বিলুপ্তির মুখে প্রজাপতিরা! গত ২০ বছরে কেন ব্যাপক হারে কমছে প্রজাপতির সংখ্যা?

Butterfly: শুধু আমেরিকার সমস্যা না, সারা বিশ্বেই প্রজাপতিরা বিপন্ন। আমাদের নিজস্ব পরিসরে, চারপাশে কতই বা শুঁয়োপোকা আর দেখা যায়! কত শুঁয়োপোকাই বা আর প্রজাপতি হয়ে ওঠে?

inscript
৩ মিনিট
বিলুপ্তির মুখে প্রজাপতিরা! গত ২০ বছরে কেন ব্যাপক হারে কমছে প্রজাপতির সংখ্যা?

কোথায় সে এমন রঙিন ডানা পেল, এসব নিয়ে রোম্যান্টিসজম আমাদের গত হয়েছে। বিজ্ঞান প্রকৃতির সমস্ত কার্যকারণের ব্যাখ্যা দিয়েছে নিজস্ব যুক্তিতে, আর সাধারণ মানুষের মন অপূর্বের কারণ খুঁজতে গিয়ে বিস্মিত হতে চেয়েছে বারবার। এখনও, নরম কোনও বিকেলে প্রজাপতির ওড়াওড়ি দেখে সন্ধে নেমে যায় অগোচরে। এমন বাহারি ডানা, এমন অভূতপূর্ব রং প্রজাপতিরা সত্যিই কোথায় পেল, কীভাবে শুঁয়োপোকা একদিন নিজেকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে এমন সুন্দর হয়ে উঠল, এই বিস্ময় মানুষকে হয়তো ততটাও অবাক আর করে না। প্রজাপতি দেখার সুযোগও কম, আর প্রজাপতিরাও মহাপ্রস্থানের পথে প্রায়। কিছুবছর পর প্রজাপতি নির্বংশ হওয়ারই মুখে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রজাপতির সংখ্যা অভাবনীয় হারে হ্রাস পাচ্ছে। গবেষণার তথ্য বলছে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে, ৫৫৪টি নথিভুক্ত প্রজাতির মধ্যে প্রজাপতির প্রাচুর্য ২২% কমেছে! ৭৬,০০০-এরও বেশি সমীক্ষা এবং ৩৫টি পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া এই তথ্য বলছে, বিপদের মুখে প্রজাপতিরা।

এই গবেষণাড়িতে ১২.৬ মিলিয়ন প্রজাপতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ কীটপতঙ্গের সংখ্যায় ব্যাপক পতনের এক ভয়ঙ্কর ছবি উঠে এসেছে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই। প্রজাপতিদের নথিভুক্ত প্রজাতিগুলির তথ্য বলছে, আগের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি প্রজাতির সংখ্যায় ব্যাপক হ্রাস দেখা দিচ্ছে। এই হ্রাস সমগ্র সংলগ্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে দেখা গেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয় বরং ব্যাপক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রজাপতির সংখ্যা হ্রাসের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রজাপতিরা পরাগ সংযোগ এবং খাদ্য শৃঙ্খল সহ বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কচ্ছপের অশ্রু খায় প্রজাপতিরা! অপার্থিব দৃশ্যের নেপথ্যে রয়েছে তাক লাগানো কারণ

Butterflies Drinking Turtle Tears: প্রজাপতিসহ বিবিধ পতঙ্গের লবণের বা সোডিয়ামের প্রয়োজন পড়ে।

