রাইরাজা সাজে রাধা, শান্তিপুর থেকে মণিপুর, রাসের রূপমাহাত্ম্য

Rash Purnima 2025: ভক্তের সঙ্গে ভগবানের একান্ত মিলন এই রাস। বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, দ্বাপরে কৃষ্ণের সমস্ত লীলার মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট লীলা হলো রাস। শান্তিপুর এবং নবদ্বীপ ছাড়া মণিপুরেও পালিত হয় এই উৎসব।

Ranjini Banerjee
৫ মিনিট
রাইরাজা সাজে রাধা, শান্তিপুর থেকে মণিপুর, রাসের রূপমাহাত্ম্য

'রস্যতে অনেন ইতি রাস্যঃ' অর্থাৎ যার দ্বারা রস জন্মায় তাই-ই রাস। এই রস হল সার নির্যাস, আনন্দ, আহ্লাদ, অমৃত ও ব্রহ্ম। নবরসের মধ্যে মূলত 'মধুর' রসেরই প্রাধান্য থাকে রাসে। যা দেখবার জন্য দেবদেবীরা সকলেই নাকি খুব উৎসুক থাকতেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর কোনও পুরুষের প্রবেশ ছিল সেখানে। পরম বিষ্ণুভক্ত শিব একবার কৌতূহল দমন না করতে পেরে গোপিনীর ছদ্মবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন বৃন্দাবনে। সেদিন ছিল কার্তিক পূর্ণিমা। জ্যোৎস্নায় থই থই করছিল নিধুবন (মতান্তরে নিধিবন)। যমুনার পারে রাধা-সহ গোপিনীরা তখন এক অলৌকিক নৃত্যে রত তাদের প্রিয় কৃষ্ণের সঙ্গে। হঠাৎ তাল ভঙ্গ হলো। শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারলেন, তিনি ছাড়াও আরও একজন পুরুষ উপস্থিত হয়েছেন সেখানে। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনের যে দৃশ্য কারও দেখবার কথা নয়, সেখানে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা দেখে রাস ভেঙে চলে গেলেন শ্রীকৃষ্ণ। কিন্তু রাজা বিনা রাজ্য কীভাবে চলবে? তখন সব গোপিনীরা মিলে সেদিন রাধাকে পরালেন রাজবেশ, সাজিয়ে তুললেন কৃষ্ণের সাজে। সেই একদিন কৃষ্ণের বদলে রাই রাজা হয়েছিল।

রাইরাজা নগর পরিভ্রমণে, ছবি তুলেছেন রথীন দে

সেই থেকে আজও রাস উৎসবে প্রায় প্রতিটি গোস্বামী বাড়ির বিগ্রহের সঙ্গে চলেন রাইরাজা, নগর পরিভ্রমণে। শান্তিপুরের ভাঙা রাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য রাধার এই 'রাইরাজা' রূপ। ব্রাহ্মণ পরিবারের কোনও সুন্দরী মেয়েকে বিশেষত বালিকা বা সদ্য কিশোরীকে নব-বধূবেশে সাজিয়ে অন্যান্য গয়নার সঙ্গে ফুলের গয়না পরিয়ে সাজিয়ে গোটা শহর ঘোরানো হয় আজও। বেলোয়ারি কাচের ঝাড়লন্ঠন আর ফুল দিয়ে সাজানো হাওদায় প্রথমে থাকে রাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তি, তার পেছনে থাকে রাইরাজা। তার পেছনে দুটি কিশোর-কিশোরী রাধা-কৃষ্ণ সাজে এবং এর পেছনে থাকে ময়ূরপঙ্খী, ময়ূরের আকৃতির একটি চতুর্দোলায় দুজন পুরুষ বোষ্টম বোষ্টমী সেজে নাচতে নাচতে গান গায়। ময়ূরপঙ্খীর এই গান উনিশ শতকের লোকসংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এরপরে আসে সঙ বা অন্যান্য মূর্তি। শান্তিপুরের সঙ খুবই বিখ্যাত। জীবিত মানুষ কোনও পৌরাণিক চরিত্র সেজে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। খুব ভালো ভাবে খেয়াল না করলে তা মাটির মূর্তি নাকি সত্যিকারের মানুষ তা বোঝা কঠিন। এর সঙ্গে থাকে ঢাক এবং অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র আর হরেক কিসিমের আলোর বাহার।

