বাইকে ফুচকা বেচেন বিটেক পানিপুরি ওয়ালি! উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন কি ফুরোচ্ছে তবে?

BTech Pani puri Wali: সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে, বিনিয়োগ করে ফুচকাবিক্রেতা বা চা বিক্রেতা হতে দেখতে চান না কোনও বাবা মা-ই।

inscript
৩ মিনিট
বাইকে ফুচকা বেচেন বিটেক পানিপুরি ওয়ালি! উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন কি ফুরোচ্ছে তবে?

যারা সেভাবে পড়াশোনা করেননি, করার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য সমাজে ধার্য রয়েছে নির্দিষ্ট কর্মবিভাজন। বর্ণাশ্রমের ধারণা থেকে কোনওকালেই ভারতবর্ষ মুক্ত হয়নি। তাই এখনও বেশ কিছু এমন কর্মক্ষেত্র রয়েছে যেখানে প্রথাগত 'শিক্ষিত' যুবসম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নেই। পড়াশোনা করে টাকা রোজগারই শুধু উদ্দেশ্য নয়, টাকা রোজগারের পাশাপাশি কাজের ধরন, পদ ইত্যাদি সামাজিক অবস্থানের নির্ণায়ক বলেই এখনও বিশেষ বিশেষ কাজে বিভাজন স্পষ্ট। পড়াশোনা না করলে কী কী হতে পারে এই বলে বকাবকি করার সময় সন্তানকে অনেকে সেইসব কাজের উদাহরণ দিতে থাকেন। তবে কয়েক বছরে ভারতীয় চাকরির বাজার এই বিভাজনকে লঘু করছে। বড় কোনও সংস্থাতে স্থায়ী নিশ্চিত মাইনের চাকরির বদলে পড়াশোনার উঁচু ডিগ্রি অর্জন করা অনেক মানুষই নিজস্ব নিজস্ব পরিসরে কর্মসংস্থান খুঁজে নিচ্ছেন। উচ্চশিক্ষিত হয়ে চায়ের দোকান দিচ্ছেন, পাইস হোটেল খুলছেন, এই উদাহরণ আর বিরল নয়। এই তালিকাতেই জুড়ে গিয়েছেন তাপসী। তাপসী উপাধ্যায় ২১ বছরের ঝকঝকে স্মার্ট তরুণী। বিটেক করেছেন। তারপর? দিল্লির তিলক নগর মেট্রো স্টেশনের কাছে এখন ফুচকার দোকান খুলেছেন তাপসী৷

তবে যেমন তেমন স্টল তো নয়। 'শিক্ষিত' ও সৃজনশীল মানুষরা এই জাতীয় ফুচকা বা চায়ের স্টলগুলিকেও নানাভাবে পৃথক করে তুলছেন। সে নামেই হোক বা নকশায়। কাজের বিভাজন ঘুচে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু নিজেকে 'স্বতন্ত্র', অন্যদের থেকে ভিন্নভাবে প্যাকেজিং করার তাগিদও বাড়ছে। কারণ এই আনকোরা সম্প্রদায়ের মধ্যেও অজ্ঞাতসারে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। ফলে কলকাতার এম এ করা যুবতীর চায়ের দোকানকে এগিয়ে থাকতেই হবে বেঙ্গালুরুর গ্রাজুয়েট ধোসাওয়ালার থেকে। বিটেক করা ফুচকা বিক্রেতার সঙ্গে অজান্তেই প্রতিযোগিতায় জুড়ে যাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা স্যান্ডুইচ বিক্রেতা। তাপসী উপাধ্যায়ও স্বতন্ত্র।

রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট মোটরসাইকেল চালান তাপসী। ওই বাইকটিই তাঁর ফুচকার স্টল। নিজেকে ‘BTech পানিপুরি ওয়ালি’ বলে পরিচয় দেন তাপসী। স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, এত পড়াশোনা করে শেষে ফুচকা বিক্রি করছেন কেন? শুধু বর্ণাশ্রম দেখলে তো হবে না, রয়েছে কর্মের লিঙ্গভেদও। ফুচকা বেচা তো 'মহিলা সুলভ' কাজ নয়, তাহলে তাপসী এই পেশায় কেন? কারও কথাতেই কান দেন না ‘BTech পানিপুরি ওয়ালি’।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রুটির দোকানের হেল্পার ছিলেন নন্দিনীর বাবা, মেয়ের কাঁধে ভর দিয়েই উড়ান দিচ্ছে পাইস হোটেল

