সন্দেহভাজন প্রার্থীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও কেন যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করা গেল না?

SSC Supreme Court Verdict: স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও উত্তরপত্রের কোনও হার্ডকপি নিজেদের কাছে রাখেনি। ওএমআর শিটের মিরর ইমেজও এসএসসির সার্ভারে পাওয়া যায়নি।

inscript
৪ মিনিট
সন্দেহভাজন প্রার্থীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও কেন যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করা গেল না?

হাইকোর্ট গতবছরই প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল। তৃণমূল সরকার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায়। আদালত এসএসসির মামলার শুনানিকালে এই নিয়োগ বাতিলের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। তারপর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে বাংলার ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী। সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরিই বাতিল করে দিয়েছে। আর এই ২৬ হাজারের মধ্যে যারা কোনও দুর্নীতি না করে, ঘুষ না দিয়ে, সাদা খাতা জমা না দিয়ে নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের কী হবে? সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এসএসসি নিয়োগে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, অনিয়ম হয়েছে তাতে যোগ্য আর অযোগ্য আলাদা করাই যাচ্ছে না। তাই সকলের চাকরিই বাতিল করা হয়েছে। ওএমআর শিটে পরীক্ষা দিয়েছেন প্রার্থীরা। ১০ বছর হতে চলল সেই নিয়োগের। এতদিন পরে হঠাৎ একদিন পায়ের তলা থেকে জমি সরে গেল যাঁদের, তাঁদের প্রশ্ন, চাকরি বাতিলের ক্ষেত্রে যোগ্য ও অযোগ্য নির্ধারিত করা আসলে কার দায়িত্ব ছিল? সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার তদন্ত করছিল সিবিআই। এতদিন ধরে কেন দুর্নীতিতে যুক্ত আর দুর্নীতি মুক্তদের আলাদা করাই গেল না?

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যাঁদের চাকরি পাওয়ার ন্যায্যতা নিয়ে সন্দেহের যাবতীয় উপাদান মজুত রয়েছে, তাঁদের চার বছরের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। জানা যাচ্ছে এখনও অবধি এই সন্দেহের তালিকায় থাকা প্রার্থীদের সংখ্যা ৫,৪০০ জনের মতো। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, একদিকে শীর্ষ আদালতই এই প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার প্রার্থীকে সন্দেহের তালিকায় রাখছে, তাহলে বাকি প্রায় ২০ হাজার মানুষের চাকরি গেল কেন? যদি সাদা খাতা জমা দেওয়া বা ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়াদের মোটামুটি আন্দাজও পাওয়া গিয়ে থাকে, তাহলে সিবিআই কেন আরও কঠোর তদন্ত করে সেই তালিকা নিশ্চিত করতে পারল না? কেন সৎভাবে চাকরি পাওয়া মানুষদেরও বইতে হচ্ছে সেই অপরাধের ভার, যা তারা করেননি?

আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, এভাবে সন্দেহভাজনদের তালিকা ধরে যোগ্য প্রার্থী বা দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীদের ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, তিনটি বিভাগ থেকে এই সন্দেহভাজন প্রার্থীদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২৬ হাজার চাকরি বাতিলই! বিধানসভা নির্বাচনে অশনি সংকেত হবে শিক্ষকদের কান্না?

SSC Recruitment scam Verdict: সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছে, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভবই হয়নি। ফলে আবারও পরীক্ষা দিতে হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেই তাঁদের আবেদন করতে হবে।