রাসমঞ্চ, ছবি তুলেছেন রথীন দে

শান্তিপুরের রাস মূলত তিনদিনের। তিনদিনে তাঁর তিনরকম বেশ। রাজবেশ, রাখালবেশ এবং ফুলবেশ। তৃতীয়দিনে অর্থাৎ ভাঙারাসে ফুলবেশে সেজে শ্রীমতি রাধারানীর সঙ্গে তিনি দেবালয় ছেড়ে পথে নামেন। দ্বাপরে যে রাস স্বয়ং দেবাদিদেবও দেখার অনুমতি পাননি, কলিতে সেই উৎসব সকলকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য, তাঁকে শিবের অবতার বলা হতো। দ্বাপরের সেই ভেঙে যাওয়া রাস পূর্ণ হলো কলিতে এসে। অদ্বৈতাচার্যের বংশজরাই পরবর্তীকালে ছড়িয়ে পড়েছেন শান্তিপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে, প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজ নিজ কুলবিগ্রহ, প্রতিটি বাড়ির কৃষ্ণের নাম ভিন্ন। যেমন, বড় গোস্বামী বাড়িতে তিনি রাধারমণ জীউ। কোথাও তিনি মদনগোপাল, আবার কোথাও তাঁর নাম গোকুলচাঁদ।

গোকুল চাঁদ জীউ, ছবি তুলেছেন রথীন দে

বড় গোস্বামী বাড়ির এই রাধারমণের মূর্তিটির ঐতিহাসিক মূল্যও বড়ো কম নয়। শোনা যায়, পুরীর রাজা ইন্দ্রদুম্ন্যের প্রাসাদে দোলগোবিন্দ নামে পুজো হতো কষ্টি পাথরের এই কৃষ্ণমূর্তির। তারপর বারো ভুঁইয়ার অন্যতম বসন্ত রায় মূর্তিটি এনে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারো ভুঁইয়াদের শায়েস্তা করার জন্য বাংলা আক্রমণ করলে সেই মূর্তির ক্ষতির আশঙ্কায় যশোরাধিপতি বসন্ত রায় ওই বিগ্রহকে তুলে দেন গুরুদেব মথুরেশ গোস্বামীর হাতে। এই মথুরেশ গোস্বামী ছিলেন অদ্বৈতাচার্যের পৌত্র। মথুরেশ গোস্বামী সেই দোলগোবিন্দকে শান্তিপুরে এনে নিজের বাড়িতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন রাধারমণ রূপে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তন্ত্র ও ভক্তির সেতুবন্ধন: শান্তিপুরের কালী আরাধনার ইতিহাস

Kali Puja in Santipur: দুই ভিন্ন ধারা— শাক্ত এবং বৈষ্ণবের মিলনক্ষেত্র এই প্রাচীন নগরী। ইতিহাস, লোকাচার, ঐতিহ্য, আবেগ মিলেমিশে এখানে এ'সময় তৈরি হয় এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ।

কুঞ্জভঙ্গ, ছবি তুলেছেন রথীন দে

ভাঙা রাসের পরের দিন সকালে প্রতিটি গোস্বামী বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় 'কুঞ্জভঙ্গ', অর্থাৎ, কুঞ্জবনে যে রাসলীলা শুরু হয়েছিল নৃত্যের মাধ্যমে, নাট-মন্দির থেকে মূল মন্দিরে ফেরবার আগে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতির যুগল-নৃত্যে তার পরিসমাপ্তি হয়। বিগ্রহকে কোলে নিয়ে ভক্তদের মাঝে নাচানো হয়, এসময় যেকোনও ভক্ত চাইলে ভগবানকে ছুঁয়ে প্রণাম করতে পারে।

নবদ্বীপ থেকে মণিপুর

নবদ্বীপের রাস অবশ্য বৈষ্ণবীয় রাস নয়। এখানে রাসে নানা শাক্ত দেবদেবীর পুজো হয়। দেড়শোর বেশি বিরাট আকারের শাক্ত দেবদেবীদের মূর্তিপুজোর পেছনে ছিলেন নদীয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র। নিজে শাক্ত ছিলেন বলেই হয়তো চাইতেন তাঁর রাজত্বে শক্তি-আরাধনা বাড়ুক। বিশাল আকারের এসব মাটির মূর্তি যারা তৈরি করতেন, তাদের শিল্পকলার বিচার করে তিনি পরে বিভিন্ন পুরষ্কার দিতেন। প্রতি বছর এক বিশাল সংখ্যক পূণ্যার্থীদের দল নবদ্বীপে 'বসা রাস' দেখে মাঝের রাস থেকে আসতে শুরু করেন শান্তিপুরে। তারপর ভাঙারাসের শোভাযাত্রা দেখে ফিরে যান কেউ কেউ। কেউ আবার রকমারি পসরা সাজিয়ে বসেন পরবর্তী একমাসব্যাপী রাসের মেলায়।

