নুপুর শর্মা একা নন, যে বিজেপি নেতারা একই কাজ করেছেন অতীতে

বিজেপি এই প্রথমবার যে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করছে, তা কিন্তু নয়। এর আগেও ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিকবার উত্তেজক মন্তব্য করে পরিস্থিতি সরগরম করে তুলেছিলেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

Sourish Das
৭ মিনিট
নুপুর শর্মা একা নন,  যে বিজেপি নেতারা একই কাজ করেছেন অতীতে

ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র নুপুর শর্মা এবং নবীনকুমার জিন্দালের নবী হজরত মহম্মদকে নিয়ে করা মন্তব্যর জেরে বিশ্বের দরবারে বিপাকে পড়েছে ভারত। কাতার, কুয়েত-সহ মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলি ঘোষণা করেছে, তারা ভারতীয় পণ্য সম্পূর্ণরূপে বর্জন করবে। নুপুর শর্মাকে দল থেকে বিতাড়িত করে নিজেদেরকে সেক্যুলার প্রমাণ করতে চেয়েছে খোদ বিজেপি। উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবল বিতর্কের মধ্যে পড়লেও ভারত সরকার বর্তমানে যেন নুপুর শর্মার সঙ্গে কিছুটা দূরত্বই বজায় রাখতে চাইছে। "এটা ওঁর ব্যক্তিগত মত, দলের এর সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই", নুপুর শর্মা প্রসঙ্গে কার্যত এই মন্তব্যই প্রকাশ করছেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতারা।

ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য বিজেপির তরফ থেকে জারি করা হয়েছে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও। সেখানে সরাসরি তারা জানিয়ে দিয়েছে, মুসলিম-বিরোধী মনোভাবকে কঠোরভাবে অসমর্থন করে ভারতীয় জনতা পার্টি। মুসলিম ভাবাবেগে আঘাতের অপবাদ থেকে দলকে দূরে সরাতে নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিজেপি। কিন্তু তবুও অশনি সংকেত যেন কাটছেই না বিজেপির। আল-কায়দার হুমকির বিশেষ কোনও প্রভাব না পড়লেও, উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিরাট বিতর্কের সূত্রপাত করে দিয়েছিল এই একটি মন্তব্য। ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে বিষয়টিকে তার ব্যক্তিগত মতামত বলে উড়িয়ে দেওয়া হলেও সত্যিই কি শাসক দলের মুখপাত্রের মন্তব্যকে এভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায়?

যদিও বিজেপি এই প্রথমবার যে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করছে, তা কিন্তু নয়। এর আগেও ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিকবার উত্তেজক মন্তব্য করে পরিস্থিতি সরগরম করে তুলেছিলেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এই তালিকায় শুধুমাত্র যে ছোটখাটো নেতাদের নাম আছে, তাও নয়, তালিকায় রয়েছেন খোদ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির 'হিন্দু হৃদয়ের সম্রাট' যোগী আদিত্যনাথও।

১. যোগী আদিত্যনাথ

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দুই দফার আগে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ক্ষেত্র কুশিনগরে একটি সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন যোগী। সেই সভা থেকেই ইসলাম-বিরোধী মন্তব্যে উত্তরপ্রদেশের জনতাকে সরগরম করে তুলেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেই সভায় তাঁর বক্তব্য ছিল, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কোনওরকম তুষ্টিকরণের রাজনীতির জায়গা নেই। ২০১৭ সালের আগে কি সকলে ঠিকঠাকভাবে রেশন পেতেন? আগে শুধুমাত্র তারাই ভারতের সমস্ত রেশন খেয়ে নিত, যারা 'আব্বাজান' বলে। আগে এই সমস্ত আব্বাজানের দল রেশন খেয়ে যেত বলে ভারতের রেশন পৌঁছে যেত নেপাল এবং বাংলাদেশে। আর এখন কেউ এই রেশন খেয়ে দেখুক, তার অন্তিম পরিণতি হবে সরাসরি জেলে।"

