স্বাধীন বাংলাদেশের মতো স্বাধীন বালুচিস্তানকে স্বীকৃতি দিতে পারবে ভারত?

Balochistan: এগিয়ে এসে বালুচিস্তানকে 'স্বাধীন' ঘোষণা করা কঠিন। কারণ এতে ভূ-রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং আইনি জটিলতা রয়েছে। বালুচিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল।

Tanvia Barua
২ মিনিট
স্বাধীন বাংলাদেশের মতো স্বাধীন বালুচিস্তানকে স্বীকৃতি দিতে পারবে ভারত?

সম্প্রতি বালুচিস্তানের নেতারা নয়াদিল্লি এবং জাতিসংঘের কাছে বালুচিস্তানকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পর থেকে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে। বালুচিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভারতের পররাষ্ট্র নীতির জন্য বিপদ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কেন বালুচিস্তানকে আলাদা দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ভারতের জন্য কঠিন?

এগিয়ে এসে বালুচিস্তানকে 'স্বাধীন' ঘোষণা করা কঠিন। কারণ এতে ভূ-রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং আইনি জটিলতা রয়েছে। বালুচিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল। তাই ভারত এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলেনি। তবে নতুন দেশকে স্বীকৃতি দিতে পারে ভারত, যেমনটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।

১৯৩৩ সালের মন্টেভিডিও কনভেনশন অনুসারে, একটি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে- স্থায়ী জনসংখ্যা, নির্ধারিত অঞ্চল, নির্বাচিত সরকার এবং অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা। বালুচিস্তান স্বাধীনতা পেলেও বর্তমানে এটি কোনও দেশ বা জাতিসংঘের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। অনেক পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বালুচিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। যা গুরুতর কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের জোরপূর্বক বালুচিস্তান দখল এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমন- এই অঞ্চলকে আলাদা দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বালুচিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ভারতের যে কোনো পদক্ষেপকে পাকিস্তান উস্কানি হিসেবে দেখতে পারে। বিশেষ করে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর এতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে। বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্র নীতি বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতকে সাবধানতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যদিকে, বালুচিস্তানের কিছু নেতা যুক্তি দেন যে, ভারত যদি বালুচিস্তানকে স্বীকৃতি দেয় তাহলে কৌশলগতভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে দুর্বল করা যাবে।

উল্লেখ্য, স্বাধীন দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তির পাশাপাশি জাতিসংঘেরও সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের জন্য বালুচিস্তানে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে, তাই তারা বালুচিস্তানের স্বাধীনতার বিষয়ে তীব্র বিরোধিতাই করবে। ইতিমধ্যে আবার যুক্তরাষ্ট্র বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-কে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর জন্যও বালুচিস্তানের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। বেশ কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, অন্যান্য দেশের সমর্থন ছাড়া এই বিষয়ে ভারত একা কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

একটি দেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মানদণ্ড রয়েছে- স্থায়ী জনসংখ্যা, নির্ধারিত অঞ্চল, সরকার, অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা। তবে, এই মানদণ্ডগুলি সব সময় কঠোরভাবে মানা হয় না। কারণ স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রায়শই আইনি প্রয়োজনীয়তার বাইরে রাজনৈতিক বিষয়গুলিও জড়িত থাকে। স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশটি দূতাবাস খোলার মাধ্যমে বা রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এই সিদ্ধান্ত সাধারণত দেশের পররাষ্ট্র নীতি ও কৌশলগত স্বার্থে হয়।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।