এবার পুজোয় সাবেকিয়ানা আর থিমের মেলবন্ধন দেখতে আসতেই হবে হাতিবাগানের এই মণ্ডপগুলিতে

হাতিবাগান এলাকায় বহু পুরনো বারোয়ারি পুজো রয়েছে।

Raktim Dey
৩ মিনিট
এবার পুজোয় সাবেকিয়ানা আর থিমের মেলবন্ধন দেখতে আসতেই হবে হাতিবাগানের এই মণ্ডপগুলিতে

হাতিবাগানে কার হাতি থাকত, তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন থাকলেও এই এলাকায় দুর্গাপুজোর সময় যে কিছু অসাধারণ মণ্ডপ এবং প্রতিমা দেখতে পাওয়া যায়- সেই ব্যাপারে বেশিরভাগ মানুষের মনে সংশয় নেই। উত্তর কলকাতায় অল্প কিছু দূরত্বের মধ্যে অনেক মণ্ডপ এবং প্রতিমা দেখার জন্য আদর্শ এলাকার মধ্যে হাতিবাগান অন্যতম। এই এলাকায় বহু পুরনো বারোয়ারি পুজো রয়েছে। সেই পুজোকমিটিগুলো প্রতি বছর বিভিন্ন জিনিস, এলাকা অথবা চিন্তাধারার আদলে মণ্ডপ এবং প্রতিমা নির্মাণ করে। প্রায় প্রতিটি পুজো আজ অবধি বহু পুরস্কার অর্জন করেছে।

সিকদারবাগান সর্বজনীন

১৯১৩ সালে সিকদারবাগান সর্বজনীন পুজোর সূচনা হয়েছিল। শতবর্ষ অতিক্রম করে সেই পুজো আজও প্রতি বছর আয়োজিত হয়। হাতিবাগানের কাছেই টাউন স্কুলের বিপরীত গলিতে খুবই অল্প পরিসরের মধ্যে সিকদারবাগানের পুজোর মণ্ডপ তৈরি করা হয়। কলকাতার অন্যতম পুরনো বারোয়ারি পুজো এখন থিমের হাত ধরেছে। এই অল্প পরিসরে বিভিন্ন বিষয়ের আদলে তৈরি মণ্ডপ মানুষকে তাক লাগানোর ক্ষমতা রাখে। শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাসে চেপে হাতিবাগান অথবা টাউন স্কুল বাস স্টপেজে নামলে এই মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া যাবে । এছাড়া বিধাননগর স্টেশন, শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন অথবা শোভাবাজার লঞ্চ ঘাট থেকে অটো করে হাতিবাগানে পৌঁছে কয়েক মিনিট হাঁটা পথেই এই মণ্ডপে পৌঁছনো সম্ভব।

নলিন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীন

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতার দুর্গাপুজোর আমেজ পেতে আসতেই হবে উত্তর কলকাতার এই মণ্ডপগুলিতে

সাবেকি এবং থিম মিলিয়ে উত্তর কলকাতার বেশ কিছু পুজো নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে।

১৯৩৩ সালে হাতিবাগানের কাছেই নলিন সরকার স্ট্রিটের বারোয়ারি দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। বহু বছর পেরিয়ে থিমের হাত ধরে প্রতি বছর নিত্যনতুন বিষয়ের আদলে এই পুজোর মণ্ডপ এবং প্রতিমা নির্মাণ করা হয়। গত বছর পুরনো কলকাতার আদলে তৈরি হয়েছিল এই পুজোর মণ্ডপ। মণ্ডপের চারপাশে লাগানো হয়েছিল পুরনো চায়ের দোকানের সাইনবোর্ড থেকে পুরনো কলকাতায় পাইস হোটেলের মেনু এবং আরও অনেককিছু। ২০২২ সালে নলিন সরকার স্ট্রিট দুর্গাপুজোর ভাবনা 'আগমনীর আবাহনে আগামীর কারিগর'। কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসে চেপে হাতিবাগান অথবা খান্না বাস স্টপেজে নেমে কয়েক মিনিট পায়ে হেঁটে এই মণ্ডপে পৌঁছনো যায়। এছাড়া বিধাননগর স্টেশন, শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন অথবা শোভাবাজার লঞ্চ ঘাট থেকে অটো করে খান্না পৌঁছে ২-৩ মিনিট হাঁটা পথেই এই মণ্ডপে পৌঁছনো সম্ভব।

