১০০ কোটি টাকার ভাগাভাগি! জনৈক অভিষেকের বিরুদ্ধে চার্জশিটে কী লিখেছে সিবিআই?

Abhishek Banerjee CBI: সিবিআইয়ের দাবি, প্রায় ১ ঘণ্টার ওই অডিওতে জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শোনা গিয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
১০০ কোটি টাকার ভাগাভাগি! জনৈক অভিষেকের বিরুদ্ধে চার্জশিটে কী লিখেছে সিবিআই?

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্ত করতে গিয়ে চার্জশিটে সিবিআই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করেছে। সেই নিয়ে পাল্টা বিবৃতিও দিয়েছেন তৃণমূল নেতা তথা সাংসদ অভিষেকের আইনজীবী। স্পষ্ট বলেছেন, তাঁর মক্কেলকে হেনস্থা করা হচ্ছে। নাম উস্কে দিয়ে আগামীতে হেনস্থা করার রাস্তা জিইয়ে রাখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ২৮ পাতার চার্জশিটে সিবিআই ঠিক কী দাবি করেছে? সিবিআইয়ের এই চার্জশিটে একটি অডিও ক্লিপের উল্লেখ রয়েছে। কেন্দ্রীয় তদঙ্কারী এই সংস্থা বলছে, বেআইনি নিয়োগের জন্য সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’-র থেকে ১৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! কে এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? তিনিই কি তৃণমূল নেতা? তিনিই কি সাংসদ? নাকি এই অভিষেক অন্য কোনও অভিষেক? সকল অভিযুক্তের পরিচয় উল্লিখিত রইলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে কোন জন, তা সিবিআই স্পষ্ট করেনি। সিবিআইকে আক্রমণ করে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, "বিজেপি যেমন ভাববাচ্যে কথা বলে, তেমন সিবিআইও ভাববাচ্যে কথা বলেছে।’’ অভিষেক বলছেন, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে কেন্দ্রের এই তদন্তকারী সংস্থা।

ওই অডিও ক্লিপে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মানিক ভট্টাচার্যের নামও শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআই। চার্জশিট অনুযায়ী, ঘুষের টাকা দিতে ২০১৭ সালে বেহালায় ‘কালীঘাটের কাকু’ অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র বাড়িতে গিয়েছিলেন অপর দুই অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও দু’জন। সিবিআইয়ের দাবি, এই অডিও ক্লিপ সেই সময়কার। অডিওটি বিস্ফোরক কারণ কীভাবে বেআইনি শিক্ষক নিয়োগ চলত, কারা কীভাবে দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল যা ওই অডিও ক্লিপে ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছে সিবিআই। ওই গোপন বৈঠকে কীভাবেই বা অডিও রেকর্ড হলো, তা কীভাবেই বা হাতে পেলেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা?

চার্জশিটে সিবিআই দাবি করেছে, ওই বৈঠকটি হয়েছিল ২০১৭ সাল। কুন্তল ঘোষের নির্দেশেই তাঁর বেতনভুক কর্মী অরবিন্দ রায়বর্মণ একটি মোবাইলে সমস্ত কথোপকথন রেকর্ড করেন এবং তা ল্যাপটপে সেভ করে রাখেন। তদন্ত শুরু হলে ল্যাপটপ থেকে ওই অডিও ক্লিপ সিবিআইয়ের হাতে আসে। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেটি সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ল্যাবরেটরিতে পাঠায় সিবিআই। এর পাশাপাশি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, কুন্তল ঘোষ এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিল্লিতে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। সিবিআই চার্জশিটে জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ওই দিন সুজয়কৃষ্ণের বাড়িতে কুন্তল এবং শান্তনুর সঙ্গে ছিলেন অরবিন্দ এবং সুরজিৎ চন্দ। এই দুই সাক্ষীই গোপন জবানবন্দিও দিয়েছেন। সাক্ষীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ওই অডিওর সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেই জানিয়েছিল সিবিআই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রাথমিক দুর্নীতির চার্জশিটে নাম! আত্মপক্ষ সমর্থনে যা বলছেন অভিষেক

