দীপাবলি এবং দিওয়ালি-র মধ্যে মূল পার্থক্য কী? আজও যা অনেকেরই অজানা

Diwali vs Dipabali: অনেকেই ভাবেন, দীপাবলিকে হিন্দিতে দিওয়ালি (Diwali) বলে। কিন্তু দীপাবলি এবং দিওয়ালির মধ্যে অনেক সাদৃশ্য থাকলেও একটি মূল বৈসাদৃশ্য আছে।

Arunava Nag Roy
৪ মিনিট
দীপাবলি এবং দিওয়ালি-র মধ্যে মূল পার্থক্য কী? আজও যা অনেকেরই অজানা

দুর্গাপুজো এবং লক্ষ্মীপুজোর পর বাঙালির মনে যে পুজো-শেষের বিষাদ জমেছিল তা কাটিয়ে ফেলছে কালীপুজোর আমেজ। কালীপুজোর দিন স্বাভাবিকভাবেই আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবসহ অনেকের শুভেচ্ছা বার্তা আসে। আর সেই শুভেচ্ছাবার্তায় ‘Happy Diwali’ বলার রেওয়াজও বিদ‍্যমান। ক্যালেন্ডার দেখলে বুঝতে পারবেন, দিওয়ালি আসলে দীপাবলির পরের দিন পালিত হয়। এ-বছর ২৪ অক্টোবর দীপাবলি বা কালীপুজো এবং ২৫ অক্টোবর দিওয়ালি। অনেকেই ভাবেন, দীপাবলিকে হিন্দিতে বুঝি দিওয়ালি (Diwali) বলে। কিন্তু দীপাবলি এবং দিওয়ালির মধ্যে অনেক সাদৃশ্য থাকলেও একটি মূল বৈসাদৃশ্য আছে।

উত্তর ভারতীয় প্রথায় দিওয়ালি আসলে পাঁচ দিনের উৎসব। এই পাঁচ দিনের উৎসব বাংলার অঙ্গীভূত হয়েছে বটে, তবে তার কিছুটা পরিবর্তন ও পরিমার্জন ঘটেছে এই বাংলায় এসে। দিওয়ালি মূলত পাঁচ দিনের একটি উৎসব। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে হলো, ধনতেরস বা ধনত্রয়োদশী, নরক চতুর্দশী বা ভূত চতুর্দশী, কার্তিক অমাবস্যায় কালীপুজো বা দীপাবলি, লক্ষ্মী-গণেশের পুজো, এবং গোবর্ধন পুজো বা অন্নকূট।

কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে উৎসব শুরু হয় ধনতেরস দিয়ে। সারা ভারতে এই দিন পালিত হয় ধনতেরস। এই তিথিতে লক্ষ্মী, কুবের ও যমের পুজো করা হয়। মনে করা হয়, এই দিনেই হয়েছিল সমুদ্রমন্থন। এই সমুদ্রমন্থনের সময়ে যাবতীয় দৈব সামগ্রী এবং অমৃতের সঙ্গে উঠে এসেছিলেন মা লক্ষ্মী। তাই এই দিন ধন-সম্পদের জন্য মানুষ লক্ষ্মীপুজোও করে থাকে। একইভাবে কুবেরের কাছে থাকে দেবতাদের সম্পদ। তাই ধন-সম্পদের জন্য ওইদিন কুবেরের পুজোও প্রচলিত। মনে করা হয়, এই দিন কোনও ধাতুর দ্রব্য কিনলে তার মূল্য বৃদ্ধি পায় ১৩ গুণ। একই সঙ্গে এই দিন বাড়ির প্রবেশপথে দরজার দুই দিকে মাটির প্রদীপ জ্বালানো হয়। ধনতেরসের দিন যমরাজের-ও আরাধনা করা হয়।

এর পরের দিন অর্থাৎ কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিন পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। এইদিন অনেকে বাড়িতে বা বাড়ির ছাদে আকাশ-প্রদীপ জ্বালান। মনে করা হয়, এই প্রদীপের আলো পূর্বপুরুষদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে, তারা এসে বর্তমান প্রজন্মকে আশীর্বাদ দেন। এছাড়াও সেদিন চোদ্দ ভুবনের অধীশ্বরী দেবীর উদ্দেশে ১৪ দীপ দান করা হয় এবং চোদ্দশাক খাওয়ার রীতি রয়েছে। এছাড়াও ভূত চতুর্দশীর দিন অনেক পরিবারের চোদ্দ শাক খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। এই চোদ্দ শাক হলো- ওল, কেঁউ, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হেলেঞ্চা, পলতা, শুলফা, গুলঞ্চ, ভাঁট পাতা, শুষনি শাক।

