জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ঙ্কর প্রভাব, আকাশে আর দেখা যাবে না রংধনু?
Climate Change: জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, হিমবাহের বরফ গলন ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতোই প্রভাবিত হচ্ছে রংধনুও।

রংধনু কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, পরিবেশ ও আবহাওয়ার সূক্ষ্ম পরিবর্তনেরও এক দৃশ্যমান চিহ্ন। সূর্যের আলো, বৃষ্টির ফোঁটা ও মেঘের সঠিক অবস্থান একসঙ্গে হলে রংধনু দেখা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য—আগামী দিনে পৃথিবীর বহু জায়গায় রংধনু প্রায় হারিয়েই যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, হিমবাহের বরফ গলন ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতোই প্রভাবিত হচ্ছে রংধনুও।

শ্রীনগর থেকে তোলা রংধনুর ছবি, ২০২২ (ছবিসূত্র: এক্স হ্যান্ডেল)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Climate Change: তাপপ্রবাহ যতই বাড়ছে, ততই ভেঙে পড়ছে জীবজগৎ। অস্ট্রেলিয়ায় গাছে ঝুলে থাকার শক্তি হারাচ্ছে ফ্লাইং ফক্স, কানাডার জোয়ারভাটায় কোটি কোটি বার্নাকল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
অনেক অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলাচ্ছে (কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও দীর্ঘ খরা), মেঘের ঘনত্ব ও চলাফেরায় পরিবর্তন হচ্ছে, বায়ুদূষণের কারণে সূর্যের আলো সহজে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে ভারতসহ বিশ্বের নানান দেশে এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য রংধনুর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দিল্লির নয়ডা থেকে তোলা রংধনুর ছবি, ২০২০ (ছবিসূত্র: এক্স হ্যান্ডেল)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Food Scarcity: আগামী দশকের শেষে জলের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি হবে। পরবর্তী ২৫ বছরে বিশ্বের অর্ধেক খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাই নষ্ট হবে।
২০২২ সালে গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, "বর্তমানে বছরে গড়ে প্রায় ১১৭ দিন রংধনু দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২১০০ শতকের শেষে এসে এই সংখ্যা বিশ্বে গড়ে ৪-৫% বাড়তে পারে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কতটা বৃদ্ধি পায় তার উপর নির্ভর করে। পৃথিবীর প্রায় ২১–৩৪% এলাকায় রংধনু দেখার দিন কমে যাবে, আর ৬৬–৭৯% এলাকায় বাড়তে পারে। তবে ভবিষ্যতে এই চিত্র বদলে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত ও মেঘের প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন আসছে, তা রংধনু গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক শর্তগুলিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। অর্থাৎ, আগামী দিনে পৃথিবীর বহু অঞ্চলে রংধনু দেখার সুযোগ কমে যেতে পারে।"
রংধনুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধের উচ্চ অক্ষাংশ ও উচ্চভূমি অঞ্চলে। যেমন হিমালয়, আলাস্কা, রাশিয়া ও কানাডায়, রংধনুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অপরদিকে রংধনুর সংখ্যা হ্রাস পাবে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে রংধনুর সংখ্যা কমে যেতে পারে।

ব্যাঙ্গালোর থেকে তোলা রংধনুর ছবি, ২০২৩ (ছবিসূত্র: এক্স হ্যান্ডেল)
ভারতের উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গে বেশি আর্দ্রতা ও অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের ফলে রংধনু কোথাও হঠাৎ বেশি দেখা যায়, আবার কখনও একেবারে কম। এছাড়াও ভারতের মুম্বই, দিল্লি ও অন্যান্য শহরে বায়ু দূষণ ও ধোঁয়াশার জন্য রংধনু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এককথায় দেখা যায় না বললেই চলে। অন্যদিকে অসম, মেঘালয়, সিকিম এই রাজ্যগুলিতে বর্ষার সময়ে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টির ফলে রংধনুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
রংধনুর সংখ্যা বাড়া বা কমা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। যেখানে রংধনু কমে যাবে, পরিবেশগত সংকটের ইঙ্গিত দেবে। আবার যেখানে বাড়বে, সেখানেও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলেই হবে। ভারতের মতো দেশের এ'বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।






