The Kandahar Hijack: নেটফ্লিক্সকে তলব কেন্দ্রের! কেন এই ওয়েব সিরিজ ঘিরে চরম বিতর্ক?

IC 814 The Kandahar Hijack Web Series: "মানুষজন মনে করবে, হিন্দুরাই আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করেছে" সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য।

inscript
৩ মিনিট
The Kandahar Hijack: নেটফ্লিক্সকে তলব কেন্দ্রের! কেন এই ওয়েব সিরিজ ঘিরে চরম বিতর্ক?

নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে একটি ওয়েবসিরিজ। 'আইসি ৮১৪: দ্য কান্দাহার হাইজ্যাক'। বিখ্যাত অভিনেতারা এই IC 814 The Kandahar Hijack সিরিজে অভিনয় করেছেন। বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিষয়টিকে বিতর্কিত করে তুলেছে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। কেন্দ্রের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট বিভাগের প্রধান মনিকা শেরগিলকে তলব করেছে। সরকার জানিয়েছে, "এই দেশের মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলা করার অধিকার কারও নেই। ভারতের সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে সবসময় সম্মান করা উচিত। ভুলভাবে কিছু দেখানোর আগে আপনাদের চিন্তা করা উচিত। সরকার এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছে।"

কান্দাহার হাইজ্যাকের ঘটনাটি অনেক মানুষেরই মনে আছে এখনও। পাকিস্তানের এক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হরকাত-উল-মুজাহিদিন ১৯৯৯ সালে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকে হাইজ্যাক করে। নেটফ্লিক্সের এই ওয়েব সিরিজটি সেই ঘটনাটি নিয়েই। বিতর্ক বাধল কোথায়? সোশ্যাল মিডিয়াতে একাংশের নেটিজেনরা বলছেন, এই ওয়েব সিরিজের নির্মাতারা নাকি ইচ্ছাকৃতভাবেই বিমান হাইজ্যাককারীদের নাম পরিবর্তন করে 'ভোলা' এবং 'শঙ্কর' করেছে। অভিজ্ঞতা সিনহা এবং ত্রিশান্ত শ্রীবাস্তবের তৈরি এই সিরিজটি 'ফ্লাইট ইনটু ফিয়ার: দ্য ক্যাপ্টেন'স স্টোরি' বইটি থেকে অনুপ্রাণিত। কান্দাহারের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন দেবী শরণ এবং সাংবাদিক ছিলেন শ্রীঞ্জয় চৌধুরী। এই সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ, বিজয় ভার্মা এবং পঙ্কজ কাপুর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অনুরাগ 'ঘটিয়া' না বললে যেন জানাই হত না

Bengali Cinema: অনুরাগ কাশ্যপ বলেছেন, বাংলা ছবি 'ঘটিয়া'। কিন্তু তা নিয়ে আমাদের এত মাথাব্যথা কেন? সমস্যাটা কি তবে অনুরাগই প্রথম দেখিয়ে দিলেন?

১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৮১৪ হাইজ্যাক করা হয়েছিল। ওই বিমানটি ১৯১ জন যাত্রী নিয়ে, নেপালের কাঠমান্ডু থেকে ভারতের দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। ওই বিমানেই যাত্রীদের ছদ্মবেশে ছিলেন পাঁচজন ছিনতাইকারী। বিমানটি রওনা হওয়ার পরপরই এই দুষ্কৃতীরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বিমানটিকে সন্ত্রাসবাদীরা আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়ার আগে অমৃতসর, লাহোর এবং দুবাইতে অবতরণ করায়।

এই সন্ত্রাসবাদীরা জানায় তিনজন সন্ত্রাসবাদীকে মুক্তি দিলে বিমানের যাত্রীরা মুক্তি পাবেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ভারতীয় জেলে বন্দি তিন সন্ত্রাসবাদী - মাসুদ আজহার, আহমেদ ওমর সাইদ শেখ এবং মুশতাক আহমেদ জারগারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। তালিবানরা এই বিমান ছিনতাইকারী এবং মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদীদের পাকিস্তানে পৌঁছতে সাহায্য করেছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অ্যানিমেল : বন্দুক ও পুরুষাঙ্গের জান্তব আস্ফালন

