প্রাথমিক দুর্নীতির চার্জশিটে নাম! আত্মপক্ষ সমর্থনে যা বলছেন অভিষেক

Abhishek Banerjee CBI: সিবিআই চার্জশিটে লিখেছে, অডিও ক্লিপে সুজয়কৃষ্ণকে বলতে শোনা গিয়েছে, তাঁর কথা শুনে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন অভিষেক।

inscript
২ মিনিট
প্রাথমিক দুর্নীতির চার্জশিটে নাম! আত্মপক্ষ সমর্থনে যা বলছেন অভিষেক

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের সকলেই একটি বিষয়ে একসুরে কথা বলেন। তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য সিবিআই-ইডির মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে কেন্দ্রের শাসকদল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে হেনস্থা করছে বিরোধী দলগুলিকে। এবার সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সরাসরি এনেছেন, তৃণমূল নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু। সঞ্জয় বসু বলছেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে সিবিআই! উল্লেখ্য, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর, যিনি ‘কালীঘাটের কাকু’ বলেই পরিচিত, একটি অডিও ক্লিপের সূত্রে চার্জশিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছে সিবিআই।

২৮ পাতার ওই চার্জশিটে সুজয়কৃষ্ণ সহ আরও কয়েকজনের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের দাবি, ওই অডিও ক্লিপে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের নামোল্লেখ করা হয়েছে। সিবিআইয়ের আরও দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও শোনা গিয়েছে তাতে। এই অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করার জন্য সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ল্যাবরেটরিতে তা পাঠিয়েছে সিবিআই। সুজয়কৃষ্ণ, কুন্তল ঘোষ এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা-বর্জিত একনায়কতন্ত্রের চেষ্টা আদৌ সফল হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

Abhishek Banerjee - Mamata Banerjee : কয়েকজনকে বলির পাঁঠা করে এক নতুন পণ্য বাজারে এনে তাকে বেচার এক আপ্রাণ চেষ্টা বাংলা দেখছে।

সিবিআই বলছে, এই মামলার সাক্ষীদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই ওই অডিওর সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। অন্যদের পরিচয় উল্লেখ থাকলেই, এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল নেতা অভিষেক কিনা সেই উল্লেখ নেই চার্জশিটে। এই চার্জশিট দেওয়ার কিছু সময় পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সঞ্জয় বসুর অভিযোগ, সিবিআই অভিষেকের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত করছে। চার্জশিটে শুধু অভিষেকের নাম উল্লেখ করে সম্ভাবনা জিইয়ে রাখা হচ্ছে যে এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং লোকসভা সাংসদ। চার্জশিটে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পরিচয় উল্লিখিত হয়েছে। সুজয়কৃষ্ণের ক্ষেত্রেও ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ‘চিফ অপারেটিং অফিসার’ হিসাবে তাঁর পরিচয় লেখা হয়েছে কিন্তু অভিষেকের ক্ষেত্রে সিবিআই কোনও পরিচয় উল্লেখ করেনি কেন?

অভিষেকের আইনজীবী সঞ্জয় বসুর দাবি, ইডি এবং সিবিআইকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন অভিষেক। ইডি-সিবিআই যখনই তলব করেছে, তখনই উপস্থিত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সরবরাহ করেছেন অভিষেক। তবে এরপরেও সিবিআই চার্জশিটে নাম উল্লেখ করে হেনস্থার সম্ভাবনাকে জিইয়ে রেখেছে। অভিষেকের আইনজীবী সঞ্জয় তাঁর বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘‘মামলার তদন্তকারী সংস্থা ইডি আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও চার্জশিট দাখিল করেনি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের কোনও উপাদানের উপস্থিতিও মেলেনি। তার পরেও তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিট আমার মক্কেলকে হয়রানির উদ্দেশ্য ছাড়া আর কিছু নয়।’’ সিবিআই যেহেতু তাদের দাবির সমর্থনে কোনও নথি বা প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি, তাই এ থেকে স্পষ্ট যে, অন্যায়ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে হেনস্থার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই চার্জশিটে লিখেছে, অডিও ক্লিপে সুজয়কৃষ্ণকে বলতে শোনা গিয়েছে, তাঁর কথা শুনে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন অভিষেক। সুজয়কৃষ্ণ অডিও ক্লিপে বলেছেন, অন্যথায় ওই প্রার্থীদের গ্রেফতার করিয়ে দেওয়া হবে বা তাঁদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে চাকরি দেওয়া হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করেছেন, "ইডিকে কাজে লাগিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরে একটি রাজনৈতিক শক্তি সিবিআইয়ের দিকে ঝুঁকেছে। স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট চার্জশিটে প্রমাণের স্পষ্ট অভাব থাকা সত্ত্বেও সন্দেহ তৈরি করার মরিয়া প্রচেষ্টা করা হয়েছে।" এবার কি সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন অভিষেক?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।