"যতদিন না মমতা...", আদালতে বসেই মাথা কামানো, কেন এমন 'ভীষণ প্রতিজ্ঞা' কৌস্তভের?

Koustav Bagchi Shaving his Head Mamata : তড়িঘড়ি নাপিত ডেকে এনে তাঁর সামনে বসে পড়েন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর মাথার চুল পুরোটাই কামিয়ে ফেলা হয়!

inscript
২ মিনিট
"যতদিন না মমতা...", আদালতে বসেই মাথা কামানো, কেন এমন 'ভীষণ প্রতিজ্ঞা' কৌস্তভের?

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘সোনার কেল্লা’র একটি দৃশ্য মনে আছে? লালমোহনবাবু ওরফে জটায়ুকে অপমান করার পর মগনলাল মেঘরাজকে শায়েস্তা করতে চেয়েছিল ফেলুদা। কাশীর ঘাটে বসে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল, “হয় এর প্রতিশোধ নেব, নয়তো গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে দেব।” কিংবা ধরুন, ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ (Gangs of Wasseypur) সিনেমাটির কথা। বিখ্যাত এই সিনেমাটির কথা কে না জানে! সেখানে শাহিদ খানের খুনের কথা তার ছেলে সর্দার খান জেনে ফেলে। কৈশোরেই সে মাথার পুরো চুলই কামিয়ে ফেলে। তারপরই প্রতিজ্ঞা নেয়, যে ওর বাবাকে খুন করেছে (পড়ুন রামাধীর সিং), তাকে ও ছাড়বে না। মনোজ বাজপেয়ীর সেই ডায়লগ, “হামারে জিন্দেগি কা এক হি মকসদ হ্যায়, বদলা।”

কেন এমন কথা বলা? কারণ এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি এই চ্যালেঞ্জ আর বদলার দৃশ্যই দেখল। তখন সন্ধের আলো গোটা শহরে। ব্যাঙ্কশাল আদালতের সামনে প্রবল ভিড়। শনিবার, ৪ মার্চ সকালেই নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচীকে। তারই মামলা চলছে ভেতরে। সন্ধে নাগাদ ব্যাঙ্কশাল কোর্ট তাঁকে জামিন দিয়ে দেয়। তারপরই আদালত চত্বর দেখে সেই ‘দৃশ্য’। তড়িঘড়ি নাপিত ডেকে এনে তাঁর সামনে বসে পড়েন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর মাথার চুল পুরোটাই কামিয়ে ফেলা হয়!

কেন? সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হারিয়ে দেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। তারপরই নবান্ন থেকে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পাল্টা প্রতিবাদ করেন কৌস্তভ বাগচী। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ‘কুরুচিকর মন্তব্য’ করেছেন তিনি, এই অভিযোগে ভোররাতে তাঁর ব্যারাকপুরের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তারপর কৌস্তভকে গ্রেফতার করা হয়। তখনই নাকি তিনি বলেছিলেন, জামিন পেলে মাথার চুল কামিয়ে ফেলবেন। এটাই তাঁর ‘প্রতিবাদ’।

ব্যাঙ্কশাল কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর সেই প্রতিবাদই দেখা গিয়েছে সেখানে। মাথার চুল কামিয়ে সোজা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কৌস্তভ। তাঁর মুখে তখন প্রতিজ্ঞার মন্ত্র, ‘যতদিন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উৎখাত করতে পারব, ততদিন মাথার চুল রাখব না’। এই গ্রেফতারির প্রতিবাদেই এরপর চুল পুরোপুরি কামিয়ে ফেলেন তিনি।

অবশ্য বাংলার রাজনীতিতে এমন দৃশ্য এর আগেও ঘটেছে। তখন ছিল ইন্দিরা গান্ধীর রাজত্ব। ৬ অক্টোবর, ১৯৭৫। এরকমই এক ভোররাতে কলকাতার একটি বাড়িতে টোকা পড়েছিল। সেখানে থাকতেন লেখক, সাংবাদিক গৌরকিশোর ঘোষ। নতুন করে তাঁর পরিচয় দেওয়া ধৃষ্টতা। দরজা খোলার পর দেখা গেল, বাইরে পুলিশ। ভেতরে গৌরকিশোরের ঝোলার ভেতর ‘কলকাতা’ পত্রিকার নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংখ্যা। পুলিশের সেটাই দরকার ছিল। সোজা তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল থানায়। এই ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিচারকই তাঁর মামলা খারিজ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লির ‘বিশেষ নির্দেশে’ পরে গৌরকিশোর ঘোষকে জেলে যেতে হয়।

ঠিক তার কয়েকমাস আগের কথা। ৩০ জুন, ১৯৭৫। পাঁচদিন আগে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। প্রেস সেন্সরশিপও জারি হল। সরকারের বিরুদ্ধে কোনওরকম কিছু লেখা যাবে না। এটা তো স্বাধীনতা হরণ! প্রতিবাদ করলেন গৌরকিশোর ঘোষ। কী সেই প্রতিবাদ? রাতারাতি মাথা কামিয়ে ফেললেন তিনি! মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অর্থ অস্তিত্বকেই হত্যা করা – এমনটাই বলেছিলেন তিনি। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে অনেকটা বছর। ঘটনা পরম্পরা আর প্রতিবাদের রাস্তা এখনও যে খুব একটা বদলায়নি, তা বলাই বাহুল্য।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।