লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভ! বেতনবৃদ্ধির পর মাস গেলে কত পাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কেরা?

Salary Hike, Mamata Banerjee: পশ্চিমবাংলার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাজ্যের বিধায়ক, প্রায় প্রতিটি স্তরেই প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে বেতনবৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাতে এ রাজ্যের বিধায়ক-মন্ত্রীদের বেতন গিয়ে দাঁড়াল কম করে হলেও এক লক্ষ টাকার উপরে..

Sohini Das
৩ মিনিট
লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভ! বেতনবৃদ্ধির পর মাস গেলে কত পাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কেরা?

আর্থিক অবস্থা রাজ্যের ভালো নয়। তার জেরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই অঙ্ক খাটল না রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কদের বেলায়। বরং এক ধাক্কায় বেশ অনেকখানি বেতন বৃদ্ধি হল তাঁদের। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তেমন ঘোষণাই করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন একাধিক কর্মসূচি ব্যাগে ভরে বিধানসভার পথে রওনা হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রীতিমতো লড়াই করে বিধানসভায় বাংলা দিবসের অধিকার এদিন ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। তারই সঙ্গে মিলেছে বাংলার নিজস্ব রাজ্য সঙ্গীতও। তবে এখানেই শেষ নয়। বৃহস্পতিবার বিধানসভা থেকেই আরও বড় একটি সিদ্ধান্ত সামনে নিয়ে এলেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়। লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভ হল রাজ্যের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও বিধায়কদের। বিরাট অঙ্কের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করা হল এদিন বিধানসভা থেকে।

পশ্চিমবাংলার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাজ্যের বিধায়ক, প্রায় প্রতিটি স্তরেই প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে বেতনবৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সকলের বেতন বাড়লেও ব্রাত্য রাখলেন নিজেকে। না, মুখ্যমন্ত্রীর বেতনে কোনও রকমফের হচ্ছে না। এদিন বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, নিজের বেতন বাড়াচ্ছি না। বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি মনে করেন, তাঁর রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতনই সবচেয়ে কম। যার জেরেই বছরের মাঝখানে এমন বেতনবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বেতনবৃদ্ধির ঘোষণায় নেতামন্ত্রীদের মধ্যে আনন্দের ঝড়। এক ধাক্কায় ৪০ হাজার টাকা কি মুখের কথা নাকি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১ বৈশাখেই 'বাংলা দিবস' কেন? কোথা থেকেই বা এল রাজ্যসঙ্গীতের ধারণা?

West Bengal Day: কবে পালন করা উচিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস, সেই প্রশ্নে সংখ্যগরিষ্ঠের ভোট ছিল ১ বৈশাখের দিকেই। সেই সিদ্ধান্ত মতোই বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করা হয়।

এতদিন পর্যন্ত রাজ্যের বিধায়কেরা পেতেন মাসে ১০ হাজার টাকা করে। তা একধাক্কায় বেড়ে হল ৫০ হাজার টাকা। বিধায়কদের ভাতা সহ এতদিন যে বেতন ছিল ৮১ হাজার টাকা, তা বেড়ে দাঁড়াল ১,২১,০০০ টাকায়। প্রতিমন্ত্রীদের বেতন ছিল মাসে ১০,৯০০ টাকা, যা বেড়ে হল ৫০,৯০০ টাকার কাছে। ফলে প্রতিমন্ত্রী-ভাতা সহ যেখানে তাঁদের মাসিক বেতন ছিল ১,০৯,৯০০ টাকা, তা বেড়ে দাঁড়াল ১,৪৯,৯০০ টাকায়। এবার আসা যাক, পূর্ণমন্ত্রীদের বেতনে। তাঁদের মাসিক বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা, ভাতা মিলিয়ে যা দাঁড়াত ১, ১০,০০০ টাকায়। আজকের পর তা গিয়ে দাঁড়াবে ১,৫০,০০০ টাকায়। ফলে আনন্দের কারণটা যে ভিত্তিহীন নয়, তা পরিষ্কার।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্য়বধান প্রতিদিন বাড়ছে। সেই ঘাটতি মেটানোর কোনও চেষ্টা রাজ্য সরকারের তরফে দেখা যায়নি। মামলা, মোকদ্দমা করে হকের টাকা পাননি সরকারি কর্মীরা। সেই প্রশ্ন উঠলেই গলা শুকোন রাজ্য সরকার। কথায় কথায় টেনে আনেন বাম জমানার দেনার কথা। আর্থিক সংকট থেকে কেন্দ্র সরকারের অসহযোগিতার একগাদা অভিযোগ ফুটে ওঠে মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের শাসকদলের গলায়। অথচ বিধায়ক মন্ত্রীদের 'সামান্য' বেতনকে অসামান্য করে তোলার সময় সেই আর্থিক অনটনের ছায়াটুকুও দেখা গেল না মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের পকেট ফুলছে, বাংলার বেহাল দশা! কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ-র এত কেন ফারাক?

Central State DA Difference : শুধু পশ্চিমবঙ্গেই কি এই সমস্যা? নাকি অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন?

যদিও নিজের বেতনে কোনও বদল আনার একেবারে বিপক্ষে মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দিলেন, প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে পেনশন বাবদ এক লক্ষ টাকা করে পান তিনি। তার উপর মুখ্যমন্ত্রীর বেতন রয়েছে। সেই বেতনটুকু অবশ্য নেন না বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। মমতার দাবি, বই বিক্রির স্বত্ত্ব বাবদ যে টাকাটা পান তিনি, তাতেই দিন চলে যায় তাঁর।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বেতনবৃদ্ধির ঘোষণার পরে স্বাভাবিক ভাবেই রেগে আগুন রাজ্যের বঞ্চিত সরকারি কর্মীরা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরবও হয়েছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। যদিও সে ব্যাপারটি নিয়ে আপাতত কিছু বলতে চাইছেন না রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা নেতামন্ত্রীরা। বরং একই ভাবে দোষ ঠেলছেন কেন্দ্রের ঘাড়ে। কেন্দ্রের বঞ্চনার কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। মানুষের ক্ষোভ-দুঃখের কথা একটু পাশে সরিয়ে এমন আনন্দঘন মুহূর্তের মৌতাতটুকু উপভোগ করতে কে না চায় বলুন তো!

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।