তন্ত্র ও ভক্তির সেতুবন্ধন: শান্তিপুরের কালী আরাধনার ইতিহাস

Kali Puja in Santipur: দুই ভিন্ন ধারা— শাক্ত এবং বৈষ্ণবের মিলনক্ষেত্র এই প্রাচীন নগরী। ইতিহাস, লোকাচার, ঐতিহ্য, আবেগ মিলেমিশে এখানে এ'সময় তৈরি হয় এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ।

Ranjini Banerjee
৫ মিনিট
তন্ত্র ও ভক্তির সেতুবন্ধন: শান্তিপুরের কালী আরাধনার ইতিহাস

নগরের দক্ষিণে গঙ্গা। গঙ্গার প্রবাহ দক্ষিণমুখী। তার সন্নিকটে যে শ্মশান, তা মহাশ্মশান। দিবারাত্র দাহ হয়ে চলেছে শব। যে শক্তি বিনা শিব শব, তাঁর আরাধনার ইতিহাস এখানে বহু প্রাচীন। কখন‌ও শ্যামা রূপে কখন‌ও বামা রূপে। অথচ রাসপূর্ণিমার তিথিতে রাধাকৃষ্ণের লীলা দেখবার জন্যও ভক্তিরসে ডুবুডুবু হয় সে নগর। দুই ভিন্ন ধারা— শাক্ত এবং বৈষ্ণবের মিলনক্ষেত্র এই প্রাচীন নগরী। ইতিহাস, লোকাচার, ঐতিহ্য, আবেগ মিলেমিশে এখানে এ'সময় তৈরি হয় এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ।

অদ্বৈত আচার্যের পৌত্র মথুরেশ গোস্বামী তাঁর মেয়ের হাতটি তুলে দিয়েছিলেন বৃহৎ তন্ত্রসারের রচয়িতা তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের প্রপৌত্র সার্বভৌম আগমবাগীশের হাতে। উদ্দেশ্য ছিল শাক্ত এবং বৈষ্ণব ধারার সহাবস্থান। তাঁর দূরদর্শিতার ফল আজকের শান্তিপুর। মথুরেশ গোস্বামীর অনুরোধে ও সহায়তায় সার্বভৌম নবদ্বীপ ছেড়ে এসে সাধনা শুরু করেছিলেন শান্তিপুরে। গোস্বামীদের বাটি থেকে কিছু দূরে স্থাপন করেছিলেন পঞ্চমুন্ডির আসন। নরকপাল ছাড়াও এই আসনে আরও চারটি প্রাণীর কপালের প্রয়োজন হয়। সাধনায় সিদ্ধিলাভ করার পর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু করেছিলেন এই পুজো। তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ সর্বপ্রথম আদি দক্ষিণাকালীর রূপটি দেখেছিলেন স্বপ্নে। যে মূর্তি গৃহস্থ সাধারণের পূজ্য সেই সৌম্য রূপটি। সার্বভৌম এখানে প্রতিষ্ঠিত করেন দক্ষিণাকালীর সেই মূর্তি, যাঁকে একবার চোখের দেখা দেখবেন বলে ভিড় জমান অগণিত মানুষ। কালীর ধ্যানমন্ত্রে কানের দু-পাশে যে শব-শিশু থাকবার কথা, অন্যান্য স্থানে তা সবসময় দেখা না গেলেও এই মূর্তিতে তা দৃশ্যমান। আগমের ঈশ্বরী তিনি, তাই মানুষ তাঁকে আগমেশ্বরী নামেই চেনে। বর্তমানে মথুরেশ গোস্বামীর বংশধররাই এই পুজোর ঐতিহ্য রক্ষা করে চলেছেন।

তিনি যখন বিসর্জনের পথে র‌ওনা হন, সে দৃশ্য অকল্পনীয়। মিশকালো অন্ধকারে ডুবে যায় চারপাশ। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। বাতাস‌ও যেন স্তব্ধ। কিছুক্ষণ পরে দূরে দেখা যায় এক আলোর বিন্দু। ক্রমে দৃশ্যমান হয় মশালের আগুন। অন্ধকারের বুক চিরে শোনা যায় ঢাকের এক অদ্ভুত শব্দ। ঢাকের চিরাচরিত চেনা শব্দের চেয়ে এ একেবারেই আলাদা। উলুধ্বনি জানান দেয় তাঁর বহু প্রতীক্ষিত আগমনবার্তা। তিনি চলেছেন বিসর্জনের পথে। আগুনের রঙ তখন তাঁর সর্বাঙ্গে। জগতে কোথাও আর কিছুই যেন থাকে না, অন্ধকারের মধ্যে আলো হয়ে থাকেন তিনি এবং সামনে তাঁর ভক্ত।

