কীভাবে বাংলায় এল জনপ্রিয় ক্যাপ বন্দুক! অবাক করবে দুর্গাপুজোর এই খেলনার ইতিহাস

Cap Gun Nostalgia: সিভিল ওয়ারের পরবর্তীতে ১৯০০ সালের সময়কাল থেকে শুরু হয় সুপারহিরো সিনেমার চল। সেই সিনেমায় ব্যবহার করা হয় এই সমস্ত খেলনা বন্দুকের।

Sourish Das
৫ মিনিট
কীভাবে বাংলায় এল জনপ্রিয় ক্যাপ বন্দুক! অবাক করবে দুর্গাপুজোর এই খেলনার ইতিহাস

নয়ের দশক বা ২০০০-এর প্রথমদিক, তখনও সবাই এতটা টেক স্যাভি হয়ে ওঠেনি, তখনও বাংলার মানুষকে প্রযুক্তির আধুনিকতা ততটা গ্রাস করেনি। মানুষ তখনও ফোনের স্ক্রিনে পুজো দেখার থেকে প্যান্ডেলে গিয়ে পুজো দেখতে বেশি স্বচ্ছন্দ। সামান্য বিষয়গুলির মধ্যে থেকেই আনন্দ খুঁজে পেতেন তখনকার মানুষ। থিমের ভিড় ছিল না, ফলে রেষারেষির কোনও জায়গাও তেমন তৈরি হত না। পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতো কিছু এমন বিষয় যা আজকের ‘অতি আধুনিকতা’র ঠেলায় বিলুপ্তপ্রায় বলা চলে। এরকমই একটি বিষয় ক্যাপ বন্দুক। সেই যুগের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আজও এই বন্দুক এক নস্টালজিয়া। পুজো এলেই মনের মধ্যে অন্যরকমের খুশি, অন্যরকমের আনন্দ কাজ করতে শুরু করত। শুধু ঘুরতে যাওয়ার জন্য নয়, এই আনন্দের মূলে ছিল একটি বিশেষ ধরনের বন্দুক, যাকে একটা গোটা প্রজন্ম চিনেছে ক্যাপ বন্দুক নামে। দুর্গাপুজোর সময় এই ক্যাপ বন্দুকের জনপ্রিয়তাই ছিল তুঙ্গে। ক্যাপ বন্দুক ছাড়া দুর্গাপুজো ভাবাই যেতনা। শুধু বাচ্চারা নয়, এই আনন্দে সামিল হতেন বড়রাও।

দুর্গাপুজোয় এই ক্যাপ বন্দুক ছিল বাঙালি জীবনের এক অনবদ্য অংশ। পুজো এলেই ক্যাপ ফাটানোর গন্ধে ভরে যেত প্রতিটা পাড়া। এমন কোনও বাড়ি নেই, যেখানে ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও এই আনন্দ উপভোগ করেননি। পুজো এলেই দাদু বা ঠাকুমার কাছে শুরু হতো আবদার। আর পঞ্চমীর দিন তাদের হাত ধরেই বাড়িতে আগমন ঘটত এই বন্দুকের, তার সঙ্গে এক রিল ক্যাপ। প্রতিবছর নতুন জামা আর নতুন বন্দুক ছিল পুজোর প্রাণভোমরা। প্রথম প্রথম ক্যাপের আওয়াজ একটু সমস্যা করলেও পরে সয়ে যেত। আর তারপরেই ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী প্যান্ডেলে ঘুরে ঘুরে ফাটানো হতো ক্যাপ। পুজোর কয়েকটা দিন তখন অনেক শিশু বা কিশোর কিশোরীই নিজেদের মনে মনে হয়ে উঠত পুলিশ। আজ বিলুপ্তির পথে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী ক্যাপ বন্দুক।

১৮৬০ সালের মাঝামাঝি নাগাদ আমেরিকান সিভিল ওয়ারের সময় আবির্ভাব হয় এই খেলনা বন্দুকের। সেই সময় আমেরিকায় বিভিন্ন প্রদেশে চলছে যুদ্ধ। এই যুদ্ধের পরিবেশটাকেই কাজে লাগিয়ে কচিকাঁচাদের জন্য নতুন বিনোদনের মাধ্যম তৈরির পরিকল্পনা করল আমেরিকার নামী দামি বন্দুক প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলি। তৈরি হলো প্লাস্টিকের খেলনা বন্দুক। তবে প্রথমে যে রকম বন্দুক তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলি কচিকাঁচাদের মাঝে বিশেষ একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। তার কারণ অবশ্য এই ধরনের বন্দুকের ডিজাইন। খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না সেই যুগের খেলনা বন্দুকের ডিজাইনগুলি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাঙালির দুর্গাপুজোর ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ধরা রইল 'ইন দ‍্য নেম অফ গডেস'-এ