এর পরের দিন বাংলায় পালিত হয় কালীপুজো। প্রতি বছর দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে মা কালীর আরাধনা করা হয় এখানে। পৌরাণিক মতে দীপাবলির দিনই অযোধ্যায় ফিরেছিলেন রামচন্দ্র সীতাকে নিয়ে। তাঁদের ঘরে ফেরার আনন্দে মেতে উঠে দেশবাসী আলোর রোশনাইতে। মূলত উত্তর ভারতে এবং হিন্দি বলয়ে এই দিন অথবা এর ঠিক পরের দিন, সুখ এবং সমৃদ্ধির জন্যে ঘরে ঘরে পুজো হয় লক্ষ্মী-গণেশের। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় অনেকের বাড়িতে, এদিন অলক্ষ্মী তাড়িয়ে মা লক্ষ্মীকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এবং সেই উপলক্ষে লক্ষ্মীপুজো পালন করা হয়। অনিষ্টের ওপরে ভালোর জয়, অন্ধকারের ওপরে আলোকপাত এবং অজ্ঞতার ওপরে জ্ঞান লাভ করা। এই দিনগুলোতে অফিস, মন্দির এবং দোকানপাট, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, সবকিছু আলোয় আলোয় ভরিয়ে তোলা হয়। দিওয়ালি পালনের সময় ‘দিয়া’ বা মাটির তৈরি প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-বয়স নির্বিশেষে মানুষ আনন্দ করেন, বাজি ফাটান এবং রকমারি রঙের ফানুস আকাশে ওড়ান। এই সময়ে পরিবার-পরিজন এবং তাদের বন্ধুরা নাচ-গান করে, মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করে এবং উপহার বিনিময় করে। এছাড়াও অনেকের বাড়িতে আবির দিয়ে সুন্দর আলপনা বানানো হয়, যাকে ‘রঙ্গোলি’ বলা হয়। দক্ষিণ ভারতেও দীপাবলি উপলক্ষে আলপনা বানানো হয়। তবে আবির দিয়ে নয়, রংবেরঙের কুচো ফুল দিয়ে। একে ‘কোলাম’ বলে। রঙ্গোলি তৈরির উদ্দেশ্য কেবল সজ্জা নয়, প্রতিটি বাড়ির ভেতরে দেবী লক্ষ্মী এবং অন্যান্য অতিথিদের স্বাগত জানানোও বটে।

রঙ্গোলি

জ্যোতিষ-শাস্ত্র অনুযায়ী দিওয়ালি বা দীপাবলি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এটি নতুন চন্দ্র-বছরকে চিহ্নিত করে এবং মনে করা হয় ফসল কাটার জন্য এটিই যথাযথ সময়। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী এইদিন গ্রহের অবস্থানগুলিও খুব অনুকূল হয় এবং তা সকলকে সম্পদ এবং সমৃদ্ধি প্রদানে সহায়তা করে। দীপাবলির উৎসবের দিনগুলিতে, সূর্য এবং চন্দ্র একত্রিত হয়, অর্থাৎ এই সময়টি সম্প্রীতি প্রচার করে। তাই এই উৎসব মানুষের জীবনে ভালবাসা, সম্পদ, আনন্দ, সুস্বাস্থ্য ও সুখের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

গোবর্ধন পর্বত

দিওয়ালির পরদিন পালিত হয় গোবর্ধন উৎসব। এই উৎসবে গোবর্ধন পর্বতকে পুজো করা হয়। শ্রীকৃষ্ণের মায়া বুঝতে না পেরে ক্রুব্ধ হয়েছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র। প্রতিশোধ নিতে বৃন্দাবনের ওপর অবিরাম বর্ষণ শুরু করেন তিনি। সকল বৃন্দাবনবাসীকে বাঁচাতে এবং দেবরাজ ইন্দ্রকে যোগ্য জবাব দিতে নিজের ক্ষমতা দেখান শ্রীকৃষ্ণ। ভাগবত পুরাণ অনুসারে মহাপ্রলয়ের রাতে শ্রীকৃষ্ণ হাতের কড়ে আঙুল দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন গোবর্ধন পর্বত। এই গোবর্ধন পর্বতের নিচেই আশ্রয় নিয়েছিলেন সমগ্র বৃন্দাবনবাসী।

সেই থেকে গোবর্ধন পর্বত এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতি বছর পালিত হয় এই গোবর্ধন উৎসব। এই উৎসবে মূলত ভাতকে (অন্ন) পাহাড়ের মতো চূড়া (কূট) করে দেওয়া হয় বলে একে ‘অন্নকূট’ উৎসবও বলা হয়। প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে এই পুজো হয়ে থাকে। তবে আসল কথা হলো দীপাবলি হোক বা দিওয়ালি, সবার জীবনে আসুক সুখ, ঘুচে যাক সকল অন্ধকার, সকল যন্ত্রণা, জ্বলুক শান্তির প্রদীপ, ভালবাসার প্রদীপ, এমনটাই প্রার্থনা করে সকলে।

লিখেছেন
Arunava Nag Roy
Arunava Nag Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মহালয়ার ভোরে বাঙালির ঘুম ভাঙায় যে কণ্ঠ, কীভাবে জন্ম নিল সেই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’?

