?

Lok Sabha Election 2024: খুব বেশিদিন হয়নি, কংগ্রেস সভাপতির পদ পেয়েছেন। তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হয়েছেন তিনি ইন্ডিয়া জোটের তরফে। তবে বয়সের কারণে লোকসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থী করেনি কংগ্রেস।

Sohini Das
৩ মিনিট
‘অন্তত অন্ত্যেষ্টিতে আসবেন...!‘ এ কী বললেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে?

দেশ জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে লোকসভা ভোট। যে ভোটের আগে বিজেপিকে গদি থেকে টলাতে জোট গড়েছিল দেশের সবকটি অবিজেপি দল। তার মধ্যে যেমন ছিল কংগ্রেস, তেমনই ছিল তৃণমূল, সিপিআইএম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের ছোটবড় বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। সেই ইন্ডিয়া জোটের তরফে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করা হয়েছিল কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে। ভোটের আগে ইন্ডিয়া জোট যতটা জোশের সঙ্গে ময়দানে নেমেছিল, কিছুদিন যেতে না যেতেই মতানৈক্য এমন চড়া হয়ে বসে, যে আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে একমত হতে পারেনি প্রায় কোনও দলই। ভোট যত কাছে আসতে থাকে, তত কমতে থাকে ইন্ডিয়া জোটে উদ্যম। আপাতত ইন্ডিয়া জোটকে পশ্চাতে রেখে লোকসভা ভোটের জন্য যে যার দলের জন্য প্রচারেই বেশি ব্যস্ত।

গত নভেম্বরে পাঁচ রাজ্যে যে বিধানসভা ভোট হয়েছিল, তাতে বাকি পাঁচটি রাজ্যে হারলেও কর্ণাটকে ব্যাপক ভোটে জিতেছিল হাতফুল শিবির। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মতো জেতা আসনও হাত ফস্কেছিল কংগ্রেসের। মুখ রেখেছিল শুধু কর্নাটক। লোকসভা ভোটের মুখে সেই কর্নাটকে যে বিশেষ নজর দেবে কংগ্রেস, তাতে আর অবাক কথা কী? এবার কর্ণাটকের কালবুর্গিতে প্রচারে গিয়ে বিশেষ আবেগপ্রবণ দেখালো কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে। এমনকী তুললেন নিজের মৃত্যুর কথাও। বললেন, কেউ ভোট দিক বা না দিক, তাঁরা যেন খাড়্গের শেষকৃত্যে যোগ দেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'৪০০ পার' করতে বিজেপির নিশানা কোন ৬ টি রাজ্য?

Lok Sabha Election 2024: ছয়টি মূল রাজ্যই এখন টার্গেট। এর মধ্যে চারটি — কর্ণাটক, বিহার, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ২০১৯ সালে মোদির জয়ের নেপথ্যে থাকা ১২ টি রাজ্যের অন্যতম।

কেন এ কথা বললেন ৮১ বছরের প্রবীণ এই কংগ্রেসনেতা। খুব বেশিদিন হয়নি, কংগ্রেস সভাপতির পদ পেয়েছেন। তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হয়েছেন তিনি ইন্ডিয়া জোটের তরফে। তবে বয়সের কারণে লোকসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থী করেনি কংগ্রেস। তবে নিজে প্রার্থী না হলেও তাঁর দলের প্রার্থীরা যাতে ভোটতরী পার হতে পারে, তার জন্য প্রায়শই প্রচারে দেখা যাচ্ছে প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতাকে। কোথাও তাস ইন্দিরা-সনিয়ার ত্যাগ, কোথায় স্বাধীনতার সময়কার ইতিহাস তো কোথাও আবেগ, বিভিন্ন জায়গায় প্রচারে গিয়ে বিভিন্ন কৌশল নিতে দেখা যাচ্ছে হাতশিবিরকে। আর কর্ণাটকরে কালবুর্গিতে এসে সেই আবেগ-তাসই খেললেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।

খাড়্গে এদিন কালবুর্গিবাসীর উদ্দেশে বলেন, তারা যদি কংগ্রেসপ্রার্থীকে ভোট দিতে না-ও চান, তাহলেও যেন কংগ্রেসের উন্নয়নমূলক কাজগুলির কথা মনে করেন। এবং তার জন্য তাঁরা যেন প্রবীণ এই নেতার অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় অন্তত যোগ দেন। খাড়্গের দাবি, কংগ্রেস ভোট পাক বা না- পাক, আপনি অন্তত আমাদের ভালো কাজের কথা মনে রেখে শেষকৃত্যে আসবেন। দাহ করলে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দিন, যদি কবর দেওয়া হয়, তাহলে এক মুঠো মাটি ছড়িয়ে দিন। একই সঙ্গে খাড়্গে এ-ও বলেন, তার দল যদি এই কর্নাটকে ভোট না পায়, তাহলে বুঝতে হবে, তাঁর জন্য এই কালবুর্গির মনে কোনও জায়গা নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির ‘মুসলিম’ বনাম ইন্দিরার ‘মঙ্গলসূত্র’: সারা ভারত কাঁপছে যে বিতর্কে

PM's Mangalsutra Remark: প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি জনসভায় গিয়ে বলেন, কংগ্রেসের উদ্দেশ্য মহিলাদের সোনাদানা, মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া।

আদতে কর্ণাটকের ভূমিপুত্র মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বিদর জেলার ভালকি তালুকে তাঁর জন্ম। সেখানেই পড়াশোনা এবং রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। ১৯৭২ সালে কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম লড়াই তাঁর। গুরমিতকাল কেন্দ্র থেকে জিতেও যান খাড়্গে। সেখান থেকে রাজনীতির পথে হাঁটতে হাঁটতে ২০০৫ সালে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হওয়া। তার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি খাড়্গেকে। ২০২২ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি তো বটেই, একটা বড় অংশের পথচলা এই কর্ণাটক থেকেই। ফলে নিজের জায়গা নিয়ে আলাদা একটা আবেগ তো থাকারই কথা।

আর সেই আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ হয়েছে এবার প্রচারে গিয়ে। তার উপর কালবুর্গি থেকে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে খাড়্গের জামাই রাধাকৃষ্ণ দোদ্দামনিকে। তাঁর বিপরীতে বিজেপির প্রার্থী সেখানকার বিধায়ক উমেশ যাদব। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, কর্ণাটক কংগ্রেসের ক্ষমতায় থাকলেও ওই কালবুর্গি এলাকার ক্ষমতা অনেকটাই বিজেপির হাতে। ফলে সেখানে যে রাধাকৃষ্ণের লড়াই বেশ কঠিন হতে চলেছে, তা ভালোই বুঝতে পারছেন দুদে রাজনীতিবিদ খাড়্গে। ফলে প্রমাদ গুনে আগে থেকেই আবেগের তাসটি খেলে রাখলেন সেখানে কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, "বাসিন্দারা যদি কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট না দেন, তাহলে বুঝতে হবে আমার এই মাটিতে কোনও জায়গা নেই। আমিই ব্যর্থ মানুষের মন জিততে।"

একই সঙ্গে বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ জানান, রাজনীতির জন্যই তাঁর জন্ম। এই রাজনীতি বাদ দিয়ে না তিনি কিছু বোঝেন, না কিছু দেখেন। আরএসএস ও বিজেপির আদর্শের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই চলবে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। রাজনীতির ময়দান থেকে তাঁর অবসর সম্ভব নয় বলেও জানিয়ে দেন খাড়্গে। কর্ণাটকের মাটিতে জয় নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেস। অন্তত বিধানসভা ভোটের ফল তো সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। আর সেই মতোই ভোটের আগে গুটিও সাজিয়েছে কংগ্রেস। এবার খাড়্গের এই আবেগ-তাসে সত্যিই মজবে কালবুর্গি না পদ্মেই তাঁদের মজবে মন, তা অবশ্য বোঝা যাবে ভোটের ফলাফল হাতে এলে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মোদী জমানায় যেভাবে বেড়েছে ভাই-বেরাদারি পুঁজিবাদ

25 Years of Modi's Economic Legacy: মোদী জমানায় রাজনৈতিক ক্ষমতা ও কর্পোরেট পুঁজির ঘনিষ্ঠতায় কীভাবে বদলে যাচ্ছে ভারতের অর্থনীতির চরিত্র, বেড়েছে ভাই-বেরাদারি পুঁজিবাদ, একচেটিয়া বাজার ও মুষ্টিমেয় শিল্পগোষ্ঠীর আধিপত্য?

বছরে ৫০ দিনের ছুটি কমে ৪০! বাদ পড়তে পারে কোন কোন উৎসবের ছুটি?

West Bengal Government Holidays: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বছরে ছুটির সংখ্যা প্রায় ৫০ দিন থেকে কমিয়ে ৪০ দিন করার পরিকল্পনা করছে শুভেন্দু সরকার। অর্থসচিবকে নতুন ছুটির তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল আমলে চালু হওয়া শিবরাত্রি, ভাইফোঁটা, ছটপুজো-সহ একাধিক ছুটি কি তবে এবার বাতিল হতে চলেছে?

দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় কতটা লাগাম পড়বে?

US midterms 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দুর্গে বড় ধস নামিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শুল্কনীতি এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত অসন্তোষের জেরে ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান করল ভোটাররা। বদলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?

মিডটার্ম নির্বাচনে কে কত টাকা ঢাললেন?

US midterm elections 2026: আমেরিকার নির্বাচনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যয়। ইলন মাস্ক ও জর্জ সোরোসের মতো ধনকুবেরদের অনুদান, সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি কীভাবে আমেরিকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে?

মানুষ টাকা পেয়ে গেলে ভুলে যাবে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সম্পর্কে বললেন বিজেপি বিধায়ক সজল

Sajal Ghosh interview: ‘ভয় ছাড়া ভক্তি আসে না’— আইন-শৃঙ্খলা, দুর্গাপূজা বিতর্ক এবং তৃণমূলের দলবদল নিয়ে নিজের মতামত জানালেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।

ভারতের রাজনীতি কতটা বদলে দিয়েছেন মোদী?

25 years of Narendra Modi: ২৫ বছরে মোদী কতটা বদলে দিয়েছেন ভারতের রাজনীতি? উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রচারের ধরন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং জাতীয় পরিচয়ের ধারণা—কীভাবে বদলেছে দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র?

ব্রাজিল থেকে আমেরিকা যে কারণে দক্ষিণপন্থীদের শাস্তি দিচ্ছে শান্তিকামী মানুষ

The Alt - right Tide Turns: বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছরের অরবান-শাসনের অবসান, সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী বিজয়, ব্রাজিলে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার জয়, আমেরিকায় মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটদের সংসদের দুই কক্ষ দখল, সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থী জোয়ারে ভাটার সুর। তবে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালিতে দক্ষিণপন্থা এখনও টিকে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও চলছে জেনজিদের, শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষদের বিক্ষোভ।

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?