'সরকার কোটা সংস্কারের পক্ষে', শুনানির দিন এগনোয় কী বলছেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী?

Bangladesh Quota Case Hearing: "আমার মনে হয় আজ থেকে আর আন্দোলন করার কোনো প্রয়োজন নেই," বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

inscript
৩ মিনিট
'সরকার কোটা সংস্কারের পক্ষে', শুনানির দিন এগনোয় কী বলছেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী?

কথা ছিল ৭ অগাস্ট হবে শুনানি। উত্তাল বাংলাদেশে ৭ অগাস্ট অবধি পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তাই অজানা। ছাত্রমৃত্যু আর পুলিশ দমনের মাঝে রক্তাক্ত বাংলাদেশে তাই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের কোটা বিষয়ে শুনানি এগিয়ে আনা হয়েছে রবিবার, ২১ জুলাইয়ে। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে লিভ টু আপিল করা হয়েছিল সেই আবেদনের শুনানির জন্য ২১ এপ্রিল দিনটি ধার্য করে চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এই আদেশ দেন। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, "মামলাটি আদালতে আছে, তাও সর্বোচ্চ আদালতে। যখন আদালতে এ মামলার শুনানি শুরু হবে তখন সরকার এই কোটার ব্যাপারে একটি প্রস্তাব দেবে। আমরা কোটা সংস্কারের পক্ষে।"

দেশে কোটা সংস্কার চেয়ে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ আন্দোলনে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গেছে, প্রাণ গেছে নাবালক পড়ুয়াদের। আইনমন্ত্রী বলছেন, পড়ুয়ারা কোটাবিরোধী আন্দোলনে যে সব দাবিতে শামিল হয়েছেন, তা বিশদভাবে পর্যালোচনা করে দেখেছে সরকার। "যেহেতু সরকার তাদের বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই দাবিগুলোতে রাজি হয়েছে, আমার মনে হয় আজ থেকে আর আন্দোলন করার কোনও প্রয়োজন নেই," বলেছেন আনিসুল হক। আন্দোলন প্রত্যাহার বা স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন সে দেশের মন্ত্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আন্দোলন দমাতে ইন্টারনেট বন্ধ! কী ঘটছে বাংলাদেশে জানবেন না আর কেউই?

Bangladesh Internet Shutdown: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলছেন, জাতীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই কোটা বাতিল করা হয়েছিল। এই কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা হাইকোর্টে যান। এবছরের জুন মাসে আদালত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের পক্ষে রায় দিয়ে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে। তারপরেই শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (নবম থেকে তেরোতম গ্রেড পর্যন্ত) কোটাপদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর পরিপত্র জারি করে বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রক। এই পরিপত্রের বৈধতা নিয়ে আবার লিখিত আবেদন দায়ের করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সাত সন্তান। গত ৫ জুন চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাসিনা সরকারকে না হটানো অবধি নড়বে না পড়ুয়ারা: শহিদুল আলম

Shahidul Alam on Bangladesh Quota Protest: আমি নিজে চোখে দেখেছি, ৪ টি মাত্র ছাত্রকে দমন করতে ৪০০-র বেশি পুলিশ বন্দুক নিয়ে, প্রিজন ভ্যান নিয়ে ঘিরে ধরছে।

হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুই শিক্ষার্থীর আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ১০ জুলাই আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল দায়ের করা পর্যন্ত কোটা বিষয়ে সব পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের রায় সে সময় পর্যন্ত অকার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। তখনই আগামী শুনানির দিন ধার্য হয় ৭ অগাস্ট।

এরপর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এই রায়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা পুনর্বহাল ও অন্যান্য কোটা (জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী, উপজাতি ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোটা) বজায় রাখতেই নির্দেশ দেওয়া হয়। ফের কোটাবিরোধী আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। সরকার এই রায়ে স্থগিতাদেশ চাইলেও চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ না করে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে। শুনানির পর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করে।

রাষ্ট্রপক্ষের এই লিভ টু আপিল করার মধ্যেই হাইকোর্টের রায় স্থগিতাদেশ চেয়ে গত ৯ জুলাই আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। সেই আবেদনে শুনানির পর কোটা পদ্ধতি সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর উপর স্থিতাবস্থা জারি করে সর্বোচ্চ আদালত।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।