অবসরের মুখে ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, কে হতে পারেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি?

CJI DY Chandrachud: সুপ্রিম কোর্টের কলোজিয়ামের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্য়েক প্রধান বিচারপতি অবসর গ্রহণের আগে নিজের উত্তরসূরীর নাম সুপারিশ করে যান। আর তেমনটাই করলেন এবার প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়।

inscript
৩ মিনিট
অবসরের মুখে ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, কে হতে পারেন দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি?

দেখতে দেখতে শেষ হতে চলল দেশের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের মেয়াদ। রীতি অনুযায়ী, তাঁর থেকে তাঁর উত্তরসূরী তথা পরবর্তী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নাম সুপারিশ করে যাওয়ার কথা তাঁর। তবে তাঁর সুপারিশই চূড়ান্ত নয়। সেই নাম প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন মেলার পরেই স্থির হবে পরবর্তী প্রধানবিচারপতি। তবে ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের সুপারিশ অনুযায়ী, দেশের পরবর্তী বিচারপতি হতে চলেছেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১০ নভেম্বর। কেন্দ্রের অনুমোদন মিললে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র মোস্ট বিচারপতি হিসেবে সঞ্জীব খান্নার কাছে যেতে চলেছে প্রধান বিচারপতির চেয়ার। দেশের ৫১তম প্রধান বিচারপতি হবেন তিনি। তবে খুব বেশিদিনের জন্য নয়। মাত্র ছ'মাসের জন্য ওই চেয়ারে বসবেন তিনি। কারণ ২০২৫ সালের ১৩ মে অবসর নেওয়ার কথা বিচারপতি সঞ্জীব খান্নারও। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, তিনিই দেশের প্রথম সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হতে চলেছেন, যার এর আগে কোনও হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইলেক্টোরাল বন্ড অসাংবিধানিক! মোদি সরকারের প্রকল্প খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

Electoral Bond Scheme: ইতিমধ্যেই ওই প্রকল্প বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-কে অবিলম্বে ইলেক্টোরাল বন্ড প্রদান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের কলোজিয়ামের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্য়েক প্রধান বিচারপতি অবসর গ্রহণের আগে নিজের উত্তরসূরীর নাম সুপারিশ করে যান। ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড়ের আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন ইউ ইউ ললিত। তিনি চন্দ্রচূড়ের নাম সুপারিশ করে যান। যাতে সিলমোহর দিয়েছিল কেন্দ্র। ২০১৬ সালের ১৩ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন তিনি। ২০২২ সালের নভেম্বরে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন চন্দ্রচূড়। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, ৬৫ বছর বয়সে অবসর নিয়ে থাকেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। সেই মতোই আগামী ১০ নভেম্বর অবসর নিচ্ছেন ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। আর তার আগে পালা ছিল উত্তরসূরীর নাম ঘোষণার। যেখানে তিনি সুপারিশ করলেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নাম। ইতিমধ্যেই সেই সুপারিশ কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।

১৯৭৭ সালে নয়া দিল্লির মডার্ন স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮০ সাল নাগাদ দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজ থেকে স্নাতক হন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। এরপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যাসয়ের আইন অনুষদের ক্যাম্পাস ল সেন্টার থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পারিবারিক ভাবেই দীর্ঘদিন ধরে আইনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। তাঁর মামা বিখ্যাত বিচারপতি হান্স রাজ খান্না, যিনি ১৯৭৩ সালে মৌলিক কাঠামো মতবাদের প্রস্তাব করেন। এডিএম জবলপুর বনাম শিব কান্ত শুক্লা মামলায় ভিন্ন রায় দিয়ে চর্চায় আসেন। তাঁর বাবা ছিলেন বিচারপতি দেব রাজ খান্না। ১৯৮৫ সালে তিনি দিল্লি হাইকোর্ট থেকে বিচারপতি হিসেবে অবসর নেন। সঞ্জীবের মা সরোজ খান্না ছিলেন দিল্লির লেডি শ্রী রাম কলেজের হিন্দির লেকচারার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের গণেশপুজোয় মোদি! ভারতের প্রধান বিচারপতি আদৌ নিরপেক্ষ?