Book Review: তপতী গুহঠাকুরতার 'ইন দ্য নেম অব দ্য গডেস' দুর্গাপুজোর ইতিহাসের আকর।

তবে এরপরে এই বাজার অনেকটা পরিবর্তিত হয়। সিভিল ওয়ারের পরবর্তীতে ১৯০০ সালের সময়কাল থেকে শুরু হয় সুপারহিরো সিনেমার চল। সেই সিনেমায় ব্যবহার করা হয় এই সমস্ত খেলনা বন্দুকের। সেই সময় সিনেমার জন্য যেরকম খেলনা বন্দুক তৈরি করা হতো, সেগুলি দেখতে ছিল একেবারে আসল বন্দুকের মতো। আওয়াজও ছিল বেশ জোরে। ফলে ছোটদের মাঝে বেশ ভালোভাবেই জনপ্রিয়তা পায় এই বন্দুক। তবে, সেকালের বন্দুকে এক বিশেষ ধরনের ডার্ট বা গুলি ব্যবহার করা হতো যা অনেক সময়ই শিশুদের আহত করত।

তখন প্রয়োজন পড়ল এমন এক খেলনা বন্দুকের যাতে আওয়াজও হবে, আবার বাচ্চারাও একেবারে সুরক্ষিত থাকবে। সেখান থেকেই আবিষ্কার হলো ক্যাপের। এই ক্যাপ ছিল মূলত দুই রকমের। একটি হলো বড় ক্যাপ, এগুলি ব্যবহার করা হতো সিনেমার ক্ষেত্রে। আরেকটি হল ছোট পেপার ক্যাপ, যেগুলি পাওয়া যেত কাগজের রোলের আকারে। বড় ক্যাপ সিনেমার জগতেও তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু ছোট ক্যাপ এবং সেই বন্দুক ১৯৩০ এর যুগ থেকেই হয়ে ওঠে ব্যাপক জনপ্রিয়। সেকালের বিভিন্ন ম্যাটিনি আইডলদের নামেও তৈরি হয় একাধিক বন্দুকের মডেল। রয় রজার্স, জেনি আর্ট্রি, হোপালং ক্যাসিডি, মার্শাল ম্যাট ডিল্লন, এই সমস্ত তারকাদের নামে তৈরি হলো একাধিক বন্দুকের মডেল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ডক এলাকার সেই ভয়াবহ হত‍্যাকাণ্ড ও আটের দশকের দুর্গাপুজো

DC Vinod Mehta: অনেকের অস্ত্র মিলে-মিশে দুর্গা শক্তিময়ী, অসুর মারা পড়ল। ডিসি মেহতাকে কি তাহলে সবাই মিলে অস্ত্র দেয়নি?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে বিভিন্ন টিভি শোতে ব্যবহার করা হয় এই ধরনের বন্দুক। সেই সময় থেকে ২০ বছর পর্যন্ত পশ্চিম বিশ্বে ছিল এই ধরনের বন্দুকের সব থেকে ভালো সময়। নিকলস, হাবলি, কেন্টন, কিলগরে, ক্লাসিক, ম্যাটেল, এক্টয়, জর্জ স্মিট, স্টিভেন্সের মতো কোম্পানি আমেরিকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। অন্যদিকে পাইওনিয়ার, কোল্ট ৪৫, কাউ বয়, স্ট্যালিন ৪৫, টেক্সান, পনি-র মতো কোম্পানিগুলি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। তবে, বাংলায় এই ধরনের ক্যাপ বন্দুকের জনপ্রিয়তা শুরু হতে একটু সময় লেগেছিল। ১৯৬০ এর দিকে বাংলায় এই ধরনের বন্দুকের আগমন ঘটে। তার সঙ্গেই আগমন হয় লায়ন নামের একটি কোম্পানির যারা তৈরি করত রোল ক্যাপ। প্রথমদিকে খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও ১৯৬৫ সাল নাগাদ ভারতের খেলনার বাজারে একেবারে জাঁকিয়ে বসে এই ক্যাপ বন্দুক। মোটামুটি ৪০ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত এই ধরনের ক্যাপ বন্দুকের ব্যবসা ছিল রমরমা। তবে আজ এই বন্দুক প্রায় লুপ্ত বলা চলে।

