৩২৫ রকম কায়দায় শাড়ি পরাতে পারেন! বলিউড তারকারাও কুর্নিশ করেন ডলিকে

Saree Draping: দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ডলি রোজ সকালে একটি ম্যানিকুইনকে শাড়ি পরিয়ে তাঁর দিন শুরু করেন। সঙ্গীত সাধকের যেমন রেওয়াজ ডলির কাছে এ যেন তাই।

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
৩২৫ রকম কায়দায় শাড়ি পরাতে পারেন! বলিউড তারকারাও কুর্নিশ করেন ডলিকে

আর পাঁচজন সাধারণ গৃহবধূর মতোই জীবন শুরু হয়েছিল তাঁর। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে সংসারের জাঁতাকলে নিজেকে পিষতে পিষতেও তো মানুষের কিছু ইচ্ছে বেঁচে থাকে। সেই ইচ্ছে থেকেই পরিপাটি করে শাড়ি পরতে এবং পরাতে ভালবাসতেন কলকাতার গৃহবধূ ডলি জৈন। এই শাড়ির ভাঁজে ভাঁজেই যে লুকিয়েছিল তার জীবনের সাফল্য, তা বিলক্ষণ ভাবেননি ডলি! একদিন বিয়ের এক কনেকে শাড়ি পরানোর সময় ডলির কাজ দেখেন বিখ্যাত ডিজাইনার সন্দীপ খোসলা। মূলত খোসলার আগ্রহেই সেলিব্রিটি বিয়ের দুনিয়ায় প্রবেশ ডলির। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ ডলি যেখানে পৌঁছছেন আর যেখান থেকে শুরু করেছিলেন তিনি এই দুই বিন্দুর দূরত্বটা অসংখ্য গৃহবধূর অনুপ্রেরণা হতে পারে।

ডলির জন্ম বেঙ্গালুরুতে। প্রথম দিকে শাড়ির প্রতি সেরকম কোনও ভালবাসাই ছিল না তার। আর পাঁচজন মেয়ের মতো নিজেও জিন্স, ট্রাউজার পরতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন ডলি। বিয়ের পর থেকেই মূলত শুরু হয় শাড়ির প্রতি ভালবাসা।

ডলির কথায়, "শাড়ি পরাতে ভালবাসতাম কিন্তু সেই ব্যাপারে খুব বেশি কিছু ভাবিনি কোনও দিনই। একদিন শ্রীদেবীকে শাড়ি পরিয়ে দিলে তিনি বলেন আমার হাতে জাদু আছে। আমি চাইলেই শাড়ি পরার বিষয়টিকে একটি শিল্পের রূপ দিতেই পারি। সেই প্রথম আমার মনে হয়েছিল এভাবে ভেবে দেখা যেতে পারে।"

ডলির কাজের দুনিয়া

বাংলার সঙ্গে কুরগি নাকি রাজস্থানি স্টাইলের সঙ্গে বাংলা কোন ধরনের কম্বো চান আপনি? গোটা ভারতের প্রায় ৩২৫ রকমের ধাঁচের শাড়ি পরার ধরন আপনার হাতের মুঠোয়। সৌজন্যে ডলি জৈন। সোনম কাপুর থেকে শুরু করে হালের ক্যাটরিনা কাইফ, বলিউডের বুকে যত মেগাবিবাহ হয়েছে হালফিলে সকলেরই শাড়ি পরানোর নেপথ্যে আছেন ডলি জৈন। শুধুমাত্র সেলিব্রিটি নয়, যে কোনও বিয়েতে শাড়ি পরানোর ডাক পেলেই ডলি কাজ করেন। গোটা ভারতের শাড়ির ধরন বুঝতে ভারতের বিভিন্ন ছোট ছোট জায়গায় ঘুরে বেড়ান ডলি। গ্রামে গ্রামে মহিলাদের সঙ্গে মেশেন, বোঝেন তাঁদের জীবন যাত্রা এবং শিখে নেন তাঁদের শাড়ি পরার ধরন। এই প্রসঙ্গে ডলি বলছেন, "শাড়ি পরানোর জন্য আমি যেকোনও জায়গায় যেতে পারি। প্রত্যেক নারী একে অন্যের থেকে আলাদা। তাঁদের গঠন আলাদা, রুচি আলাদা এমনকী শাড়ির ধরনও আলাদা। সবাই বলে সাজ দিয়ে মেয়েদের মন জয় করা কঠিন কিন্তু আমি প্রত্যেকবারই এই কাজে সফল হয়েছি।"

কিন্তু প্রত্যেক শিল্পীরই নিজস্ব কিছু তুক আছে। যে তরিকায় তাঁর কাজ হয়ে ওঠে অনন্য। আর আছে অধ্যাবসায়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ডলি রোজ সকালে একটি ম্যানিকুইনকে শাড়ি পরিয়ে তাঁর দিন শুরু করেন। সঙ্গীত সাধকের যেমন রেওয়াজ ডলির কাছে এ যেন তাই। শুধু তাই নয়, এই দীর্ঘ চর্চা ও অভ্যেস ডলিকে দিয়েছে এক অনবদ্য ক্ষমতা। একটি শাড়ি পরাতে ডলি সময় নেন মাত্র ১৮.৫ সেকেন্ড।

শাড়ির রকমফের

হালের ফ্যাশন দুনিয়ারও অনেক চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে দিয়েছেন ডলি। আগে শাড়ির সঙ্গে পেটিকোট পরাই ছিল দস্তুর কিন্তু ডলি লক্ষ্য করেন এখনকার সময়ে মেয়েরা পেটিকোটের থেকে শাড়ির নিচে জিন্স, লেগিন্স বা জেগিন্স পরতে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। সেইখান থেকেই বদলের ভাবনা আসে তাঁর মাথায়। তাঁর অন্য আরেকটি বিখ্যাত উদ্ভাবন হল মারমেড স্টাইলে শাড়ি পরানো। এক্ষেত্রে শাড়ি দিয়ে গোটা শরীর ঢেকে ফেললেও ডলির আঙুলের জাদুতে উদ্ভাসিত হয়ে থাকে কনের শরীরের প্রতি ভাঁজ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘সঙ্গীতের’ রাতেই এই ধরনের শাড়ি পরার বিশেষ চাহিদা থাকে। এর মাধ্যমে নাচ-গানের সময় শরীরের প্রতিটি মুদ্রার ভঙ্গি অনেক বেশি স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অনেকেই আবার চমকে ওঠেন যখন ডলি একইসঙ্গে দুটো শাড়ি পরিয়ে দেন। বাইরে থেকে দেখতে বিন্দুমাত্র ভারী লাগে না। অথচ দু'রকমের শাড়ির যুগলবন্দীতে শাড়ির অন্য রূপ খুলে যায়।

২০২০ সালে ডলি শাড়ি পরার বিভিন্ন ধরন নিয়ে প্রকাশ করেছেন একটি বই। সেখানে ডলি লিখেছেন, "এই বই রোজ আপনাকে নতুন করে সাজিয়ে তুলবে। আপনার নিজের শাড়ির সঙ্গে রোজ আপনিও হয়ে উঠবেন অনন্য। হালের তরুণী থেকে মা এমনকী ঠাকুমাদের ও শাড়ির ধরন বাতলাবে এই বই"। তাহলে শতাব্দী প্রাচীন চিরাচরিত শাড়িকে নতুন করে আবিষ্কার করতে তৈরি তো আপনি?

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।