বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্ব! কীভাবে নেতৃত্ব খুঁজবে বিজেপি?

BJP-RSS conflict: কিন্তু প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা এখন দলের সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নানা রকম দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছে। এতে সভাপতি নির্বাচনেও দেরি হচ্ছে।

inscript
৩ মিনিট
বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্ব! কীভাবে নেতৃত্ব খুঁজবে বিজেপি?

কে হবেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি? ইতিমধ্যেই এই প্রশ্ন নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচন হয়নি। মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও পদে রয়েছেন জেপি নাড্ডা। শোনা যাচ্ছিল, শীঘ্রই বিজেপির নতুন সভাপতি বাছাই করা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাচ্ছিল না কোনো ভাবেই। বিজেপির উচ্চপদস্থ নেতারাও এই বিষয়ে নীরবতা বজার রাখছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এবং আরএসএস-এর মধ্যে দ্বন্দ্বও চলছে মুখবাছাই নিয়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে নেতৃত্ব খুঁজবে বিজেপি? শীর্ষ পদাধিকারের যুদ্ধে কাদের এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা?

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির মাসের মধ্যেই বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। শেষ সময়সীমা ছিল সংসদের বাদল অধিবেশন। সেখানেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। বিজেপির নিয়ম, এক ব্যক্তি, এক পদ। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি একের বেশি পদে থাকতে পারবেন না। কিন্তু গত বছর লোকসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা হয় জেপি নাড্ডাকে, তারপরও আজ অবধি সেই জায়গায় নতুন করে সর্বভারতীয় সভাপতি নিয়োগই করা হয়নি। এক বছর ধরে তিনি দুই পদই সামলাচ্ছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাচ্ছে বিজেপি আরএসএস কোন্দলে। কেন এই নিয়ে বিবাদ?

১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠার সময় আরএসএস তিনটি শর্ত দিয়েছিল—

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ আরএসএস প্রশস্তির জন্য বেছে নিলেন মোদি?

Modi's Independence Day Speech: বিজেপি তাদের নিজস্ব বিধিনিষেধ পালন করা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, সঙ্ঘকেও হাতে রাখা জরুরি কারণ সঙ্ঘের সিদ্ধান্ত বিজেপিতে অনেকটাই গুরুত্ব পায়।

১) আরএসএস-এর সদর দফতর নাগপুরে। সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরএসএস-এর নাগপুরের উচ্চপদস্থ সদস্যদের পরামর্শ ও সম্মতি বাধ্যতামূলক,

২) বিজেপি নেতারা আরএসএস-এর আদর্শ মানবেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে,

৩) সাধারণ সম্পাদকের পদে সব সময় আরএসএস-এর নাগপুরের উচ্চপদস্থ সদস্য থাকবে

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মণিপুরের দুর্দশার জন্য দায়ি মোদিই? যা বলছেন আরএসএসের মোহন ভাগবত...

Mohan Bhagwat on Manipur: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান বলছেন, একজন সত্যিকারের 'সেবক' অহংকার করেন না, অন্যকে আঘাত করেন না।

যেমন, বেশ কিছু বছর সুন্দর সিং ভাণ্ডারী এই পদে ছিলেন। অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সে সময়ে বিজেপির সভাপতি সব সময় আরএসএস-এর সিদ্ধান্তেই নির্বাচিত হত। শুধু তাই নয়, “চিন্তন বৈঠক” বলে একটি আলোচনাসভারও আয়োজন করা হত। কিন্তু, সেই নিয়মে ছেদ পড়েছে গত এক দশকে। প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আরএসএস-এর মনঃপুত হয়নি। এবং সেই দরকষাকষি এখনও অব্যহত।

বিজেপির অন্দরের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চান এমন কেউ সভাপতির পদে আসুক, যিনি সর্বদাই মোদি-শাহের নির্দেশ পালন করবেন। অন্যদিকে, আরএসএস চায় নাগপুর থেকে একজন বিশ্বাসযোগ্য কেউ সভাপতির পদে বসুক, যিনি পুরো পরিবারকে এক সঙ্গে বেঁধে রাখবেন। শুধু মাত্র একজন দলীয় কর্মীকে ওই পদে বসাতে চাইছে না আরএসএস, চাইছে আরএসএস অনুগামী কোনো মুখ।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আরএসএস নেতা বলছেন, ২০১৩ সালে মোদি আরএসএস-কে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁর দল প্রতি পদক্ষেপেই আরএসএস-এর অনুমতি ক্রমে এগোবে। কিন্তু একটা সময় পর দেখা যায় মোদি নিজেই নিজেকে ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ হিসেবে উত্থাপিত করতে চাইছেন, অর্থাৎ আরএসএস এর চেয়েও বড় হয়ে উঠছেন তিনি। এর পর থেকেই আরএসএস-এর উদ্বেগ জন্মায়। মোহন ভাগবত মোদির এই একমেবদ্বিতীয়ম রূপ মেনে নিতে চান না।

বিজেপি সভাপতি হিসেবে মোদি-শাহ যাঁদের নাম সামনে এনেছেন তাঁরা হলেন- বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, সঞ্জয় জোশী, দেবেন্দ্র ফডণবীস, শিবরাজ সিং চৌহান, ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভূপেন্দ্র যাদব, নির্মলা সীতারামন, এস.ডি. শর্মা, সুনীল বান্সল, রামন সিং, বিনোদ তাভঁডে, ডি. পুরান্ডেশ্বরী, ভানতী শ্রীনিবাসন। আরএসএস এখনও কোনো নাম প্রকাশ করেনি।

দলের নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত অর্ধেক নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচন হয়ে গেলে, তবে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতির ক্ষেত্রে সাধারণত একজনই মনোনয়ন জমা দেন এবং তিনিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিজেপি ১৪টি রাজ্যের নতুন সভাপতি ও ৩৭ জন রাজ্য ইউনিটের সদস্য বাছাই করেছে। এ ক্ষেত্রে ১৯টি রাজ্যের সভাপতি নির্বাচন হওয়াও জরুরি। কিন্তু তার থেকেও বড় প্রশ্ন, প্রধান মুখ কে, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।