ক্যাপ বন্দুকের শব্দের সঙ্গে মিলে আগমনীর যে বার্তা বইতো বাংলার আকাশে, তার জায়গা আজ দখল করে নিয়েছে জেবিএল এর হাইপারসনিক স্পিকার। সবই কম্পিউটার আর মোবাইল নির্ভর, সেখানেই ব্যস্ত আট থেকে আশি সকলেই। ক্যাপ বন্দুক ফাটানোর মতো সকলের কাছে সময়ও নেই। তাই প্রয়োজন কমেছে। আগে ১০ টাকায় যে ক্যাপ বন্দুক পাওয়া যেত, এখন ৬০ কিংবা ৭০ টাকা দিলেও এই বন্দুক অমিল। বাচ্চা ছেলেমেয়েরা বন্দুক চালায় এখনও। বরং ইদানীং কালেই বাচ্চাদের বন্দুক চালানোর প্রবণতা বেশি বেড়েছে। তবে সেই বন্দুক সীমিত ভিডিও গেম পার্লার পর্যন্তই। যারা হাতে ফোন পেয়েছে, তাদের বন্দুক চালানোর দৌড় স্মার্টফোনের স্ক্রিন পর্যন্তই। সেই বন্দুকও দেখতে এই সমস্ত ক্যাপ বন্দুকের থেকে অনেকটাই ‘স্মার্ট’। অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে সেই বন্দুক দিয়ে গুলি করে ক্যারেকটার নিধনও সম্ভব। তবে, সেইসব বন্দুক পুজোর সুর বহন করে না। সেখানে না আছে পুজোর গন্ধ, আর না আছে আগমনীর সেই সুর।

এখনকার বাবা মায়েরা তাঁদের বাবা মায়েদের কাছে ৫ বা ১০ তারার বন্দুকের দাবি করত, দাবি করত লায়ন ছাপের ক্যাপের। পুজো আসছে মানেই পাড়ার মোড়ে মোড়ে বাঁশের বাঁশি, বন্দুক, ক্যাপ, বেলুনের দোকান। এসবের জায়গা নিয়েছে প্লাস্টিকের খেলনা, মোবাইলের অফারের স্টল। পুজোর বিজ্ঞাপনও পাল্টেছে অনেকখানি। পানমশলা বা মোবাইলের বিজ্ঞাপনের কাছে হেরে গিয়েছে বাংলার পুরনো কিছু কোম্পানির বিজ্ঞাপন।

পকেটে করে লুকিয়ে ক্যাপ বন্দুক নিয়ে পাশের পাড়ায় চলে যাওয়া, সে পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাপ বন্দুকের লড়াই, এসবের কোনও বালাই আজ নেই বললেই চলে। বারুদের গন্ধ মানেই যে শুধু হিংসা নয়, বারুদের গন্ধ মানেই যে স্রেফ ক্ষমতা দখলের ইচ্ছা নয়, বারুদের গন্ধ যে সারল্যেরও প্রতীক হতে পারে, বারুদের গন্ধও যে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করতে পারে, সেটা ক্যাপ বন্দুকের সামনে নাক না নিয়ে গেলে কেই বা জানত?

স্মার্টফোন আর স্মার্টওয়াচের ভিড়ে কোনও দিন কি আর জায়গা ফিরে পাবে এই নস্টালজিয়া? আবারও কি মণ্ডপে মণ্ডপে ক্যাপ ফাটানোর লড়াইয়ে আকর্ষণ খুঁজে পাবে একালের শৈশব? ‘নাইন্টিজ কিডস’দের খেলনা কি ফের দুর্গাপুজোর অঙ্গ হয়ে উঠবে কখনও? এসব প্রশ্নেই পেরিয়ে যাচ্ছে নয়া জমানার উৎসব, পেরিয়ে যাচ্ছে উৎসবের কার্নিভাল।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।