বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি! বাংলাদেশ আবার মৌলবাদীদের হাতেই?

Khaleda Zia Released: ১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট জন্ম খালেদা জিয়ার। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যার পর থেকে।

inscript
৩ মিনিট
বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি! বাংলাদেশ আবার মৌলবাদীদের হাতেই?

বাংলাদেশের এই ছাত্র আন্দোলন কি স্রেফ ছাত্র আন্দোলন রয়ে গেল? শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলেন, দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গড়ার কথাও বলা হলো। তবে, হাসিনা দেশ ছাড়ার পর আন্দোলনের যে রূপ দেখল বাংলাদেশ তাতে এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে ছাত্রদের আন্দোলনকে কি বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করল না? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্তফা দিয়ে দেশত্যাগের সোমবার রাতেই সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন ঘোষণা করে দেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দেওয়া হবে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে এর আগে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। নিজের বাড়িতেই গৃহবন্দি ছিলেন তিনি। এবার পাকাপাকি মুক্তি। বিএনপি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী দল। হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে কি ক্রমেই অপ্রাসঙ্গিক করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত?

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দু’টি পৃথক মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন তিনি। প্রায় দু’বছরের বেশি সময়কালই তিনি জেলে বন্দি ছিলেন। তাঁর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাসিনার সরকারই এক অন্তর্বর্তী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সেই মুক্তির মেয়াদ ছিল ছ’মাস।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অন্তর্বর্তী সরকার গড়ে আপাতত চলবে দেশ, জাতির উদ্দেশে ভাষণে যে বার্তা বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের

Bangladesh Unrest: শেখ হাসিনার  পদত্যাগের পরই সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এই আন্দোলনে প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।

যদিও এরপর থেকে ছ’মাস পরপর মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় হাসিনা সরকার। তবে জেল থেকে মুক্তি পেলেও অসুস্থ খালেদা জিয়া তাঁর গুলশনের বাড়িতেই গৃহবন্দি ছিলেন। যাতায়াতে বিধিনিষেধ ছিল। অসুস্থ হয়ে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খালেদা। ফলে এখন মুক্তি পেলেও, সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা সংশয় রয়েছে।

সোমবার সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর প্রধান এবং বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা এক বৈঠকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় আটক সকলকেই মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাঙা হলো মুজিবের মূর্তিও! হাসিনার ইস্তফার পর ঠিক কী চলছে বাংলাদেশ জুড়ে?

Bangladesh Unrest: ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট মুজিবুরকে সপরিবার খুন করা হয়েছিল নিজেরই বাড়িতে। সেই কুখ্যাত অগাস্টেই হাসিনাকে চলে যেত হলো দেশ ছেড়ে।

বাংলাদেশের দুইবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৮। হাসিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী খালেদার বিরুদ্ধে একটি অনাথাশ্রমের ট্রাস্টের অনুদানের প্রায় আড়াই লক্ষ ডলার আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে। তারপরেই ১৭ বছরের জেল হয় তাঁর। যদিও বিএনপি বলে এসেছে, এই মামলাগুলি সবই ছিল হাসিনার মনগড়া।বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই হাসিনা সরকার পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে।

হাসিনা আর খালেদার রাজনীতিতে আসা উত্তরাধিকারসূত্রেই। হাসিনা পেয়েছেন বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে এবং জিয়া স্বামী জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে। ১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮১ সালে তাঁকেও হত্যা করা হয়। ১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট জন্ম খালেদা জিয়ার। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যার পর থেকে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। জিয়াউর রহমানই ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ নিজেকে মধ্যপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শের দল হিসেবে তুলে ধরতে চায়। বিএনপির বিরুদ্ধে কিন্তু কট্টরপন্থী ও চরমপন্থীদের সমর্থনের অভিযোগ আছে।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পরে মুসলিম-প্রধান একটি দেশটির নেতৃত্বে আসা দ্বিতীয় মহিলা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হিংসার কারণে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের নির্বাচন বিলম্বিত হয়। যার ফলে সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দখল করে। এই সময় খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় খালেদাকে ১৭ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান হিংসা ও অস্থিরতার মধ্যে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে আসেন এবং ঢাকা থেকে চলে আসেন ভারতে। বিক্ষোভকারীরা গণভবন দখল করে নেয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে গণভবনে মুজিবের মূর্তি ভাঙা হচ্ছে, চলছে অবাধ লুঠতরাজ। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই আন্দোলন আর ছাত্রদের নেই। হাসিনার আকস্মিক পদত্যাগের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেন। সেনাবাহিনী জানায়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ছাত্রদের আন্দোলনকে যারা নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহারের দিকে নিয়ে গেলেন, তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রই ফেরাতে চান তো?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।