যিশুর জন্মের দুহাজার বছর আগেই জন্ম চকলেটের, চমকে দেবে সেই ইতিহাস

চকলেট বয়সের সীমানা পেরিয়েছে বহুদিন। না, শুধুমাত্র মনোহরণ নয় কখনও কখনও দুরারোগ্য ব্যাধির সঞ্জীবনী মন্ত্র হিসেবেও কাজ করে চলেছে আমার-আপনার সবার প্রিয় চকলেট।

Debabrata Mondal
৩ মিনিট
যিশুর জন্মের দুহাজার বছর আগেই জন্ম চকলেটের, চমকে দেবে সেই ইতিহাস

চকলেট- আট থেকে আশি সকলের প্রিয়। বিশ্বজুড়ে চকলেটের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত‌। নানা ভাবে, ভঙ্গিতে, স্বাদে চকলেট মন জিতেছে মানুষের। যদি ভাবা হয়, চকলেটের উৎপাদন শুরু হয়েছে হালে, তাহলে কিন্তু একদমই ভুল ভাবা হবে। আবার যদি চকলেটের ইতিহাস ঘাঁটতে বসা হয়, তাহলেও কিন্তু আমাদের অবাক হতেই হবে। হ্যাঁ, চকলেটেরও রয়েছে সুপ্রাচীন এক ইতিহাস। অবশ্য রকমারি চকলেটের স্বাদগ্রহণে ব্যস্ত আমরা অধিকাংশই সেই ইতিহাস সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবগত নয়। আজকের এই চকলেট কিন্তু একদিনে আসেনি, আধুনিক চকলেটকে পেরিয়ে আসতে হয়েছে বহু চড়াই-উতরাই পথ। আজকে আমরা শুনে নেব চকলেটের সেই গল্প।

প্রথমেই ইতিহাসের পাতা উলটে পিছিয়ে যাওয়া যাক যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় দুই হাজার বছর পিছনে। হ্যাঁ, চকলেটের জন্মকথা লুকিয়ে আছে সেই সময়ের গভীরেই। আর সেদিনের চকলেটের জন্মকথার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে মায়া-আজটেক সভ্যতার মানুষের গল্প। কিন্তু কী এমন করল মায়া-আজটেক সভ্যতার মানুষ, যে আজকের আধুনিক চকলেটের পিছনে তাদের অবদানের কথা স্বীকার করতেই হয়? কারণ সেই সময়ই মায়া-আজটেক সভ্যতায় মানুষ কোকো বিনসের ব্যবহার জানত, অর্থাৎ যা কিনা চকলেট তৈরির মূল উপাদান। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা যায়, এই মায়া বা আজটেক সভ্যতার মধ্যেও প্রচলিত ছিল একপ্রকার বিনিময় প্রথা। এই বিনিময় প্রথার প্রধান মাধ্যম ছিল কোকো বিনস। এমনকী, কোকো বিনসকে নিয়ে অন্ধবিশ্বাসও প্রচলিত ছিল মায়া-আজটেক সভ্যতার মানুষের মনে। জন্ম থেকে মৃত্যু, কোকো বিনস ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকত তাদের সঙ্গে।

কিন্তু ইউরোপের বুকে কোন দেশে এই কোকো বিনসের প্রথম দেখা মিলল? উত্তরটা হলো, স্পেন। স্পেনে এই কোকো বিন আমদানি করা হয় সম্রাটদের উপহারস্বরূপ। ১৫০০ সাল নাগাদ স্পেনে প্রথম দেখা মিলল এই কোকো বিনসের। ইউরোপের বুকে কোকো বিনসের খ্যাতি এরপর ছড়িয়ে পড়া ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু এক বালতি দুধে একফোঁটা গোমূত্র পড়লে যেমন গোটা দুধটা নষ্ট, ঠিক তেমনই কোকো বিনসের মধ্যে ছিল বেশ কিছুটা তেতো ভাব। আর তাতেই তার জনপ্রিয়তায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছিল। তবে ১৮২৮ সাল নাগাদ কোকো বিনসের কলঙ্কমুক্তি ঘটল। এক ডাচ রসায়নবিদ বিশেষ কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোকো বিনসের তেতো স্বাদ দূর করে দিলেন। বাজারে কিছুদিনের মধ্যেই চলে এল ডাচ চকলেট। কিছুদিনের মধ্যেই ডাচ চকলেট অর্জন করল প্রবল জনপ্রিয়তা।

এরপর চলে যাওয়া যাক ১৮৪৭ সালে। ১৮৪৭ সাল নাগাদ জোসেফ ব্রাইকে আবিষ্কার করলেন চকলেট বার। কী কী উপকরণ লাগত এই চকলেট বার প্রস্তুত করতে? কোকো পেস্ট আর কোকো বাটার ছিল এর মূল উপকরণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১১ বছরের খুদের আবিষ্কারে মজেছিল গোটা বিশ্ব, যেভাবে এসেছিল কাঠি আইসক্রিম

১৯০৫ সালে বানানো একটি ১১ বছরের খুদের এই আবিষ্কার এক যুগান্তকারী সৃষ্টি হয়ে রইল। তাই যখনই এরপর পপসিকল মুখে পুরে তার স্বাদ নেবেন, তখন এপারসনের নামটা মনে পড়বেই।

১৮৪৭-এর পরে প্রায় কুড়ি বছরের অপেক্ষা। ১৮৬৮ সালে আত্মপ্রকাশ করল ক্যাডবেরি নামক একটি সংস্থা। এই ক্যাডবেরি প্রথমে বাজারে আনল চকলেট বার। এমনকী, এই চকলেট প্রবল জনপ্রিয় হয়েছিল আমেরিকান আর্মিদের মধ্যেও। ভারতকে ব্রিটিশরা দেড়শো বছর ধরে পদানত রাখলেও চকোলেটের আমদানিতে ইংরেজদের অবদান অনস্বীকার্য। আর এই ইংরেজ শাসনকালেই কর্নাটক, কেরলের মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে বিপ্লব আসে কোকো চাষের। আর তারপর ধীরে ধীরে চকলেট পেয়েছে আজকের জৌলুস।

২০০৯ সাল নাগাদ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় 'চকলেট দিবস' পালন। তবে আমাদের মন ভালো রাখতে কিন্তু চকলেটের জুড়ি নেই। হ্যাঁ, চকলেটের ট্রিপটোফেন একটি উপাদান শরীরে ডোপামিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। যা পক্ষান্তরে ট্রেস হরমোন নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকী, ক্যানসার রোধে সহায়তা করে চকলেট।

সুতরাং, মায়া-আজটেক সভ্যতার বাহন আজকের দিনেও একইরকমভাবে সমাদৃত ছোট থেকে বড় সকলের কাছে। "আট থেকে আশি খেতে ভালবাসি"- চকলেট বয়সের সীমানা পেরিয়েছে বহুদিন। না, শুধুমাত্র মনোহরণ নয় কখনও কখনও দুরারোগ্য ব্যাধির সঞ্জীবনী মন্ত্র হিসেবেও কাজ করে চলেছে আমার-আপনার সবার প্রিয় চকলেট।

তথ্য সূত্র:

শুকতারা।

লিখেছেন
Debabrata Mondal
Debabrata Mondal
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।