মহিষখাগী, ছবি তুলেছেন রথীন দে

আরেকজন নবমুন্ডের (অন্যমতে পঞ্চমুন্ড) উপর অধিষ্ঠাত্রী। এক তান্ত্রিককে স্বপ্নাদেশে বলেছিলেন, মহিষের রক্ত দিয়ে তাঁর পুজো করতে হবে। সেই থেকে তাঁর পুজোর শুরু। একবার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে ১০৮টি মহিষ বলি দেওয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে সময় প্রায় ভোর হয়ে যায়। ফলত পুজো ভাগ করতে হয় দুভাগে। পুজোর দিন ভোরবেলায় মায়ের দধিমঙ্গল হয়, তারপরে শুরু হয় প্রথমভাগের যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় ভাগ হয় পরের দিন, সেদিন মাকে ভোগ দেওয়া হয় পান্তা ভাত এবং খয়রা মাছ দিয়ে। বিকেলবেলায় ভক্তদের কাঁধে চেপে তিনি চলেন নিরঞ্জনের উদ্দেশ্যে। পথে থামার নিয়ম নেই, বিরাটাকার মাতৃমূর্তি নিয়ে বেহারারা দৌড়ে চলে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়ে চলেন ভক্তরা। আগমেশ্বরী এবং মহিষখাগীর নিরঞ্জনের সময় এবং পথ কিছু ভিন্ন। শোনা যায়, এঁরা যতবার মুখোমুখি হয়েছেন, দূর্ঘটনা ঘটেছে।

আগমেশ্বরী, ছবি তুলেছেন রথীন দে

বর্তমানে গঙ্গা সরে গেছে অনেকটাই কিন্তু একসময় ঘাটের পাশে যন্ত্রে পূজিত হতেন ঘাটচাঁদুনী। একচন্দ্রে উষাকালে ঘাটের পাশে পুজো হতো বলে মায়ের নাম ঘাটচাঁদুনী। লিখিত ইতিহাসে রয়েছে ৮৯২ বঙ্গাব্দের উল্লেখ। প্রথমে মা শ্মশানকালী রূপে পুজো পেলেও এখন নিজের মন্দিরে দক্ষিণাকালীর আদি রূপটিতেই মায়ের মূর্তি রয়েছে। বিখ্যাত অভিনেতা নীতিশ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো এটি। মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ায় এখানে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে।

ঘাটচাঁদুনী, ছবি তুলেছেন অর্ধেন্দু দে

তবে আর‌ও দুজন চাঁদুনী মা আছেন শান্তিপুরে। যাঁদের নামেই সেই বাড়ির নাম চাঁদুনী বাড়ি। নবদ্বীপের কাশীনাথ সার্বভৌম শান্তিপুরে এই পুজোর প্রচলন করেন। তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাদেশ পান পূর্ণিমাতে মায়ের মূর্তি তৈরি করার। আজও বাড়ির বড় বৌ সর্বপ্রথম মাটি দেন মায়ের মূর্তিতে। এবাড়ির বাইরে এবং ভেতরে যথাক্রমে বার-চাঁদুনী এবং ঘর-চাঁদুনীর পুজো হয়। এই পুজোর কিছু অভিনবত্ব রয়েছে। বাড়ির মেয়ের বিয়ের রীতিতে মাকে পুজো করা হয়। আগের দিন থেকে বসে নহবৎ। ভোগের সাজসজ্জাও দেখবার মতো। যতরকম ফল পাওয়া সম্ভব তা তো থরে থরে সাজানো থাকেই কিন্তু আবহাওয়ার কারণে যেসব ফল পাওয়া অসম্ভব, তাও থাকে। সন্দেশ দিয়ে বানানো সেসব ফল এবং আর‌ও নানারকম সামগ্রী সাজিয়ে মাকে ভোগ দেওয়া হয়। ঠিক যেমন ভাবে বিয়ের তত্ত্ব সাজানো হয়, তেমনি ভাবেই ভোগ সাজানোর নিয়ম এখানে। এখন‌ও পাঁঠাবলির রীতি রয়েছে, যদিও তার সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে। পাটে ওঠানোর সময় এবং নিরঞ্জনের সময় বার বার থামিয়ে নিবেদন করা হয় বিভিন্ন রকমের ভোগ। যাত্রাপথে চামর দিয়ে বাতাস করা হয়, মায়ের যাতে কোনও কষ্ট না হয়। বাড়ির পুজোগুলি প্রায় প্রত্যেকটির ইতিহাস কমবেশি ৪০০-৫০০ বছরের।