শুধু তাই নয় এই বক্তৃতা-সভা থেকে মুসলিমদের অপরাধী, খুনি, মাফিয়া এবং দাঙ্গাকারী বলেও আক্রমণ করেছিলেন যোগী। তার পাশাপাশি, মুসলিমদের সরাসরি তালিবান বলেও আক্রমণ করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের ভাষা ছিল, "ভারতের তালিবানিকরণ আমরা কখনওই সমর্থন করব না। ভারতে তালিবানি শাসন চলুক, এটা আমরা কখনওই হতে দেব না। যে উত্তরপ্রদেশের মাটিতে তালিবানি শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে, তাকে দমন করার কাজ উত্তরপ্রদেশ সরকার করে নেবে।" এছাড়াও তাঁর বিখ্যাত বুলডোজার পলিটিক্স, ডগ হুইসেল পলিটিক্স, 'দাঙ্গাকারী'-দের বিরোধিতার রাজনীতি তো প্রায় কয়েক যুগ ধরেই প্ল্যান অফ অ্যাকশনের মধ্যে আছেই।

২. দীনেশ কুশ্বাহা

দীনেশ কুশ্বাহার এই মুসলিমবিরোধিতা যদিও অত্যন্তই বিতর্কিত। তিনি একজন হিন্দু বৃদ্ধকে মুসলিম ভেবে তাঁকে হত্যা করে হঠাৎ করেই চলে আসেন খবরের শিরোনামে। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১-এর মে মাসে। মধ্যপ্রদেশের নিমাচ গ্রামে ৬৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ একটি বিয়েবাড়ি থেকে একদিন রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটনাক্রমে, সেই ব্যক্তির নাম ছিল ভওয়ারলাল জৈন। তাঁর স্মৃতি শক্তির একটু সমস্যা ছিল। তিনদিন পরে একটি পরিত্যক্ত এলাকায় এই বৃদ্ধের মৃতদেহ পাওয়া যায়। তখনই বিজেপি কর্মী দীনেশ কুশ্বাহার সেই ভিডিও হয়ে ওঠে ভাইরাল। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম ভেবে একজন হিন্দু বৃদ্ধকেই বেধড়ক মারধর করেছেন দীনেশ। সেই বৃদ্ধই ছিলেন এই ভওয়ারলাল জৈন।

এই ভাইরাল ভিডিওতে বিজেপি কর্মীকে বলতে শোনা যায়, "তোর নাম কি? 'মহম্মদ'। নাম তো তোর?.... আধার কার্ড কোথায়?... আধার কার্ড দেখা..." এক মিনিটের এই ভিডিওতেই দেখা যায়, যখন ওই বৃদ্ধ নিজের পরিচয় ঠিক করে দিতে পারছেন না, তখনই তাঁকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করেন দীনেশ। তিনদিন পরে ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার হয় স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত এলাকা থেকে। মধ্যপ্রদেশের নিমাচ জেলার বিজেপি সভাপতি পরবর্তীকালে নিশ্চিত করেন, দীনেশ একজন বিজেপি কর্মী। তাঁর স্ত্রী নিজেও একজন প্রাক্তন বিজেপির অপারেটর। এই ঘটনার জেরে সারা ভারতেই বিতর্কের সম্মুখীন হতে হয় ভারতীয় জনতা পার্টিকে। মুখ পোড়ে ভারতের শাসক দলের।

৩. হরিভূষণ ঠাকুর বাচৌল

একমাস আগেই বিহারের বিজেপি বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর বাচৌল একটি প্রকাশ্য জনসভায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বলেন, হিন্দুরা যেরকম ভাবে দশেরার দিন রাবণ দহন করে, সেরকমই একই সঙ্গে মুসলিমদেরও দহন করে দেওয়া উচিত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাধারণ ছাত্রনেত্রী থেকে বিজেপির শীর্ষে কীভাবে উত্থান হয়েছিল বিতর্কিত নুপুর শর্মার?

কলেজবেলা থেকেই তরতরিয়ে এগোচ্ছিল তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার গ্রাফ। একটা বিতর্ক ঘাড় ধরে অনেকটা নামিয়ে দিল নুপুরকে।

যদিও এই প্রথম নয়, ২০২২-এর ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বিজেপি বিধায়ক মুসলিমদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে বলেছিলেন ভারতে মুসলিমদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষে পরিণত করা উচিত।

৪. অশ্বিনী উপাধ্যায়

২০২১ সালের ১০ আগস্ট, বিজেপি নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় তাঁর মুসলিম-বিরোধী স্লোগান এবং হরিদ্বারের ধর্ম সংসদে অত্যন্ত অপমানজনক কিছু মন্তব্যর জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দিল্লির যন্তরমন্তরে একটি মিছিল চলাকালীন সময়ে ওই বিজেপি নেতা মুসলিম-বিরোধী স্লোগান দিয়ে খবরের শিরোনামে আসেন। তিনি ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দিয়েছিলেন, ভারতের প্রত্যেক মুসলিমকে যেন হত্যা করা হয়। যদিও পরবর্তীতে উপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