নবীন পল্লী সর্বজনীন

১৯৩৪ সালে হাতিবাগান নবীন পল্লী সর্বজনীন দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সাবেক পুজোর ধরন বজায় রাখলেও বিগত দশক থেকে এখানে থিমপুজোর সূচনা হয়। এই বছর নবীন পল্লী সর্বজনীনের পুজোর ভাবনা হলো, 'জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা, হোক না যতই ফেলনা'। প্রতি বছর নলিন সরকার স্ট্রিটের মণ্ডপের খুব কাছেই নবীন পল্লী-র মণ্ডপ তৈরি করা হয়।তাই কয়েক মিনিট পায়ে হেঁটেই নলিন সরকার স্ট্রিট দুর্গাপুজোর মণ্ডপ থেকে নবীন পল্লী-র মণ্ডপে পৌঁছনো সম্ভব। কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসে চেপে হাতিবাগান অথবা খান্না বাস স্টপেজে নেমে কয়েক মিনিট পায়ে হেঁটে এই মণ্ডপে পৌঁছনো যায়। এছাড়া বিধাননগর স্টেশন, শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন অথবা শোভাবাজার লঞ্চ ঘাট থেকে অটো করে খান্না অথবা হাতিবাগান পৌঁছে ২-৩ মিনিট হাঁটা পথেই এই মণ্ডপে পৌঁছনো সম্ভব।

হাতিবাগান সর্বজনীন

হাতিবাগান চারমাথার মোড়ের খুব কাছেই প্রতি বছর আয়োজিত হয় হাতিবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো। হাতিবাগানের অন্যান্য পুজোর মতো এই পুজো থিম পুজো। গত বছর হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজোর ভাবনা ছিল 'পিছুটান'। ২০২২ সালে এই পুজো ৮৮ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে। কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাসে চেপে হাতিবাগান বাস স্টপেজে নামলে এই মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া যাবে । এছাড়া বিধাননগর স্টেশন, শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন অথবা শোভাবাজার লঞ্চ ঘাট থেকে অটো করে হাতিবাগানে পৌঁছে মিনিটদুয়েক হাঁটা পথেই এই মণ্ডপে পৌঁছনো সম্ভব।

কাশী বোস লেন সর্বজনীন

১৯৩৭ সালে কাশী বোস লেন বারোয়ারি দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। বহু বছর পেরিয়ে এসে বিভিন্ন বিষয়ের আদলে এই বারোয়ারি পুজো তাদের মণ্ডপ এবং প্রতিমা নির্মাণ করে। দেবীর ঘট থেকে পুরনো দালানবাড়ির মতো বিভিন্ন বিষয়ের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে এই সর্বজনীন পুজো বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসে চেপে হেদুয়া অথবা স্কটিশ চার্চ স্কুল স্টপেজে নেমে কয়েক মিনিট পায়ে হেঁটে এই মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া যাবে। এছাড়া নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন গিরিশ পার্ক থেকে অটো করে হেদুয়া পৌঁছে সেখান থেকে কয়েক মিনিট পায়ে হেঁটে এই মণ্ডপে পৌঁছনো সম্ভব।

এইসব পুজো ছাড়াও হাতিবাগান এবং তার আশপাশের এলাকায় বহু সাবেকি এবং থিম পুজো আয়োজিত হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম চোরবাগান সর্বজনীন, চোরবাগান শীলবাড়ির পুজো, হেদুয়া পার্কের পুজো, চালতাবাগান, সিমলা ব্যায়াম সমিতির পুজো। খুব অল্প দূরত্বের মধ্যে বহু মণ্ডপ এবং প্রতিমা দেখতে পাওয়ার আনন্দ পেতে দিনের বিভিন্ন সময়ে বহু মানুষ এই এলাকায় ঠাকুর দেখতে ভিড় জমান।

লিখেছেন
Raktim Dey
Raktim Dey
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।