পাকিস্তানের সেনা প্রধান মুনিরের সঙ্গে কেন বৈঠকে ট্রাম্প?

Donald Trump Asim Munir: মার্কিন মুলুকে বসবাসরত পাকিস্তানি এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ কর্মীদের ব্যাপক ক্ষোভের মুখোমুখি হন মুনির।

inscript
২ মিনিট
পাকিস্তানের সেনা প্রধান মুনিরের সঙ্গে কেন বৈঠকে ট্রাম্প?

অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী পাকিস্তানি হামলা ও ভারতের পাল্টা হামলার মাঝে মধ্যস্থতা করে 'যুদ্ধবিরতি' ঘোষণা করে দিয়েছিলেন তিনিই। সারা বিশ্বের সমস্ত যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই ইদানীং তাঁর ভূমিকা আছে। কোথাও তিনি স্থায়ী 'শান্তি' চাইছেন, কোথাও তিনি যুদ্ধবাজদের মাথায় হাত রাখছেন। ইউক্রেন-রাশিয়া, গাজা-ইজরায়েল থেকে শুরু করে ইরান-ইজরায়েল সমস্ত সংঘর্ষেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশের নেতা হিসেবে যা করণীয় করে চলেছেন। এবার পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের সেনা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের এই মধ্যাহ্নভোজনকালীন বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব রাজনীতি ও সন্ত্রাসের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, বিশেষ করে ট্রাম্পের সুহৃদ ভারতের ক্ষেত্রে।

গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পহেলগাঁওয়ে ২৫ জন নিরস্ত্র পর্যটকসহ এক স্থানীয়ের মৃত্যু গোটা ভারতকে শোকবিহ্বল করে দেয়। এই হামলার নেপথ্যে ছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। এই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদতের যোগ ফাঁস হয়ে যায়। ভারতের অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসের কিছু আঁতুরঘর ভেঙে দিলেও, পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে পাকিস্তানের এই সন্ত্রাসবাদ তোষণের চিত্রে বিশেষ ফারাক হয়নি। এই আবহে মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, পাক সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির ওয়াশিংটনে পৌঁছেই বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। মার্কিন মুলুকে বসবাসরত পাকিস্তানি এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ কর্মীদের ব্যাপক ক্ষোভের মুখোমুখি হন মুনির। ওয়াশিংটন ডিসি-তে 'পাকিস্তানি কে কাতিল' এবং 'ইসলামাবাদ কে কাতিল'-এর মতো স্লোগানও ওঠে মুনিরকে ঘিরে। 'গণহত্যাকারী', 'স্বৈরশাসক' বলে চিৎকার করেন বিক্ষোভকারীরা।

আর ট্রাম্প তো এখন ইজরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়েই ব্যস্ত। মাসখানেক আগে তিনি ভারত-পাকিস্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সদ্য তিনি ইরানের 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ' দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তিনি তাঁর জাতীয় সুরক্ষা দলের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। একাধিক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন যে, "ইরানের উপর আকাশের এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে আমাদের"। বলেছেন, "আমরা ঠিক জানি তথাকথিত 'সুপ্রিম লিডার' কোথায় লুকিয়ে আছেন"। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, "আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে”, এবং তারপরেই দাবি করেছেন, ইরানের 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’!

মজার ব্যাপার হলো, আসিম মুনির এবং পাকিস্তান কিন্তু ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক। ওয়াশিংটন ডিসিতে এক বক্তৃতায় মুনির বলেছিলেন, তাঁরা ইরানের পাশে আছেন, তাঁরা এই সংঘাত শিগগিরই শেষ হওয়ার আশা করেন।

মনে রাখতে হবে, ইজরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক ঘাঁটিতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে তেহরানও প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ট্রাম্প কিন্তু ইজরায়েলের পক্ষেই সমর্থনে সোচ্চার হয়েছেন। বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া যাবে না। এই আবহে ইরানের মিত্র পাকিস্তানের সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন ট্রাম্প, যে বৈঠক দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।

৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত, মোদীর দাবির আড়ালে কোন পরিসংখ্যানগত বিতর্ক?

World Bank's claim about India's poverty decline: বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩-এ ভারতের চরম দারিদ্র্য ২৭.১% থেকে ২.৬%-এ নেমেছে বলে দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজেও লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল সত্য কি? কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা?