মোবাইল জ্বেলে প্রসব আজও! যোগীর সব গ্রামে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতির আসল চিত্র এটাই?

UP Electricity Supply: বালিয়ার বেরুয়ারবাড়ি ব্লকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে মোবাইল ফোনের টর্চলাইট দিয়ে সন্তান প্রসব করানোর এই ঘটনা ভারতে নতুন নয়।

inscript
৩ মিনিট
মোবাইল জ্বেলে প্রসব আজও! যোগীর সব গ্রামে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতির আসল চিত্র এটাই?

প্রসব যন্ত্রণা তুঙ্গে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবধিও পৌঁছে গেছেন। অথচ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই। এদিকে, বাড়ছে প্রসব বেদনা। তাই স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে সেই আলোতে প্রসব করালেন গর্ভবতীর। একজন নয়, দু'জন নয়। চার জন প্রসূতির! রাজ্যের নাম উত্তরপ্রদেশ, জেলা বালিয়া। বালিয়ার বেরুয়ারবাড়ি ব্লকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে মোবাইল ফোনের টর্চলাইট দিয়ে সন্তান প্রসব করানোর এই ঘটনা ভারতে নতুন নয়। হামেশাই, নানা রাজ্য থেকেই বেশ কিছু এমন ঘটনা খবরে উঠে আসে। কিন্তু এই রাজ্য খোদ যোগী আদিত্যনাথের। আর আদিত্যনাথ নিজে দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালে যে তাঁর রাজ্যে কক্ষনও বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটে না।

জানা গিয়েছে, ট্রান্সফর্মারের সমস্যার কারণে বালিয়ার ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বালিয়ার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ সঞ্জীব বর্মন বলেছেন ঘটনাটি জানার পরে তিনি বেরুয়ারবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। যখন জানা যায় যে হাসপাতালের ট্রান্সফর্মারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন তা বদলে দেওয়া হয়েছিল এবং জেনারেটরটিও কার্যকরী অবস্থাতেই ছিল। তারপরেও ফোনের টর্চলাইটের আলোয় যে চারটি প্রসবের অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন আসার পরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বেরুয়ারবাড়ির স্থানীয়দের দাবি, জেলা সদর দফতর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে স্থাপিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ট্রান্সফর্মারটি খারাপ ছিল। বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তির ব্যবস্থা থাকলেও তা চালু করা যায়নি। ফলস্বরূপ সন্ধ্যার দিকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেই চিকিৎসক এবং অন্য কর্মীদের কাজ করতে হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিনে এই ধরনের চারটি ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ মে এই পরিস্থিতিতে সন্তান প্রসব করেন রাজপুরের বাসিন্দা নীতু দেবী, আছুহির বাসিন্দা মঞ্জু দেবী, আদারের বাসিন্দা পিঙ্কি দেবী এবং আপয়ালের বাসিন্দা রাজিয়া খাতুন।

অনেক রোগীর পরিচারিকারাই ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের জন্য খাবার বা পানীয়ের মতো সাধারণ সুযোগ-সুবিধা না থাকারও অভিযোগ করেছেন। আশেপাশের ২৬টি গ্রামের ৭০,০০০ এরও বেশি মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরেই নির্ভর করেন। অথচ সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবায় এমন গাফিলতি! তাহলে যোগী যে দাবি করেছিলেন, তা মোটেও সত্য নয়?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লাগাম নেই খোদ যোগী আদিত্যনাথের! কেন বিজেপি নেতারাই ফুঁসছেন পুলিশের বিরুদ্ধে?

Yogi Adityanath: পুলিশের দুর্নীতি নতুন ঘটনা নয়। তবে ভোটার এবং বিজেপি কর্মীরা বলছেন, আদিত্যনাথ সরকারের অধীনে দুর্নীতি বহুগুণ বেড়েছে।

ঠিক এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ২৯ মে বিহারের আরাহ-তে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিংয়ের সমর্থনে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশের ১.২ লক্ষ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং ১.৫৩ কোটি দরিদ্র পরিবারে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এখন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে, বলে দাবি করেছিলেন যোগী।

বাস্তবে দেখা গেছে, উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা এখনও চরম বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। বহু জায়গাতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলে। মনে রাখতে হবে, এই উত্তরপ্রদেশেই আছে চান্দৌলি জেলা, সেখানকার ইটাওয়া গ্রামে স্বাধীনতার ৭৬ বছর পরেও বিদ্যুৎ সংযোগ আসেনি।

28th April 2018 will be remembered as a historic day in the development journey of India. Yesterday, we fulfilled a commitment due to which the lives of several Indians will be transformed forever! I am delighted that every single village of India now has access to electricity.

— Narendra Modi (@narendramodi)

ইটাওয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। রাজধানী লখনউ থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির, মূলত রাজভর সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। তারপরেও, ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি X-এ পোস্ট করেছিলেন যে ভারতের প্রতিটি গ্রামেই বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। ভুয়ো দাবির ক্ষেত্রে তাহলে যাহাই যোগী, তাহাই মোদি?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।