Mahishasura Mardini history Birendra Krishna Bhadra; ধূপ-ধুনোর গন্ধে অর্কেস্ট্রাদলের এক মুসলিম যন্ত্রশিল্পীর চোখ জ্বলে ওঠায় তিনি সশব্দে হাঁচি দিয়ে বসলেন! লাইভ সম্প্রচার চলকালীন সেই অনভিপ্রেত শব্দ সোজা মাইক্রোফোনে ধরা পড়ল। স্টুডিওর সবাই দম আটকে হাসি চেপে কোনোমতে সামাল দিলেন সেই মুহূর্ত। সেকালের রেডিও স্টুডিওতে ধর্ম বা জাতপাতের কোনো দেওয়াল ছিল না;

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই কেন পেলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার?

Navi Pillay Nobel Peace Prize 2026: ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। তাঁর ঠকুমা-ঠাকুরদা ১৮৯০-এর দশকে ভারত থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাতাল প্রদেশের চিনি বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন।

বাড়িতে এক নারীর আগমন, তারপর স্বপ্নাদেশ: যেভাবে শুরু হয়েছিল দে বাড়ির দুর্গাপুজো

Dey Bari Durga Puja Bhawanipur: কথিত আছে, একবার ২৬ নম্বর চন্দ্রনাথ স্ট্রিটের বাড়িতে লালপাড়-সাদা শাড়ি পরিহিতা একজন সধবা নারী তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই বাড়িতে এসেছিলেন চাল-ডাল ভিক্ষা করতে। বাড়িরই এক সদস্যা অন্দরমহল থেকে চাল-ডাল নিয়ে আসার পর আর সেই সধবা মহিলাকে দেখতে পাননি।

শ্রীরামকৃষ্ণের চিকিৎসক গঙ্গাপ্রসাদ সেনের বাড়ির দুর্গাপুজো: পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্য যেভাবে এল কুমারটুলিতে

Gangaprasad Sen Bari Durga Puja: গঙ্গাপ্রসাদ সেন ছিলেন বিখ্যাত আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবও তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসতেন। তাঁর বাবা নীলাম্বর সেন অবিভক্ত বাংলার এক নামকরা কবিরাজ ছিলেন। কলকাতায় আসার পর সেন পরিবার কুমারটুলিতে বসতি গড়ে এবং সেখানেই ১৮৫৭ সালে শুরু হয় দুর্গার আরাধনা।

১৩ বছর বয়সে ফুটপাথে থাকা, কার্গিলে জওয়ানদের পাশে, ‘পরিন্দা’য় আগুনে পুড়ে যাওয়া: নানা পাটেকর আসলে কেমন মানুষ ছিলেন?

Nana Patekar unknown facts: প্রকাশ রাজের ভাষায়, নানা কেবল একজন প্রবীণ সহকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন এমন এক অভিভাবক-বন্ধু, যাঁর সঙ্গে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়া যেত, আবার একই টেবিলে বসে তাঁর হাতের রান্না করা খাবার ভাগ করে নেওয়া যেত। মদ বা মুম্বইয়ের তথাকথিত হাই-প্রোফাইল পার্টি কালচারের প্রতি তাঁর চিরকালই ছিল তীব্র অনীহা।

নানা পাটেকর: ফিরে দেখা অনন্য জীবন

Nana Patekar: ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন বোম্বে রাজ্যের রায়গড় জেলার মুরুদ-জানজিরায় এক মারাঠি পরিবারে জন্মেছিলেন বিশ্বনাথ পাটেকর। পরে সিনেমার দুনিয়ায় তিনি হয়ে ওঠেন ‘নানা পাটেকর’।

মাছ-ভাত খেয়েই বোধন, দশমীতে মৎস্যমুখ! বাগবাজার হালদার বাড়ির সাড়ে চারশো বছরের পরম্পরা

Bagbazar Haldar Bari Durga Puja: পুজোর ইতিহাসের সূত্রপাত ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে সাহেবপুর বা রহনপুরে। হালদার পরিবারের পূর্বপুরুষরা চন্দননগরের নোয়াপাড়ার জমিদার ছিলেন। তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ কৃষ্ণপ্রসাদ হালদার প্রমোদভ্রমণে ওড়িশার ওই এলাকায় গেলে স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে সত্যিই উদ্ধার হয় মহিষমর্দিনীর কষ্টিপাথরের মূর্তি।

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।