Animal Movie : রণবিজয়ের ক্রোধ অ্যাংরি ইয়ং ম্যান অর্থাৎ বচ্চন পার্সোনার উত্তরসূরি নয়। বচ্চন পার্সোনার রাগের উৎস ছিল সামাজিক, অনেকক্ষেত্রে ওয়ার্কিং ক্লাস পরিসরে।

২০০০ সালের ৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, বিমান ছিনতাইকারীদের নাম ছিল ইব্রাহিম আতহার, শহিদ আখতার সাঈদ, সানি আহমেদ কাজী, মিস্ত্রি জহুর ইব্রাহিম এবং শাকির। ওই হাইজ্যাক হওয়া বিমানের যাত্রীদের কাছে এই পাঁচ সন্ত্রাসবাদী নিজেদের পরিচিত করে চিফ, ডাক্তার, বার্গার, ভোলা এবং শঙ্কর নামে। সন্ত্রাসবাদীরা এই নামেই নিজেদের সম্বোধন করত। বহু সাংবাদিকই ১৯৯৯ সালের এই কান্দাহার হাইজ্যাকের ঘটনাটি নিয়ে লেখালিখি করেন। নেটফ্লিক্সের এই সিরিজের নাম বিতর্ক নিয়ে তারাও বলেছেন, সেই সময় ওই বিমানের যাত্রীরাই সাংবাদিকদের জানান ছিনতাইকারীরা একে অপরকে সম্বোধন করার জন্য এই নামগুলিই ব্যবহার করেছিল।

অথচ নেটফ্লিক্সে নতুনেই ওয়েবসিরিজটি মুক্তি পাওয়ার পরেই নেটিজেনদের একাংশ সন্ত্রাসবাদীদের নাম 'ভোলা' এবং 'শঙ্কর' বলার জন্য নির্মাতাদের সমালোচনা করেছে। এই সমালোচকদের মধ্যেই রয়েছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। "আইসি-৮১৪-এর হাইজ্যাকাররা ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী ছিল। তারা নিজেদের মুসলিম পরিচয় গোপন করার জন্যই ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিল। চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুভব সিনহা, তাদের অমুসলিম নামগুলিকেই সামনে এনে তাদের অপরাধমূলক উদ্দেশ্যকেই বৈধতা দিয়েছেন। এর ফল কী? মানুষজন মনে করবে, হিন্দুরাই আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করেছে" সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের, মুসলমানদের সমস্ত অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই এই প্রয়াস। ৭০-এর দশক থেকে কমিউনিস্টরা নাকি এই পথটিই ব্যবহার করে আসছে।

যেখানে খোদ বিমানের যাত্রীরা এই নামগুলি জানিয়েছেন, যেখানে বাস্তবেই ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা সেখানে কোনওভাবেই তো ভোলা আর শঙ্কর নাম দু'টি নির্মাতারা মন থেকে গড়ে নেননি! তাহলে যেখানে কোনও তথ্যবিকৃতিই ঘটেনি সেখানে কীসের ভিত্তিতে বিজেপি এই অভিযোগ করছে? কান্দাহার হাইজ্যাককে বৈধ বা ভালো ঘটনা প্রমাণ করতে গেলে তো এই নিয়ে সিরিজ তৈরি করাই হতো অন্যভাবে। যেখানে বাস্তবের একটি ঘটনাকেই পর্দায় তুলে আনা হচ্ছে সেখানে খুব স্বাভাবিকভাবেই সেই সময়ের সাংবাদিকদের বয়ান বা এই বিষয়ক বইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। কোনও তথ্যবিকৃতি না থাকা সত্ত্বেও বিজেপি সিঁদুরে মেঘ দেখছে কেন?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।