নতুন প্রজন্ম আর সিপিএমে আকৃষ্ট নয়! কী বলছেন শতরূপ, মীনাক্ষীরা?

CPIM West Bengal: ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩ বছরে ডিওয়াইএফআই-এর সদস্য সংখ্যা বেড়েছে ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি। কিন্তু সদস্যসংখ্যা বাড়লেও ভোটবাক্সে তার কোনও প্রতিফলন পড়ছে না। কেন?

Sangita Ghorai
৪ মিনিট
নতুন প্রজন্ম আর সিপিএমে আকৃষ্ট নয়! কী বলছেন শতরূপ, মীনাক্ষীরা?

বামপন্থার প্রতি ঝোঁক কমছে তরুণ প্রজন্মের? তাহলে পুরনো প্রজন্ম শেষের সঙ্গে সঙ্গেই বামপন্থাও মৃত? নতুন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা আর সাম্যের প্রশ্নে ভাবিত নন? এত প্রশ্ন উঠছে প্রকাশ কারাটের একটি মন্তব্য ঘিরে। জানা গিয়েছে, সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনে পার্টির পলিটব্যুরোর সমন্বয়ক প্রকাশ কারাট সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, তরুণ-তরুণীরা আন্দোলনে অংশ নিলেও দলের সদস্য হচ্ছেন না। তাহলে, সিপিএম নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নিজেকে মেশাতে পারছে না? না কি নতুন প্রজন্মকে বেশি আকর্ষণ করছে অন্য রাজনৈতিক আদর্শ?

সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ অবশ্য বলছেন তরুণরা পার্টির সদস্য হচ্ছে না একথা রাজ্য সম্মেলনে প্রকাশ কারাট বলেননি। ইনস্ক্রিপ্টকে শতরূপ বলেছেন, আরও বেশি সংখ্যক তরুণ সদস্যদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করতে চেষ্টা করতে হবে বলেই জোর দিয়েছেন প্রকাশ কারাট। শতরূপের বক্তব্য, পার্টির সম্মেলন এই কারণেই করা হয়, যাতে আগামীদিনে পার্টিকে আরও শক্তিশালী করা যায়।

শতরূপ তো তরুণ তুর্কি! সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগও আছে তাঁর। সত্যিই কি বামপন্থার প্রতি ঝোঁক কমছে তরুণ প্রজন্মের? শতরূপ ঘোষের বক্তব্য, “বামপন্থার প্রতি ঝোঁক কমছে না বাড়ছে বলতে পারব না। তবে এটা তো শুধু সিপিএমের ক্ষেত্রে নয়, গোটা পৃথিবীতেই বিভিন্ন পরিস্থিতি রয়েছে। যেমন কোথাও কোথাও ফ্যাসিবাদের উত্থান হচ্ছে, আবার শ্রীলঙ্কার মতো দেশে নতুন করে বামপন্থীদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এক এক জায়গায় এক এক রকম পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গে বামেদের গণভিত্তি কমেছে এটা ঠিক। তবে সেটা বয়স্ক, যুব, মহিলা, পুরুষ সবার মধ্যেই কমেছে”।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মীনাক্ষীকে ঘিরে বাম যুবদের উৎসাহের সীমা নেই, তবু অতীতই ভবিষ্যতের অন্তরায়

CPIM New Leaders: মীনাক্ষীদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শত্রু হল তাঁদের অতীত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখনও তৃণমূল-বিজেপির বিকল্প হিসেবে বামেদের ভাবতে পারছেন না।

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের পর থেকে যে আঘাত ও আক্রমণের শিকার হয়েছে বামেরা, সেই সব বাধা পেরিয়ে গত আড়াই-তিন বছরে নাকি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বামপন্থীদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলেই মত শতরূপ ঘোষের। এই প্রসঙ্গে কোভিডের সময় রেড ভলেন্টিয়ারদের কার্যকলাপ ও ইনসাফ যাত্রায় তরুণদের এগিয়ে আসার কথাও উল্লেখ করেছেন যুব বামনেতা। শতরূপের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম ছাড়া আর কোনও দল নেই যারা যুব সংগঠনের ডাকে ব্রিগেড করতে পারবে। বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সভাতেও এত জমায়েত হয় না, যা বামেদের রাজ্য সম্মেলন বা ব্রিগেডে হয়।

গত কয়েকবছরে বামেদের ভরসাযোগ্য মুখ হয়ে উঠছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। বামপন্থা ও তরুণ প্রজন্ম নিয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় খুবই আত্মবিশ্বাসী। বামপন্থার প্রতি তরুণদের ঝোঁক মোটেই কমছে না, বরং বাড়ছে বলেই বক্তব্য বঙ্গ সিপিএমের ক্যাপ্টেন মীনাক্ষীর।