Modi Chandrachud: প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির 'একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা'-ও ভুল কারণ সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধগুলিকে বজায় রাখা।

বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনি পেশার সঙ্গে যুক্ত বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। ১৯৮৩ সালে দিল্লির বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন তিনি। প্রাথমিক ভাবে তাঁর প্র্যাকটিস শুরু হয় দিল্লির তিস হাজারি কোর্টে। তবে বেশিদিন নয়। এর পরেই তিনি প্র্যাকটিস শুরু করেন দিল্লি হাইকোর্টে। এর মধ্যে আয়কর বিভাগের সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সিল হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি দিল্লির স্ট্যান্ডিং কাউন্সিল (সিভিল) হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০০৫ সালে দিল্লি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতির পদে নিযুক্ত হন বিচারপতি খান্না। কোনও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগেই ২০১৯ সালে ১৮ জানুয়ারি তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। কোনও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগেই ২০১৯ সালে ১৮ জানুয়ারি তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরপর ২০২৯ সাল নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন সঞ্জীব খান্না। বিচারপতি খন্না বর্তমানে ন্যাশনাল লিগাল সার্ভিসেস অথরিটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান এবং ভোপালের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির গর্ভনিং কাউন্সিলের সদস্য। ২০২৩ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি খান্না।

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। নির্বাচনী বন্ড মামলা থেকে শুরু করে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্যতম বিচারপতি ছিলেন তিনি। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত যে অসংবিধানিক নয়, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছিলেন। আর সেই বেঞ্চের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত মামলাতেও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ইভিএমের সঙ্গে ১০০ শতাংশ ভিভিপ্যাট মিলিয়ে দেখার মামলা খারিজ করা, প্রধান বিচারপতির দপ্তরকে RTI-এর অধীনে আনার নির্দেশ দেওয়া— এই সব মামলারও অন্যতম বিচারপতি ছিলেন তিনিই।

এই মুহূর্তে বয়সের দিক থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বিতীয় বরিষ্ঠ বিচারপতি। সাধারণত দেশের কোনও একটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন ৷ তবে সেদিক থেকে বিচারপতি খান্না ব্যতিক্রম। তিনিই প্রথম দেশের প্রধান বিচারপতি হতে চলেছেন, যিনি আগে কোনও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হননি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে একটি নয়া নজির গড়তে চলেছেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মোদী জমানায় যেভাবে বেড়েছে ভাই-বেরাদারি পুঁজিবাদ

25 Years of Modi's Economic Legacy: মোদী জমানায় রাজনৈতিক ক্ষমতা ও কর্পোরেট পুঁজির ঘনিষ্ঠতায় কীভাবে বদলে যাচ্ছে ভারতের অর্থনীতির চরিত্র, বেড়েছে ভাই-বেরাদারি পুঁজিবাদ, একচেটিয়া বাজার ও মুষ্টিমেয় শিল্পগোষ্ঠীর আধিপত্য?

বছরে ৫০ দিনের ছুটি কমে ৪০! বাদ পড়তে পারে কোন কোন উৎসবের ছুটি?

West Bengal Government Holidays: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বছরে ছুটির সংখ্যা প্রায় ৫০ দিন থেকে কমিয়ে ৪০ দিন করার পরিকল্পনা করছে শুভেন্দু সরকার। অর্থসচিবকে নতুন ছুটির তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল আমলে চালু হওয়া শিবরাত্রি, ভাইফোঁটা, ছটপুজো-সহ একাধিক ছুটি কি তবে এবার বাতিল হতে চলেছে?

দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্পের ক্ষমতায় কতটা লাগাম পড়বে?

US midterms 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দুর্গে বড় ধস নামিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শুল্কনীতি এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত অসন্তোষের জেরে ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান করল ভোটাররা। বদলের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?

মিডটার্ম নির্বাচনে কে কত টাকা ঢাললেন?

US midterm elections 2026: আমেরিকার নির্বাচনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যয়। ইলন মাস্ক ও জর্জ সোরোসের মতো ধনকুবেরদের অনুদান, সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি কীভাবে আমেরিকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে?

মানুষ টাকা পেয়ে গেলে ভুলে যাবে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সম্পর্কে বললেন বিজেপি বিধায়ক সজল

Sajal Ghosh interview: ‘ভয় ছাড়া ভক্তি আসে না’— আইন-শৃঙ্খলা, দুর্গাপূজা বিতর্ক এবং তৃণমূলের দলবদল নিয়ে নিজের মতামত জানালেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।

ভারতের রাজনীতি কতটা বদলে দিয়েছেন মোদী?

25 years of Narendra Modi: ২৫ বছরে মোদী কতটা বদলে দিয়েছেন ভারতের রাজনীতি? উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রচারের ধরন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং জাতীয় পরিচয়ের ধারণা—কীভাবে বদলেছে দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র?

ব্রাজিল থেকে আমেরিকা যে কারণে দক্ষিণপন্থীদের শাস্তি দিচ্ছে শান্তিকামী মানুষ

The Alt - right Tide Turns: বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছরের অরবান-শাসনের অবসান, সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী বিজয়, ব্রাজিলে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার জয়, আমেরিকায় মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটদের সংসদের দুই কক্ষ দখল, সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থী জোয়ারে ভাটার সুর। তবে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালিতে দক্ষিণপন্থা এখনও টিকে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও চলছে জেনজিদের, শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষদের বিক্ষোভ।

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?