২০২১ সালের নভেম্বর মাসে, তিনিই 'থুক জিহাদ' নামের একটি বিশেষ বিরোধী মঞ্চের প্রবক্তা হয়ে উঠেছিলেন। সেই সময় তিনি একথাও বলেছিলেন, ভারতের মুসলমানরা নাকি তাদের খাবারের মধ্যে দেহনির্গত কিছু বিশেষ তরল মেশায়। এই সমস্ত ঘটনার ঠিক একমাস পরে ২০২১-এর ডিসেম্বর মাসে হয়েছিল হরিদ্বারের সেই বিশেষ ধর্ম সংসদ, যেখানে ভারতীয় মুসলিমদের গণহত্যার স্লোগান উঠেছিল। আর ওই ধর্ম সংসদেই উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, মায়ানমারে যেভাবে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হয়েছিল, সেভাবেই যেন ভারতীয় মুসলিমদের হত্যা করা হয়।

এই ধর্ম সংসদে পূজা শগুন পান্ডে বলেছিলেন, "আমাদের ১০০ জন হিন্দুও ওদের ২০ লাখ মানুষকে হত্যা করতে পারে। তাই হিন্দুত্বকে বাঁচাতে, যা করতে হয় আমরা সেটাই করব।"

৫. উদিতা ত্যাগী

বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী উদিতা ত্যাগী ওই একই ধর্ম সংসদে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যেখানে মুসলিম গণহত্যার হুংকার দিয়েছিলেন হিন্দু ধর্মপ্রচারকরা। যদিও উদিতাকে আগেও এরকম কিছু সভায় উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। একটি সর্বভারতীয় মিডিয়ার 'ডু পলিটিক্স' নামের একটি অনুষ্ঠানে উদিতা উপস্থিত থেকে ইয়াতি নরসিংহানন্দের সমস্ত বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

ওই বক্তব্যে শুধু ভারতীয় মুসলিমদের গণহত্যা নয়, হিন্দু সুরক্ষায় ভারতীয় মুসলিমের যতরকম ক্ষতি করা যায়, তাই করার হুমকি দিয়েছিলেন নরসিংহানন্দ। এমনকী, মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিন্দুদের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বিতর্কের জন্য নরসিংহানন্দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও উদিতাকে তেমন কোনও বিতর্কের সম্মুখীন হতে হয়নি।

৬. ময়ঙ্কেশ্বর সিং

পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর এলাকার বিজেপি বিধায়ক ময়ঙ্কেশ্বর সিংয়ের বিরুদ্ধে মুসলিমদের আক্রমণ করার এবং তাদের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। একটি প্রকাশ্য জনসভায় তাকে বলতে শোনা যায়, "যদি হিন্দুরা জেগে ওঠে, তাহলে তোমাদের দাড়ি ছিঁড়ে আমরা টিকি বানাব।" এছাড়াও, একই সভায় তিনি বলেছিলেন, "যদি তোমাদের ভারতে থাকতে হয়, তাহলে তোমাদের 'রাধে রাধে' বলতেই হবে। না হলে পাকিস্তান চলে যাও... এখানে তোমাদের কোনও কাজ নেই।"

৭. বজরং দলের 'অস্ত্রের ট্রেনিং ক্যাম্প'-এ ৩ বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি

৫ মে কর্নাটকে কোডাগো জেলার বজরং দলের ট্রেনিং ক্যাম্পের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে দেখা যাচ্ছিল, নাবালক এবং যুবদের হাতে অস্ত্র, ত্রিশূল এবং অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিচ্ছেন তিনজন বিজেপি নেতা। এঁদের মধ্যে ছিলেন কেজি বোপিয়া, আপ্পাচুরাঞ্জন, এবং সুজা কুশালাপ্পা। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া এই বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। যদিও পরবর্তীতে, এই মামলা যে পুলিশ অফিসারের কাছে পড়েছিল, তাঁকে কর্নাটকের লোকায়ুক্তে বদলি করে দেওয়া হয়। কর্নাটক লোকায়ুক্ত সেই রাজ্যের অন্যতম কুখ্যাত একটি পুলিশ সার্কল বলে পরিচিত।