১) প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর যাঁরা চাকরি পেয়েছেন,

২) তালিকা বহির্ভূত প্রার্থী যাঁরা চাকরি পেয়েছেন,

৩) সিবিআইয়ের উদ্ধার করা ওএমআর শিটে যাঁদের নম্বর বাড়ানো হয়েছে।

তাহলে এই ওএমআর শিট মিলিয়ে, যাদের নম্বর বাড়ানো হয়েছে তাদের নিশ্চিতভাবে আলাদা করা যাচ্ছে না কেন? রাজনৈতিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর দায় পুরোটাই রাজ্য সরকারের। স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও উত্তরপত্রের কোনও হার্ডকপি নিজেদের কাছে রাখেনি। নিয়োগ স্বচ্ছ রাখতে ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ বা বলা যায় ট্রেসিং যত্ন করে রাখা দরকার। সেটিও এসএসসির সার্ভারে পাওয়া যায়নি। সিবিআই গাজিয়াবাদে নাইসার এক আধিকারিকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে কিছু মিরর ইমেজ। সেখানে জানা যায়, ০ পাওয়া প্রার্থীর নম্বর বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৩! সুতরাং, কার নম্বর বেড়েছে, কার মিরর ট্রেসিং উধাও তা নিশ্চিত নয়। তাছাড়া ইন্টারভিউ, টাইপিং টেস্ট সবেতেই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সিবিআই। তাই এটুকু স্পষ্ট যে ওই ৫,৪০০ জনেই দুর্নীতি শেষ নয়। সংখ্যা আরও বেশি। সমস্ত ধরনের দুর্নীতির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানই পাওয়া যায়নি। ফলে সুপ্রিম কোর্ট যোগ্য আর অযোগ্যের ফারাক করতে পারেনি।

বলাই বাহুল্য, এই নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। তবে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, এই রায় তিনি মেনে নিতে পারছেন না। যে সন্দেহভাজনদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে আদালতে, সেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীদের তালিকা বিষয়ে মমতা বলছেন, "যাদের ‘Tainted’ বলা হচ্ছে, আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। আমাদের পড়তে দিলে না হয় খুঁজে বের করতাম। ভুলে যাবেন না, এঁরা সবাই স্কুলে পড়ান। স্কুলগুলির কী হবে, শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়াই কি বিজেপি-র লক্ষ্য? বাংলাকে আর কত নিশানা করবেন?”

নিজের চেনা পিচ থেকে বেরিয়ে ব্যাটিং করতেই চাননি মুখ্যমন্ত্রী। চেনা ভঙ্গিতেই বিজেপি-সিপিএমকে নিশানা করেছেন। আর আবারও, শিক্ষকদের চরমতম এই দুর্দিনে দাঁড়িয়ে, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন! মমতা বলছেন, "এখনও ১ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে। এই মামলার জন্য করতে পারছিলাম না। আগে এটার সমাধান হোক। হাতে আরও ১ লক্ষ আছে। রায় মেনে SSC সিদ্ধান্ত নেবে।" যে চাকরি গেল, সেই পরীক্ষা আবার কীভাবে হবে, কী পরিকল্পনা হচ্ছে, সেই নিয়ে কোনও শব্দ উচ্চারণ করেননি মমতা। উল্টে টেনে এনেছেন, মধ্যপ্রদেশের এক দুর্নীতির প্রসঙ্গ! মমতা বলছেন, "মধ্যপ্রদেশে ব্যাপমকাণ্ডে কী হয়েছে? ৫০ জনের বেশি লোক খুন হয়েছে। কী শাস্তি হয়েছে অপরাধীদের? আমাদের এখানে তো প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে সিবিআই জেলে রেখে দিয়েছে! আমরা তো কিছু বলিনি সেই নিয়ে! একই অপরাধীর কতবার শাস্তি হয়? একজনের অপরাধে কতজনের শাস্তি হয়? তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই এর মধ্যে দু'-চার জন আছে, যাদের ওরা টার্গেট করেছে। আমরা তদন্ত করে যদি বিশদ তথ্য পাই, নিশ্চয়ই করব। SSC একটি স্বতন্ত্র সংস্থা। তাদের কাজে আমরা নাক গলাই না। আমরা রায় গ্রহণ করছি। ওরা তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছে, করে দেব। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছি, SSC-কে আমাদের মনোভাব জানাতে। তারা কী করবে, তাদের সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের অনুভূতি হল, তিন মাসের মধ্যে চাকরি বাতিল হওয়া ২৫ হাজার এবং সেই সময় যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন হয়ে যায়।"

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।