সুবর্ণরেখার তীরে সর্বমঙ্গলা দেবী! শতাব্দী প্রাচীন কেশিয়াড়ির মন্দিরের অজানা কাহিনি

Bengal Durga Puja: দেবী দুর্গার আরেক রূপ সর্বমঙ্গলা। পুজোর সময় সকল নিয়ম নীতি মেনে আজও পুজো হয়। শুধু গ্রামের মানুষ নয়, বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন একবার দেবীকে দর্শন করে নিতে।

Mukut Tapadar
২ মিনিট
সুবর্ণরেখার তীরে সর্বমঙ্গলা দেবী! শতাব্দী প্রাচীন কেশিয়াড়ির মন্দিরের অজানা কাহিনি

দুর্গার জাগরিত শক্তি ঐশ্বরিক, যার কাছে এই জগতের সুরক্ষার ভার। আর দেবী হলেন- 'শক্তিরুপেণ সংস্থিতা'। মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির মঙ্গলামাঁড়ো এলাকায় পাথরকে দেবী রূপে গণ্য করা হয়। বলা হয় এক বেনেঘরের বৌ সর্বমঙ্গলা দেবীর মায়ায় পাথর হয়ে যান। কেশিয়াড়ির শ্রী শ্রী সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দির বহু শতাব্দী প্রাচীন।

মন্দিরটি উড়িষ্যার সীমান্তের কাছে। একটু দূরে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। ওড়িশা রীতিতে নির্মিত মন্দির। নাটমণ্ডপ পেরিয়ে গর্ভগৃহ। মাথায় আছে আমলক। গর্ভগৃহতে দেবীর অধিষ্ঠান। দেবী দুর্গার আরেক রূপ সর্বমঙ্গলা। পুজোর সময় সকল নিয়ম নীতি মেনে আজও পুজো হয়। শুধু গ্রামের মানুষ নয়, বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন একবার দেবীকে দর্শন করে নিতে।

সুবর্ণরেখা নদী

এক সময় এই সমস্ত অঞ্চলে গঙ্গাবংশের রাজারা বহুকাল রাজত্ব করেছেন। মন্দিরের সামনে ওড়িয়া ভাষায় বিভিন্ন ফলক দেখা যায়। এই সকল জায়গা বহু উত্থান পতনের সাক্ষ্য বহন করছে। কেশিয়াড়ির বিখ্যাত শোলার কাজ। মালাকার বংশের সকলে এই কাজ করেন।

বিস্তারিত কমেন্টে- কন্ঠে উত্তম থেকে লতা-আশা! ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র তবু অদ্বিতীয়

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, একসময় শৈব ধর্মের মানুষের প্রাধান্য ছিল এই সকল অঞ্চলে। শোনা যায়, কেশিয়াড়ির ৩৬টি গ্রামের মধ্যস্থলে একটি করে শিবলিঙ্গ ছিল। গাজনের দিন খুব বড় মেলা হয়। শ্রী শ্রী সর্বমঙ্গলা দেবী চতুর্ভুজা। অসুরকে বিনাশ করছেন। দেবীর উদ্দেশে পশুবলি দেওয়া হয়। এখানে একটি দেবী কুন্ড আছে।

দেবীকে পুজো দেবার জন্যে মিষ্টি বিক্রি

রাজা মানসিংহের আমলে ১৬০৪ খ্রিস্টাব্দে চক্রধর ভুঁইয়া সর্বমঙ্গলা দেবী মন্দির ও জগমোহন প্রতিষ্ঠা করেন। এক সময় এই অঞ্চল বৌদ্ধ তান্ত্রিকদের অধীনে ছিল। পরে হিন্দুদের স্থান হয়। মন্দিরে নানা প্রথায় দুর্গাপুজোর সময়, আচার রীতি মেনে পুজো করা হয়। রাজা মানসিংহ কেশিয়াড়ির রাজস্ব কেন্দ্রে শাহ সুলতান নামে একজন শাসন কর্তাকে নিযুক্ত করেন। তিনিও এই মন্দিরের নির্মাণ কাজের খোঁজ খবর নিতেন। এলাকায় সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দির থাকায় অন্যান্য কোনা মূর্তি পুজো এখানে হয় না।

বহু ঐতিহ্য আজও টিম টিম করে এখানে জ্বলছে। শারদোৎসব কেন্দ্র করে মন্দির চত্বর জমজমাট হয়ে ওঠে। পুজোব্যাপী প্রতিদিন মাকে নিয়ম করে ভোগ দেওয়া হয়। আজও এই পুজোকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন। সকলে দেবীকে পুজো দিয়ে ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করেন। মায়ের আশীর্বাদ সকলের উপর বর্ষিত হয়। অতীতের বিবর্ণ পাতায় কেশিয়াড়ির সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দিরে বহু প্রাচীন ইতিহাস রক্ষিত আছে।

লিখেছেন
Mukut Tapadar
Mukut Tapadar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।