'নেতা নয়, কংগ্রেস দল চালাচ্ছে আরবান নকশালেরা'- কেন বলছেন মোদি?

Narendra Modi: কংগ্রেস নেতারা নাকি মুখে রূপোর চামচ নিয়ে জন্মেছেন। গরিবদের জন্য কংগ্রেসের মনে কোনও রকম সহানুভূতি নেই, তোপ মোদির।

Sohini Das
৩ মিনিট
'নেতা নয়, কংগ্রেস দল চালাচ্ছে আরবান নকশালেরা'- কেন বলছেন মোদি?

'আরবান নকশাল' বা 'শহুরে নকশাল। শব্দটা খুব একটা অচেনা নয়। এতদিন কবি, সাহিত্যিক, আইনজীবী থেকে শুরু করে সাংবাদিক বা সমাজকর্মীদের নামের আগে প্রায়শই এই শব্দবন্ধ বসে যেতে দেখেছি আমরা। যার জন্য বিনাদোষে বছরের পর বছর ধরে জেলে পচেছেন সমাজের সেই সব বিশিষ্ট মানুষ। কবি ভারভারা রাও থেকে শুরু করে আউনজীবী সুধা ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী অরুণ ফেরেরা, সাংবাদিক গৌতম নভলখা- এমন অসংখ্য নাম রয়েছে সেই তালিকায়। যাদের নামের আগে অবলীলায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে শহুরে নকশালের তকমা। তবে এবার আর ব্যক্তিবিশেষকে নয়, গোটা কংগ্রেস দলকেই আরবান নকশাল বলে দেগে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ভোপালের সভায় এমনই আক্রমণ শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর মুখে।

আজ বলে নয়, যখনই সময় পেয়েছেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন নরেন্দ্র মোদি। তা রাজনীতির আঙিনায় সেটা কোনও নতুন ব্যাপার নয়। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ লেগেই থাকে বিভিন্ন দলের মধ্যে। এই মূহূর্তে দাঁড়িয়ে বিজেপির সবচেয়ে বড় বিরোধী একক দল যদি কেউ থেকে থাকে, তা হল কংগ্রেস। দেশ জুড়ে বিজেপিকে রুখতে একজোট হয়েছে দেশের সমস্ত বিরোধী দল। সেই ইন্ডিয়া স্বাভাবিক ভাবেই এখন মস্ত মাথাব্যথার কারণ বিজেপির কাছে। আর সেই জোটেও মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে কংগ্রেস। ফলে ভোটমুখী দেশে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে বিষোদ্গার করবেই বিজেপি, তাতে আর আশ্চর্য কি!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অভিজ্ঞতাই পুঁজি! ভারতের সব জেলায় একরাত থেকেছেন, দাবি নরেন্দ্র মোদির

PM Modi and RSS : ২০১৬ সালের পাওয়া শেষ হিসেব বলছে দেশে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের শাখা রয়েছে ৫৬৮৫৯টি।

সোমবার ভোপালের একটি সভায় গিয়ে কংগ্রেসের উপর এক হাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস দলটা নাকি আর নেতারা চালান না। চালায় আদতে আরবান নকশালেরা। এখানেই শেষ নয়, মোদির কথায়, কংগ্রেসের সমস্ত ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে গিয়েছে। যাঁরা কংগ্রেস দলটির তৃণমূল স্তরের নেতা, তাঁরা সকলে মুখ বন্ধ করে বসে আছেন। প্রথমে কংগ্রেস নষ্ট হয়েছে, তার পর দেউলিয়া হয়েছে, আর এখন সেই দল চালানোর কনট্র্যাক্ট অন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে। দলটা আর দলের নেতারা চালান না। বরং সমস্তটাই হয় বাইরে থেকে। স্লোগান থেকে শুরু করে দলের নীতি, সবটাই নির্ধারণ করছে শহুরে নকশালরা। ভোপালের কার্যকর্তা মহাকুম্ভে গিয়ে এমনটাই দাবি করলেন এবার প্রধানমন্ত্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদিকে ছাপিয়ে যাবেন আদিত্যনাথ? জনপ্রিয়তায় কোথায় দাঁড়িয়ে যোগী?

Yogi Adityanath Follower: নরেন্দ্র মোদির পর গত ৩০ দিনে সবচেয়ে বেশি অনুগামী বেড়েছে যোগী আদিত্যনাথের।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সিংহভাগ জুড়েই ছিল কংগ্রেস বিরোধিতা। কংগ্রেস নেতারা নাকি মুখে রূপোর চামচ নিয়ে জন্মেছেন। গরিবদের জন্য কংগ্রেসের মনে কোনও রকম সহানুভূতি নেই বলেও তোপ দেগেছেন মোদি। সে কারণেই গরিব মানুষের বস্তি কংগ্রেস নেতাদের ফটোশুটের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। দিন কয়েক আগেই কুলিদের সঙ্গে কুলিদের মতো পোশাক পরে ছবি দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। নিন্দুকেরা অনেকেই সে ছবি দেখে 'যেমন খুশি সাজো' বলে আওয়াজ দিয়েছেন। এদিনের বক্তৃতায় নাম না করে সেই ব্যাপারটি নিয়েই কংগ্রেসকে কোণঠাসা করছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার দেশের উন্নতি করে চলেছেন ক্রমাগত, পাশাপাশি বিশ্বের সামনে ভারতকে বড় মুখ করে তোলার চেষ্টাতেও কোনও ফাঁক রাখছে না তারা। তিনি জানান, তাঁর কাছে দেশের মানুষের উপরে আর কিছুই নয়। তাদের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, তা দেখাই কাজ বিজেপি সরকারের।

এদিন বিজেপি কর্মীদের নিয়ে ওই বৈঠকে দলের সমস্ত কর্মীকে নিজেদের একশো শতাংশ দেওয়ার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্য়প্রদেশের বিধানসভা ভোটে যেন মধ্যপ্রদেশের একটিও আসন হাতছাড়া না হয়, তার জন্য জানপ্রাণ লড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি কর্মীদের। আগামী পাঁচ বছরও যাতে মধ্যপ্রদেশে বিজেপি-রাজত্ব কায়েম থাকে, তা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই ময়দানে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বছরই মধ্যপ্রদেশ-সহ আরও চার রাজ্যে ভোট। গত ভোটে বিজেপি নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারেনি। নিরঙ্কুষ জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। ফলে চিরচেনা সেই বিধায়ক কেনাবেচার খেলা খেলে তবে ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে পেরেছে বিজেপি। ভোটে জিতে সে সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন কমলনাথ। সেই সময় ঘোড়া কেনাবেচা করে বিস্তর খেটে মধ্যপ্রদেশে নিজেদের ক্ষমতা কায়েম করেছিল বিজেপি। তবে এখন হাওয়া বদলেছে। ইন্ডিয়া জোটের মাধ্যমে কংগ্রেস ক্রমশ আরও বাহুবলী হচ্ছে। সেই জোট, যা কার্যত ঘুম কেড়েছে বিজেপির। এত সব ঝামেলার মধ্যে ওই সব বিধায়ক কেনাবেচার গোলযোগে না ঢুকে সরাসরি জয় চাইছে মোদি সরকার। আর সেই জন্য গা গরমের প্রথম পর্বটা এবার ভোটমুখী ভূপাল থেকেই শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।