আরেকটু সহজ করে বললে, গত ২০ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি প্রজাপতি অদৃশ্য হয়ে গেছে। শুধু বিরল প্রজাপতিরাই নয়, সাধারণ প্রজাপতিও আর দেখা যাচ্ছে না। গবেষকরা বলছেন, এই ২০ বছরের সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০০টিরও বেশি প্রজাতি ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এতে হার্মিস কপার, লেজ অরেঞ্জ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া হোয়াইট, ক্যালিফোর্নিয়া প্যাচ এবং স্যান্ডহিল স্পিপার সহ এমন ২২টি প্রজাতি রয়েছে যা ৯০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কীটতত্ত্ববিদ নিক হাদ্দাদ বলছেন, গত ২০ বছর ধরেই প্রজাপতির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং এই হ্রাসের শেষ কোথায় তা জানা নেই। কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ডেভিড ওয়াগনার বলেছেন, ২০ বছরে ২২ শতাংশ হ্রাসকে সাধারণ চোখে তাৎপর্যপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হ্রাসের হার বৃদ্ধিই বিপর্যয় ডেকে আনবে। ডেভিড ওয়াগনার বলছেন, "মাত্র ৩০ বা ৪০ বছরে আমরা একটি মহাদেশে অর্ধেক প্রজাপতি (এবং অন্যান্য পোকামাকড়) হারানোর কথা বলছি!”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রকাণ্ড ডানা, অপার্থিব সৌন্দর্য! মহাকাশে কীভাবে লুকিয়ে দানবাকৃতি মহাজাগতিক প্রজাপতি?

Butterfly Nebula: তারাদের মৃত্যু যে এত রঙিন হয়, তা না দেখলে আন্দাজ করা শক্ত।

প্রজাপতির সংখ্যা কমে যাওয়া মানুষের জন্য কেন বিপর্যয়ের?

কর্নেল ইউনিভার্সিটির প্রজাপতি বিশেষজ্ঞ অনুরাগ আগরওয়াল নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, তিনি মনুষ্য প্রজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। "প্রজাপতি, তোতাপাখি এবং শুশুকের ক্ষতি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য এক খারাপ লক্ষণ। আমাদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় যে বাস্তুতন্ত্র, যে প্রকৃতি উপভোগ করি এই প্রাণীরা তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রজাপতিরা প্রকৃতির সৌন্দর্য, ভঙ্গুরতা এবং নানা প্রজাতির পারস্পরিক নির্ভরতার দূত। তাদের থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে।"

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রজাপতিরা মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করে, মানুষকে শান্ত করে, মানুষের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, মন ভালো রাখে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রজাপতিরা বিপদে। শুধু তো আমেরিকার সমস্যা না, সারা বিশ্বেই প্রজাপতিরা বিপন্ন। আমাদের নিজস্ব পরিসরে, চারপাশে কতই বা শুঁয়োপোকা আর দেখা যায়! কত শুঁয়োপোকাই বা আর প্রজাপতি হয়ে ওঠে? অজস্র পোকামাকড় বিলুপ্তির মুখে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্যান্য পোকামাকড়ের পতনের মতোই প্রজাপতির এমন ক্ষতির নেপথ্যে অনেক কারণ রয়েছে। প্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থানের ক্ষতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কীটনাশকের ব্যবহার এর অন্যতম কারণ। জলবায়ু পরিবর্তন বা কীটনাশকের ব্যবহার কমানো রাতারাতি সভব না। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেহেতু পোকামাকড়ের জীবনকাল ছোট, তাই পরিবেশের সামান্য পরিবর্তন হলেও কিন্তু প্রজাপতির উপকার হতে পারে। যেমন স্থানীয়ভাবে ফুলগাছ লাগানো বা বাসস্থান তৈরি করা প্রজাপতির সংখ্যা বৃদ্ধির উপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। এই মুহূর্তে ছোট ছোট ব্যক্তিগত উদ্যোগও প্রজাপতিদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটাতে পারে বেশ বড় হারেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সাত দিনের ব্যবধানে দুটো ঘূর্ণিঝড়: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা কি এটাই?

Climate change impact on cyclone: ২৮ অক্টোবরে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ঠিক সাত দিন পর ৩ নভেম্বরে ল্যান্ডফল করে ‘মুরাসু’। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই পিঠোপিঠি ঝড়ের ঘটনাকে বলা হয় ‘ক্লাইমেটোলজিক্যাল অ্যানোমালি'। বঙ্গোপসাগরের এই ‘ওভার-এনার্জাইজড’ অবস্থাই, এখন জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা।

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?