কংগ্রেসের শোচনীয় হারের পর ইন্ডিয়ার বৈঠক, কেন যাচ্ছেন না মমতা?

Mamata Banerjee Skips INDIA meeting : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কংগ্রেসের নির্বাচনে একা লড়াই করার সিদ্ধান্তের ফলেই 'ভোটের বিভাজন' হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
কংগ্রেসের শোচনীয় হারের পর ইন্ডিয়ার বৈঠক, কেন যাচ্ছেন না মমতা?

সদ্য হেরেছে কংগ্রেস, হেরেছে বিজেপি বিরোধী শক্তি। লোকসভা ভোটের আগে ইন্ডিয়া নামে বিজেপি বিরোধী জোট গড়ে বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে আসতে চেয়েছিল বিরোধীরা। ফাইনালের ঢের আগে, সেমিফাইনালেই এই পরাজয়কে 'ইন্ডিয়া' জোটের আগাম হার হিসেবেই দেখছেন অনেকে। এই অবস্থায়, বুধবার ইন্ডিয়া জোটের সমন্বয় সভা ডাকা হয়েছে। খুবই কঠিন সময়ে জরুরি বৈঠক! অথচ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে যাবেন না। মমতা তিন রাজ্যে কংগ্রেসের হারের পর বলেছিলেন, কংগ্রেস ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির ব্যবস্থা করতে পারেনি বলেই বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছে। তা বলে কেন ইন্ডিয়া জোটের এত গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে যাবেন না মমতা?

এই দিন উত্তরবঙ্গে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বলছেন, "আমি এই মিটিং সম্পর্কে অবগত নই। সেজন্য আমি ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে একটি কর্মসূচি নির্ধারণ করেছি। সেখানে আমার সাত দিনের কর্মসূচি রয়েছে। আমি জানলে কি এই কর্মসূচি রাখতাম? আমি নিশ্চয়ই যেতে পারতাম। কিন্তু আমাদের কাছে কোনও তথ্য না থাকায় আমি উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছি।" মমতা না হয় যাবেন না, দলের কেউ কি উপস্থিত থাকবেন না ইন্ডিয়ার মিটিংয়ে? সূত্র বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসও এই বৈঠক এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু এত বড় বৈঠক মমতা জানেন না কেন? তাঁকে জানানো হয়নিই বা কেন?

কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, এই বৈঠকটি 'অনানুষ্ঠানিক' ছিল। কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খড়গে বিরোধী জোটের পরবর্তী বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর মাঝে তিনটি রাজ্যে বিজেপির কাছে বড় হার বৈঠকটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ৩১ অগাস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে বৈঠক হওয়ার পর তিন মাসের ব্যবধানে ফের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের পরিকল্পনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদীকে অপয়া বলে ভোটে জেতা যায়?

Pappu and Panauti: সম্প্রতি শেষ হওয়া পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে, নাম না করে, কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধি যখন এই ‘পনৌতি’ শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়।

বিজেপি মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ে দাপিয়ে ভোট কেড়েছে। মধ্যভারতের হিন্দি বলয় বিজেপি নিজের হাতে রেখেছে। কংগ্রেস কেবল তেলঙ্গানায় জিতেছে, তাও সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। কংগ্রেস তেলঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচনে ভারত রাষ্ট্র সমিতিকে (BRS) ক্ষমতাচ্যুত করেছে। কিন্তু বাকি রাজ্যে বিজেপি বিরোধীদের হার শোচনীয়। কংগ্রেস রাজ্য নির্বাচনকে পাখির চোখ করায় বিরোধী জোট অদ্ভুত অচলাবস্থায় পড়ে। ইন্ডিয়া জোটের অন্য দলগুলি এই নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনাও করে। একসঙ্গে নির্বাচন না লড়ার সিদ্ধান্তকেই এই হারের পিছনে দায়ী করেছে অনেক বিরোধী দলই। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, কংগ্রেসের নির্বাচনে একা লড়াই করার সিদ্ধান্তের ফলেই 'ভোটের বিভাজন' হয়েছে।

"কংগ্রেস তেলঙ্গানা জিতেছে। তারা মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানেও জিতত। কিছু ভোট ইন্ডিয়ার দলগুলোই কেটে দিয়েছে। এটাই সত্য। আমরা আসন ভাগাভাগির ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। ভোটের বিভাজনের কারণেই কংগ্রেস হেরেছে,” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহও কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন। হারের পরে কংগ্রেস জানায় রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশে কেন হার, কোথায় দলের ভুল তা খতিয়ে দেখবে কংগ্রেস।

মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেছেন, "ভুল হয়েছে এবং আমরা অবশ্যই তা সংশোধন করব"। কিন্তু সংশোধন করার জন্য অন্য বিরোধী দলগুলিকে কি সঙ্গে নেবে কংগ্রেস? অনেক বিরোধী নেতা বলছেন, ৩ রাজ্যে কংগ্রেসের হারে ইন্ডিয়া জোট প্রভাবিত হবে না। তবে লোকসভা নির্বাচনের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে জোটকে।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, "যেখানে আমরা শুরু করেছিলাম, ইন্ডিয়াকে সেখানেই ফিরে যেতে হবে। আমরা এই ভেবেই শুরু করেছিলাম যে আমাদের সেই দলগুলোকে সমর্থন করতে হবে যে অঞ্চলে তারা শক্তিশালী। তবেই ২০২৪ সালের নির্বাচন ঐতিহাসিক হবে। পরিবর্তন আসবে।" কিন্তু মুখে বললেও, ইন্ডিয়া জোট কি আদৌ একজোট? মমতা এত বড় বৈঠকে যাবেন না, কংগ্রেস নিজের মতো পর্যালোচনা করবে। ২০২৪ সালের লড়াই নিয়ে নিজেদের মধ্যে কি আগে জোট বাঁধতে পেরেছে বিজেপি বিরোধীরা? প্রশ্ন ভাবাচ্ছে দেশকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।