Nandini Pice Hotel: সংসার চালানোর দায় হয়ে উঠছে দেখে বাধ্য হয়েই অফিস পাড়ায় এসে এক চিলতে দোকানে প্রথমে রোজ ২০০ টাকা মাইনেতে রুটি বেলার কাজ নেব চক্রধারীবাবু

View this post on Instagram

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অটোতেই রয়েছে ম্যাগাজিন থেকে ম্যাকবুক, গোটা বিশ্ব এক ডাকে চেনে ভারতের এই অটোওয়ালাকে

জের পছন্দ আর পেশাকে সহাবস্থানে নিয়ে এসেছেন আন্নাদুরাই। এমনকী, নয়া টেকনোলজি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণ করেছেন এই বছরের দুবাই এক্সপোতে।

তাপসী উপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি তাঁর স্টলে তেলেভাজা ফুচকা ব্যবহার করেন না। ফুচকা তৈরি করতে ময়দা বা মিহি আটাও ব্যবহার করেন না। টক জলে কাঁচা ধনে আর জিরেও ব্যবহার করেন না। যে চাটনি তিনি ব্যবহার করেন তা জৈব গুড় এবং তেঁতুল দিয়ে তৈরি। তাপসীর স্টলে বিক্রি হওয়া ফুচকা রাস্তার খাবারের ধারণাকে কিছুটা হলেও বদলেছে। তাপসী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাবার পরিবেশন করেন। শালপাতার বাটিতে তিনি ফুচকা তুলে দেন গ্লাভস পরে। জল ঘাঁটতেও ব্যবহার করেন বড় চামচ। নিজে হাতে সারাক্ষণ পরিষ্কার করেন নিজের স্টল।

তাপসীর এই উদ্যোগকে অনেকে বাঁকা চোখে দেখলেও অভিনন্দন জানানো মানুষের সংখ্যাই বেশি। নিজের কাজের নিজে মালিক হওয়ার এই ধারণাকে পছন্দ করছেন অনেকেই। আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার জন্য শুধুই যে চাকরি প্রয়োজন এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলছেন অনেকেই। কোনও কাজই ছোট নয় জাতীয় নীতিশিক্ষা শিশুদের দেওয়া হলেও, বাড়ির সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে, বিনিয়োগ করে ফুচকাবিক্রেতা বা চা বিক্রেতা হতে দেখতে চান না কোনও বাবা মা-ই। অথচ চাকরির বাজারের উপর সরকার হাত তুলে নিয়েছে সেই কবেই। বেসরকারি বাজারের প্রতিযোগিতায় আসন কম, প্রতিযোগী অত্যধিক। এমন অবস্থায় অর্থ রোজগারই যদি লক্ষ্য হয়, অন্য কাজে বাধা কী?

অনেকে অবশ্য বলছেন, শিক্ষার লক্ষ্য কোনওদিনই স্রেফ অর্থ উপার্জন নয়, একজন পড়ুয়া সারাজীবন যা শিখছেন সেই শিক্ষা বৃহত্তর ক্ষেত্রে কাজে লাগবে এমনটাই কাম্য। ফুচকা বা চা বিক্রির সঙ্গে কাজের ছোট বা বড় ধারণা জড়িত নেই। কিন্তু এই কাজটির সঙ্গে শিক্ষার অপচয় বিষয়টি জড়িয়ে আছে। বি টেক করে কেউ যদি ফুচকা বিক্রি করেন তাহলে যে শিক্ষা তিনি পেলেন, যে নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের দিশা সেই পড়ুয়ার থেকে পাওয়ার কথা তাতে বড় ফাঁক থেকে গেল। ধীরে ধীরে চাকরির দাবি জানানো বা নিজের শিক্ষাকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর ধারণাটিকেই অপ্রয়োজনীয় করে তোলার 'ট্রেন্ড' হয়ে উঠছে না তো এই ধরনের নিজস্ব ব্যবসা?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।