পরিসংখ্যানও অবশ্য তাই বলছে। ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছে, গত এক বছরে সিপিএমের এই যুব সংগঠনে ৫১ হাজার সদস্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩ বছরে ডিওয়াইএফআই-এর সদস্য সংখ্যা বেড়েছে ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি। কিন্তু সদস্যসংখ্যা বাড়লেও ভোটবাক্সে তার কোনও প্রতিফলন পড়ছে না। কেন? অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বামেদের মিটিং-মিছিলে সামিল হলেও, ভোটের লড়াইয়ে কি লাল ঝান্ডার উপর ভরসা করতে পারছে না মানুষ?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নর-নারীর মিলন নিয়ে চিত্তপ্রসাদের স্বাধীন ভাবনা মেনে নেয়নি বামপন্থীরা

Chittaprosad: কেনই বা চিত্তপ্রসাদ অস্বীকার করবেন ব্যক্তিমানুষের প্রেমানুভূতি!

তৃণমূলের শ্রেয়া পান্ডে বলছেন, “২০১১ থেকে সিপিএম সেই অর্থে নেই। তাই বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম সিপিএমকে সেভাবে দেখেনি বললেই চলে। এখন সিপিএম পার্টির কোনও জোর নেই। যে উন্নয়ন করবে, যে বাংলাকে সুরক্ষা দেবে তার সঙ্গেই মানুষ থাকবে। তাই বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বারবার বেছে নিচ্ছেন”। তবে, সিপিএমের কিছু তরুণ নেতৃত্বকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন বলেও জানান শ্রেয়া পান্ডে। দু-তিনজন তরুণ বাম নেতৃত্বের কথা, যুক্তি ভালো লাগে সাধন কন্যার। তাঁদের পাশে আছেন বলেও জানান শ্রেয়া। দলীয় প্রতীক বদলালে তাঁরা রাজনীতিতে এগোবেন বলেও একপ্রকার পরামর্শ দিয়েছেন শ্রেয়া পান্ডে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে একাধিক তরুণ তুর্কিকে প্রার্থী করেছিল সিপিআইএম। তবে ভোটবাক্সে বিশেষ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। বামেদের ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনেরই জামানত জব্দ হয়েছিল। জামানত রক্ষা করতে পেরেছিলেন শুধু মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তী। নতুন মুখেদের অবস্থা ছিল তথৈবচ।

হুগলির ডানকুনিতে সদ্য শেষ হয়েছে সিপিএমের ২৭তম রাজ্য সম্মেলন। ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ডানকুনিতে শান্তি মঞ্চে সম্মেলন চলার পরে, শেষ দিনে ডানকুনি স্পোর্টিং ক্লাবে প্রকাশ্য সমাবেশ হয়। তার আগে শান্তি মঞ্চে গঠিত হয় নতুন রাজ্য কমিটি। রাজ্য সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন মহম্মদ সেলিম। ৮০ জনের কমিটিতে ১৫ জন মহিলা। প্রগতিশীল, সাম্যের কথা বলা, নারী অধিকার, নারী সুরক্ষার কথা বলা পার্টির রাজ্য কমিটিতে মহিলা সদস্য সংখ্যা এত কম কেন? এই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যার উত্তরে অবশ্য নব নির্বাচিত রাজ্য সম্পাদক বলছেন, “আগে ১৪ জন মহিলা সদস্য ছিল। এবার সংখ্যাটা ১৫ হল। আরও বাড়াতে হবে। ধাপে ধাপে এগোব আমরা”।

সিপিএমে বৃদ্ধতন্ত্র ও মহিলাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অবশ্য এসব বিতর্কে কান দিতে নারাজ নেতৃত্ব। রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে নবীন-প্রবীণ, কৃষক-শ্রমিক, মহিলা-পুরুষ সবাইকে একত্রিত করে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার বার্তা দিয়েছেন প্রকাশ কারাট থেকে শুরু করে দেবলীনা হেমব্রম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও মহম্মদ সেলিমরা। কিন্তু বাস্তবের চিত্র থেকে কতদিনই বা মুখ ঘুরিয়ে থাকবেন বামেরা? প্রত্যক্ষ রাজনীতি না করা মানুষও জানেন, ক্রমেই ডানপন্থীদের দিকেই আকৃষ্ট হচ্ছে যুবসমাজ। আর যারা হচ্ছেন না, তারা উদাসীন থেকে যাচ্ছেন সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে। ব্রিগেড ভরানোর ছবি, সম্মেলন থিকথিক করা ছবি দিয়ে আসলে ভ্রমে বাঁচছে না কি বামেরা?

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?