২৬ হাজার চাকরি বাতিলই! বিধানসভা নির্বাচনে অশনি সংকেত হবে শিক্ষকদের কান্না?

SSC Recruitment scam Verdict: সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভবই হয়নি। ফলে আবারও পরীক্ষা দিতে হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেই তাঁদের আবেদন করতে হবে।

inscript
৩ মিনিট
২৬ হাজার চাকরি বাতিলই! বিধানসভা নির্বাচনে অশনি সংকেত হবে শিক্ষকদের কান্না?

আবারও চরম অনিশ্চিত জীবনের মুখে হাজার হাজার তরুণ তরুণী! আবারও বাংলায় যুবসমাজের সমবেত কান্নার রোল! হাইকোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়েই ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের আস্ত প্যানেল বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই ঢালাও অনিয়ম হয়েছে। তাই সমস্ত নিয়োগ বাতিল ছাড়া উপায় নেই। বৃহস্পতিবার, রাজ্যের ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করে দিল প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। আর যদি সত্যিই এই ২৬ হাজার মানুষের মধ্যে নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়ে থাকেন অনেকে? জল আর দুধ আলাদা করার উপায় নেই, তা স্পষ্ট করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। নিয়োগের দুর্নীতির ফল তাঁদেরও ভোগ করতে হবে যারা হয়তো যোগ্য ছিলেন সত্যিই।

২০১৬ সালের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এসএসসি-র শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। মামলা হাইকোর্টে যায়। তখনও কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয়। তখনও ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি যায়। তারপর, মুখরক্ষা করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এসএসসি সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। তারপর, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট কার্যত হাইকোর্টের রায়েই সিলমোহর দেয়। রায় দেয়, প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আর যাঁরা অন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে স্কুলের চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তাঁরা চাইলে আগের কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারবেন।

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভবই হয়নি। ফলে আবারও পরীক্ষা দিতে হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেই তাঁদের আবেদন করতে হবে। হাইকোর্ট যখন প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল, তখনও প্রশ্ন উঠেছিল যোগ্য মানুষদের কেন সরকারের দুর্নীতির খেসারত দিতে হবে? অথচ কোনওভাবেই যোগ্য-অযোগ্য বাছাইয়ের পথ খুঁজে পায়নি আদালত। শীর্ষ আদালতে মামলা যাওয়ার পর, সেখানেও হাত তুলে নেন আইন বিশেষজ্ঞরা! বলা হয়, পরীক্ষার আসল ওএমআর শিট উদ্ধারই করা যায়নি। কোন ওএমআর শিট আসল, কোনটা নকল বছার উপায় নেই। তাই ঢালাও চাকরি বাতিল হলো ২০২৬-এর আগে। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিঃসন্দেহে এই চাকরি বাতিলের ঘটনা তৃণমূল সরকারের কাছে বড় ধাক্কা।

সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার তদন্ত করছিল সিবিআই। সিবিআই জানিয়েছিল, এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েই অনেকে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। তাই ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাই বহাল থাকা উচিত। রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, এত শিক্ষকের চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাই ভেঙে যাবে। তবে রাজ্য সরকারের কান্নায় ভেজেনি কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিলের রায়ে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। চাকরি হারানো শিক্ষকদের এতদিনের সম্পূর্ণ বেতন ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়, ১২ শতাংশ হারে সুদ-সহ।

রাজ্যের শিক্ষা দফতর, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলে, ২০২৪ সালের ৭ মে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ চাকরি বাতিলের নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে শেষরক্ষা হলো না। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের জীবন এখন প্রশ্নের মুখে। শিক্ষকের কান্না দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই রাজ্যে চাকরির নিশ্চয়তা আর কোনও দিনই কি পাবেন সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ? যারা চাকরির ভরসায় নতুন জীবন শুরু করেছিলেন, সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, চিকিৎসা করাচ্ছিলেন, তাঁদের এই অনিশ্চিত জীবনই কি প্রাপ্য ছিল? বিধানসভা ভোটের আগে আদৌ শিক্ষকের কান্না কোনও ছাপ ফেলবে বাংলার রাজনীতিতে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।