Abhishek Banerjee CBI: সিবিআই চার্জশিটে লিখেছে, অডিও ক্লিপে সুজয়কৃষ্ণকে বলতে শোনা গিয়েছে, তাঁর কথা শুনে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন অভিষেক।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি সুজয়কৃষ্ণের বিরুদ্ধে জমা দেওয়া চার্জশিটে সিবিআই ওই অডিয়ো ক্লিপের কথোপকথনের বৃত্তান্ত জানিয়েছে বিশদে। সিবিআইয়ের দাবি, প্রায় ১ ঘণ্টার ওই অডিওতে জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শোনা গিয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে কে অভিষেক? সত্যিই কি তিনি তৃণমূল সাংসদ? কেন সেই বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেনি সিবিআই? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ‘প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী’ পরিচয় লেখা হয়েছে, সুজয়কৃষ্ণের ক্ষেত্রে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ‘চিফ অপারেটিং অফিসার’ পরিচয় উল্লিখিত আছে। বলা আছে, শান্তনু এবং সুজয়কৃষ্ণ তৃণমূলের সদস্য ছিলেন। সুজয়কৃষ্ণের ‘সাব-এজেন্ট’ হয়ে কাজ করতেন শান্তনু। তাহলে কেন অভিষেক নামটি পাওয়া সত্ত্বেও সিবিআই কোনও পরিচয় চার্জশিটে উল্লেখ করেনি?

চার্জশিটের ১২ নম্বর পাতায় সিবিআই লিখেছে, অডিও ক্লিপের কথোপকথনে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে বলতে শোনা গিয়েছে, বেআইনি নিয়োগের জন্য ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন অভিষেক। সুজয়কৃষ্ণ তখন বলেছিলেন, তিনি ওই টাকা দিতে পারবেন না কারণ, আগেই প্রার্থীপিছু সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়ে গিয়েছে। সিবিআই আরও লিখেছে, সুজয়কৃষ্ণকে বলতে শোনা গিয়েছে, চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন অভিষেক, অন্যথায় ওই প্রার্থীদের গ্রেফতার করিয়ে দেওয়া হবে। অথবা তাঁদের চাকরি হবে বাড়ি থেকে দূরে।

সিবিআই বলছে, অডিও ক্লিপ থেকেই জানা গেছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মারফতই বেআইনি নিয়োগের ব্যবস্থা করতেন কুন্তল, শান্তনু এবং সুজয়কৃষ্ণ। বেআইনি নিয়োগ নিয়ে অভিষেকের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থের মনোমালিন্য চলছিল। সুজয়কৃষ্ণ, শান্তনু এবং কুন্তল মিলে আরও দু’হাজার চাকরিপ্রার্থীর থেকে নিয়োগের নামে টাকা তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানতে পেরেছে সিবিআই। ওই চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ১০০ কোটি টাকা তুলতে চাইছিলেন তাঁরা। এই ১০০ কোটি টাকা থেকে পার্থ, মানিক এবং অভিষেককে ২০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঠিক করেছিলেন সুজয়কৃষ্ণেরা। বাকি ৪০ কোটি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা ছিল।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শেষে অভিষেক যখন ‘নবজোয়ার যাত্রা’ করছিলেন, সেই সময়েই তাঁকে হাজিরা দিতে বলেছিল সিবিআই। বাঁকুড়ায় কর্মসূচি স্থগিত রেখে নিজাম প্যালেসে এসে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এখন বলছেন, ‘‘আমায় ডেকে ১০ ঘণ্টা জেরা করেছিল। নবজোয়ার থামিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। সেদিনও যা বলেছিলাম, আজও তাই বলছি। কোথাও যদি প্রমাণ করতে পারে, আমার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে মদতে ১০ পয়সার দুর্নীতি হয়েছে, তা হলে চার্জশিট দিতে হবে না। ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে নেব!’’

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।