বার-চাঁদুনী, ছবি তুলেছেন অর্ধেন্দু দে

দক্ষিণা কালী ছাড়াও এখানে ডাকাত কালী পুজোর যথেষ্ট রমরমা। মায়ের এই রূপে তাঁর বাঁ-পা প্রথমে থাকে শিবের উপর, তাই তিনি বামা। এবং শিব থাকেন আড়াআড়ি ভাবে। অর্থাৎ দক্ষিণাকালীর রূপের চেয়ে এই রূপ কিছুটা আলাদা। এই রূপের মিল রাখা হয়েছিল সিঙ্গুর রাজবাড়ির কালীমায়ের রূপের সঙ্গে। কিন্তু দক্ষিণাকালীর আরাধনার মধ্যে বামাকালীর এই আরাধনার ইতিহাসের সঙ্গে জুড়ে আছে বঙ্গভঙ্গের উত্তাল সময়। সে'সময় মানুষকে একত্রিত করার জন্য 'বোম্বেট মিলিটারি' বলে খ্যাত একদল তরুণ শুরু করে এই পুজো। দেশে তখন দাঙ্গা চলছে হিন্দু-মুসলমানের। একবার সেই পুজোর স্থান বদলায়, বাংলা স্কুল বলে একটি স্কুলের সামনে একবার সেই বোম্বেট কালীর পুজো হয়।

বোম্বেট কালী, ছবি তুলেছেন অর্ধেন্দু দে

তারপরের বছর আবার তিনি যথাস্থানে ফিরে গেলেও বন্ধ হয়নি ঐ পুজোটি। মহা সমারোহে বাংলা কালী নামে পুজো পান তিনি। তারপর থেকেই মায়ের ডাকাত কালী রূপের আরাধনা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। বর্তমানে শুধু এই রূপেই হয় অজস্র পুজো। যার মধ্যে অন্যতম হলেন চড়জিজিরা অঞ্চলের বামা কালী, নিরঞ্জনের পথে যাঁর নাচ এখন বহু মানুষের আবেগ।

বিসর্জনের পথে বামা কালী, ছবি তুলেছেন অর্ধেন্দু দে

একটিমাত্র হ্যাচাকের আলোতেই পুজো হয় মায়ের। প্রত্যেকটি মূর্তিই কমবেশি ১৮ ফুটের মতো লম্বা হয়, এবং শান্তিপুরের অনন্য মৃৎশিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় যেন সকলেই জীবিত হয়ে ওঠেন। মায়ের অতি ভয়াল করালবদনী রূপকেও তাঁরা তুলির টানে ফুটিয়ে তোলেন অপূর্ব মাতৃ-রূপে।

বাংলা কালী, ছবি তুলেছেন অর্ধেন্দু দে

এছাড়াও রয়েছেন পক্কানেশ্বরী, যাঁর সবচেয়ে পছন্দের ভোগ হল পক্কান। আরও আছেন বুড়িমা, মা সিদ্ধেশ্বরী। এবং সাধনা কালী, মাধব কালী, পাতালকালী, গুলবাজ কালী, মুক্তকেশী নানা নামে নানারূপে পুজো পান মা। এক রাতে আরাধনা হয় প্রায় তিন সহস্রাধিক কালীমূর্তির। শুধু দ্বীপান্বিতা কালীপুজোতেই নয়, বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উৎসবের সঙ্গে এখানে কালী পুজো হয়। যেমন নৃত্যকালী, পটেশ্বরী প্রমুখ। বহুকালের পুরনো এক পটে আঁকা মায়ের মূর্তিই এখানে রাস-পূর্ণিমার সময় পুজো করা হয়।

পটেশ্বরী, ছবি তুলেছেন অর্ধেন্দু দে

দূর্গাপুজো শেষ হয়ে যখন হিম পড়া শুরু হয়, শান্তিপুরে খবর আসে, রাত জাগার দিন আসছে। আলোয় মালায় সাজানো শহর জেগে থাকবে দুদিন ধরে, মায়ের পুজো উপলক্ষ্যে। বৈষ্ণবদের ভূমি বলে পরিচিত অদ্বৈতাচার্যের শান্তিপুর ফিরে আসবে শক্তির আরাধনায়। কালীপুজো থেকে এ শহরটা একটু একটু করে বদলাতে থাকবে, প্রস্তুতি নেবে রাসের…

লিখেছেন
Ranjini Banerjee
Ranjini Banerjee
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।