৮. রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং

উত্তরপ্রদেশের দুমারিয়াগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং প্রথম থেকেই একজন কট্টরপন্থী মুসলিম-বিরোধী নেতা হিসেবেই পরিচিত। উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন তাঁর একটি বিশেষ ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তিনি ওই এলাকার হিন্দুদের আক্রমণ করে বলেছিলেন, "যে হিন্দুরা আমাকে ভোট দেবে না, তাদের দেহে মিঞার রক্ত বইছে। সে একজন ভণ্ড হিন্দু। আমি আপনাদের আবার বুঝিয়ে দিচ্ছি। হিন্দু ধর্মের যারা ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।"

৯. টি রাজা সিং

তেলেঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিংয়ের মুসলিম-বিরোধী মন্তব্য একটা সময় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। তাঁর একটি বক্তৃতায় টি রাজা সিং হুংকার দিয়েছিলেন, "হাজারেরও বেশি বুলডোজার উত্তরপ্রদেশে আমদানি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সমস্ত বুলডোজার আসছে। ভোটের পরে, যারা যারা যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, তাদের সকলকে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের এলাকা চিহ্নিত করা হবে। তারপরে কাজে লাগানো হবে আমাদের জেসিবি এবং বুলডোজারগুলিকে।"

১০. নন্দকিশোর গুর্জর

জানুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর একটি প্রকাশ্য জনসভায় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা তাঁকে খবরের শিরোনামে নিয়ে আসে। ভোট প্রচারের সময় সর্বসমক্ষে মুসলমানদের আক্রমণ করে গুর্জর বলেন, "ভারতে না চলবে কোনও আলি, না কোনও বাহুবলী, শুধুই চলবে বজরংবলী।" এই মন্তব্যের জন্য উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে একটি নোটিস পর্যন্ত পাঠায় নির্বাচন কমিশন।

এখানে 'আলি' বলতে তিনি বুঝিয়েছেন মহম্মদ আলি জিন্নাহকে, যাঁর ভূমিকার জন্য ১৯৪৭-'৪৮ সালে দেশভাগের সময় অনেক হিন্দু মারা গিয়েছেন এবং অনেক হিন্দু নারী ধর্ষিতা হয়েছেন বলে তাঁর দাবি। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের লোনি এলাকায় মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়া এবং রামরাজ্যর সমর্থনে মিছিলও করেছেন গুর্জর। তবে, ২০২০ সালে গুর্জর যে মন্তব্য করেছিলেন, তার জন্য তিনি এখনও সোশ্যাল মিডিয়াতে আক্রমণের লক্ষ্য হন। বকরি ইদের দিন গুর্জর মুসলিমদের আক্রমণ করে বলেছিলেন, "কোনও প্রাণীকে উৎসর্গ না করে, নিজের সন্তানকে ইদে উৎসর্গ করুন।" এই মন্তব্যের জন্য সেই সময় ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন বিজেপির বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর।

তবে তালিকা যে এখানেই শেষ, এটা মনে করার কোনও কারণ নেই। ভারতের বিজেপি নেতারা নানা সময় নানাভাবে ভারতীয় মুসলিমদের আক্রমণ করে মন্তব্য করেছেন। বিজেপির তরফ থেকেও এই সমস্ত মন্তব্যকে খানিক সমর্থন জানানো হয়েছে। ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ঠাকুরের মন্তব্য থেকে শুরু করে অন্যান্য বিজেপি নেতাদের ঘৃণাসূচক মন্তব্য, ডগ হুইসেল পলিটিক্স, সবকিছুই মূলত মুসলিমদের বিরুদ্ধে। এমনকী, সুপ্রিম কোর্ট যেখানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে, ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটা কালো অধ্যায় বলে চিহ্নিত করেছে, সেখানে এই মসজিদ ধ্বংস নিয়েও গর্বিত হন ভারতের অনেক বিজেপি সমর্থক।

আর সেখান থেকেই উদয় হয় নুপুর শর্মার মতো প্রো-হিন্দু বিজেপি নেত্রীর। নবী-র বিরুদ্ধে তাঁর মন্তব্য উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিতর্কের সম্মুখীন হলেও বিজেপি শুধুমাত্র এটিকে ছোট্ট মন্তব্য বলেই ক্ষান্ত। আর সেখান থেকেই প্রশ্ন ওঠে, এই 'ছোট্ট' মন্তব‍্য কি শুধু তাঁর মাথা থেকেই এসেছে, না কি এরকম মন্তব্য করার জন্যই ওই অনুষ্ঠানে নুপুরকে পাঠিয়েছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব?

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।