মাঝের রাস, ছবি তুলেছেন রথীন দে

ভক্তের সঙ্গে ভগবানের একান্ত মিলন এই রাস। বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, দ্বাপরে কৃষ্ণের সমস্ত লীলার মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট লীলা হলো রাস। শান্তিপুর এবং নবদ্বীপ ছাড়া মণিপুরেও পালিত হয় এই উৎসব। মণিপুরী নৃত্যের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে নানা ধরনের উপাখ্যান জড়িয়ে আছে। এই উপাখ্যানগুলোও মণিপুরী নাচের মতোই চিরায়ত কাহিনীতে পরিণত হয়েছে। মণিপুরীদের নৃত্যগীতের প্রাচীন নমুনা হিসেবে উল্লেখ করা হয় ‘লাউহারাউবা’ নৃত্যকে। ১৭০৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে পামহৈবা মণিপুরের রাজত্ব লাভের পর সেখানে বৈষ্ণবদের আধিপত্য প্রবলতর হয়। রামানন্দীর ভাবাদর্শে বিশ্বাসী বৈষ্ণব-সাধক শান্তি দাস অধিকারীর অনুপ্রেরণায় রাজা পামহৈবা বৈষ্ণব মত গ্রহণ করেন। এরপর তিনি তাঁর মতকে একরকম জোর করেই মণিপুরে প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে এই অঞ্চলে শৈবমতাদর্শ একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়ে। রাজা পামহৈবা অন্য মতের গ্রন্থ ও নিদর্শনও ধ্বংস করে দেন বলে জানা যায়। মণিপুরের বৈষ্ণবরা শিবের পুজোও করতেন। ফলে শিব-পার্বতীর লীলাভিত্তিক নৃত্য ও গীত বিলুপ্ত হয়ে গেল না বটে, কিন্তু বৈষ্ণবভক্তির প্রাবল্যে অন্যান্য দেবদেবীরা গৌণ হয়ে গেলেন।

মণিপুরী রাসনৃত্য

নর্তনরাস

১৭৫৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা চিঙ্‌থাঙ খম্বা বা ভাগ্যচন্দ্র সিংহের শাসনামলে মণিপুরের নৃত্যগীত শিল্প চরম উৎকর্ষতায় পৌঁছয়। তাঁর চেষ্টায় মণিপুরে রাসনৃত্যের প্রবর্তন হয়। কথিত আছে, রাজা স্বপ্নে রাসলীলা করার আদেশ পেয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ নাকি স্বপ্নে তাঁকে জানান, রাজকন্যা বিম্ববতীমঞ্জরীকে রাধা সাজিয়ে শ্রীকৃষ্ণের মূর্তিমণ্ডলীর ভিতরে রেখে নৃত্যলীলা করতে হবে। রাজা তাঁর কন্যাকে রাস-নৃত্য শিখিয়ে, স্বপ্নের আদেশ পালন করেন। কালক্রমে এই নৃত্য রাসনৃত্য নামে মণিপুরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই কাহিনির কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

শৈবযুগে রাসনৃত্য পৃথক নৃত্যশৈলী হিসেবে বিকশিত না হলেও, তালরাস, দণ্ডরাস এবং মণ্ডলরাসের প্রচলন ছিল। ভাগ্যচন্দ্র সিংহ রাসনৃত্যকে নাট্যাঙ্গিকে সাজান। তিনি এই বিষয়ে রচনা করেন 'গোবিন্দ সঙ্গীত লীলাবিলাস'। এই গ্রন্থে নাট্যকে রূপক (প্রাচীন নাট্য) ও রাসক (নৃত্যনাট্য) পর্যায়ে বর্ণনা করেছেন। আগে রাসলীলায় গান, নাচ এবং অভিনয় ছিল। কিন্তু সুসমন্বয়ে তা গ্রথিত ছিল না। তিনি এই গ্রন্থের রাসক অধ্যায়ে রাসনৃত্যের বিভিন্ন আঙ্গিক ও পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করেন। এই গ্রন্থানুসারে রাস নৃত্যকে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করেন। এই ভাগগুলো হলো− মহারাসক, মঞ্জুরাসক, নিত্যরাসক, নির্বেশরাসক ও গোপরাসক।

বর্তমানে এই রাসকগুলো মহারাস, বসন্তরাস, নিত্যরাস, কুঞ্জরাস, গোপরাস বা গোষ্ঠরাস এবং উলুখল রাস নামে পরিচিত। রাজ ভাগ্যচন্দ্রের পৌত্র চন্দ্রকীর্তি সিংহাসনে বসেন ১৮৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর সময়ে রাসনৃত্য আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠে। তিনি প্রথম নর্তনরাসের প্রবর্তন করেন এবং বিলুপ্তপ্রায় 'লাইহারাউবা' নৃত্যকেও ফিরিয়ে আনেন। কালক্রমে জয়দেব, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস প্রমুখ বৈষ্ণব পদকর্তাদের প্রভাব পড়ে রাসলীলার বাণী অংশে। অন্যদিকে বাংলার কীর্তনের প্রভাব পড়ে এর সুরে।

রাস উৎসবকে ফিরে পাওয়া হয়নি বলে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আক্ষেপ ছিল, "তেত্রিশ বছর কেটে গেলেও কেউ কথা রাখেনি।" তবে এই আক্ষেপ না রাখাই ভালো। কে কবে কথা রাখবে তার অপেক্ষায় না থেকে 'নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান'-এর এই ভারতকে চিনতে হলে একবার হলেও ধরতে হবে আস্তিক্যের এই পথটি।

লিখেছেন
Ranjini Banerjee
Ranjini Banerjee
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।