হত্যায় অভিযুক্ত! তাও কীভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডে পালালেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি?

Bangladesh Ex President Abdul Hamid: কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ৮১ বছর বয়সি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং শেখ হাসিনার সঙ্গেই সহ-অভিযুক্ত।

inscript
৩ মিনিট
হত্যায় অভিযুক্ত! তাও কীভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডে পালালেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি?

ভোর তিনটে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে উঠে বসলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ আবদুল হামিদ। পরনে একেবারে সাধারণ পোশাক। দেশ ছেড়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি চলে গেলেন থাইল্যান্ডে। ঘুম ভেঙে উঠে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে পারেন, ততক্ষণে নাগালের বাইরে আবদুল হামিদ। তড়িঘড়ি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ও বদলি করে দিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আবদুল হামিদকে দেশে ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালী সরকার। ২০২৪ সালের শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার জন্য যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদ।

আবদুল হামিদ দুই মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন - ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। ২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অজস্র মামলার মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তিনি সহ-অভিযুক্ত। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, হাসিনা বিরোধী অভ্যুত্থানের বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল আওয়ামী সরকার।

ঢাকা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ৮১ বছর বয়সি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং শেখ হাসিনার সঙ্গেই সহ-অভিযুক্ত। এই মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও সহ-অভিযুক্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোট হলে ক্ষমতায় আসবে কে? যা উঠে এল বাংলাদেশের সমীক্ষায়

Bangladesh Election: নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে গেলে জাতীয় নির্বাচন 'পিছিয়ে যাবে'।

ইউনাইটেড নিউজ অফ বাংলাদেশের খবর অনুযায়ী, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের থাইল্যান্ডে যাওয়ার ঘটনার তদন্তের জন্য শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরারের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কীভাবে ঢাকা বিমানবন্দরে এত লোকজন, এত নিরাপত্তাকে ফাঁকি দিয়ে হামিদ দেশ ছেড়ে চলে গেলেন? প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছে, কিছুজনকে বদলি করেছে। আবদুল হামিদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য তাঁর ভাই এবং শ্যালকের সঙ্গে বিদেশে চলে গেছেন। যদিও রাজনৈতিক বিরোধীদের বক্তব্য, খুনের মামলার বিচার থেকে বাঁচতেই থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন শুরু করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজ আবদুল হামিদকে দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ হান্নান মাসুদ দাবি করেছেন, ক্ষমতাসীনদের, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অনুমতিতেই হামিদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পেরেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে সতর্ক! বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলছেন অমর্ত্য সেন?

Amartya Sen on Bangladesh: আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করার উপরেই জোর দিচ্ছেন অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেনের যুক্তি, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর জায়গায় নেই বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে, আবদুল হামিদ হাসিনার আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন - ছাত্রলীগের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে।

গত ফেব্রুয়ারি জুড়ে বাংলাদেশে চলে বুলডোজার কর্মসূচি। অভিযোগ, মৌলবাদী এবং ইসলামিক উগ্রপন্থীরা বাংলাদেশের বহু বিরোধী নেতার বাড়ি ভেঙে ফেলে। এর মধ্যে আবদুল হামিদের বাড়িও ছিল। ওই বিক্ষোভেই শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি তথা জাদুঘরটিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।

গত সপ্তাহেই মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে। সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে হাসিনার আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে যে আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না আওয়ামী লীগ। তারপরেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির দেশত্যাগ করলেন। হাসিনা এবং আরও বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা আগেই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদের থাইল্যান্ডে চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসনের অন্দরে হাসিনাপন্থীরা আছেন বলেই কি ফাঁকি দিয়ে দেশ থেকে চলে যাওয়া এত সহজ? লুঙ্গি পরে রাতের অন্ধকারে হুইলচেয়ারে বিমানবন্দরে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আসছেন, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ আছে— অথচ তাঁকে কেউ বাধা দিল না বিমানবন্দরে?

“সংবিধানের ৩৪ এবং ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে, আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকলে কোনও বাংলাদেশি নাগরিককে ভ্রমণে বাধা দেওয়া যাবে না। আমরা তাঁকে নিষিদ্ধ করার কোনও নির্দেশ পাইনি। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও মামলায় তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করার কোনও অনুরোধ বা আবেদন করা হয়নি,” বলেছেন ঢাকা বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।