১৯৪৬: হিংসা থেকে সম্প্রীতির পথে, ইতিহাসের পাঠ সমাজসেবীর পুজোয়

Durga Puja 2025: নেতাজির সহকর্মী লীলা রায় চেষ্টা করেছিলেন সহমনা মানুষদের সঙ্গে নিয়ে দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষকে সাহায্য করতে। সেই সময় থেকেই সমাজসেবী সঙ্ঘের যাত্রা শুরু হয়।

suman sengupta
৬ মিনিট
১৯৪৬: হিংসা থেকে সম্প্রীতির পথে, ইতিহাসের পাঠ সমাজসেবীর পুজোয়

দক্ষিণ কলকাতার পরিচিত রাস্তাগুলির একটি লীলা রায় সরণী, শরৎ বোস রোড। সাদার্ন অ্যাভিনিউকে কেটে রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের সঙ্গে মেশা যে সব রাস্তাগুলি, তার পাশেই ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজসেবী সঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন লীলা রায়, যিনি একসময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছিলেন। অনেকের মনে হতে পারে, এবারের পুজোর থিম শুধু সমাজসেবী সঙ্ঘকে ঘিরেই। কিন্তু বিষয়টি আসলে তার থেকেও অনেক বড়— ১৯৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গার পর লীলা রায়, মেঘনাদ সাহা-সহ বহু মানুষ যেভাবে দাঙ্গাপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ইতিহাসকে স্মরণ করেই এই ভাবনার নাম রাখা হয়েছে ‘পথের পাঁচালি’।

একদিকে যখন এক অবাঙালি পরিচালক দাঙ্গার ইতিহাস বিকৃত করে সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করছেন, তখন শিল্পী প্রদীপ দাস তুলে ধরেছেন— কীভাবে এই শহরেরই এক কোণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। শিল্পী এর আগে কলকাতার আরও কয়েকটি পুজোয় কাজ করেছেন, কিন্তু এই সময়টিকে বেছে নেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট— বাঙালির ইতিহাস আসলে ধর্মনিরপেক্ষতার ইতিহাস, যার সাক্ষ্য মেলে বিভিন্ন সময়ে নানা ছাপাখানার মুদ্রণে। তাই মণ্ডপের প্রবেশপথে রাখা হয়েছে এক ছাপা যন্ত্র এবং বইয়ের মলাট, যেখানে লেখা আছে— ‘সেকুলার বাঙালির ইস্তেহার’। যেন মনে করিয়ে দেয়, যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, বাংলার মাটি বিভেদের বিরুদ্ধে অটল।

প্রতিটি রাস্তাই একেকটি ইতিহাস বয়ে বেড়ায়। সমাজসেবী সঙ্ঘের আশেপাশের রাস্তা ও বাড়িগুলিও তার ব্যতিক্রম নয়। খড়খড়ি দেওয়া জানলা, পুরনো বারান্দা, বড় আয়না— সবই বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। ১৯৪৬ সালের অগাস্টে যখন কলকাতা ভাতৃঘাতী দাঙ্গায় জ্বলছিল, তখন এখানকার মানুষ তাঁদের দরজা খুলে দিয়েছিলেন সম্প্রীতির স্বার্থে। সেই পথ চলার ইতিহাস আজও মানুষ মনে রেখেছেন। নেতাজির সহকর্মী লীলা রায় চেষ্টা করেছিলেন সহমনা মানুষদের সঙ্গে নিয়ে দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষকে সাহায্য করতে। সেই সময় থেকেই সমাজসেবী সঙ্ঘের যাত্রা শুরু হয় এবং একই বছরে পুজোও শুরু হয়। তবে এই পুজো কোনোদিনই কেবল সংখ্যাগুরুর ধর্মীয় উৎসব হয়ে থাকেনি, বরং প্রথম দিন থেকেই এটি হয়ে উঠেছে সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। তাই আজও পুজোর মণ্ডপে প্রবেশ করলে শোনা যায় আজানের সুর— সেই ইতিহাসেরই স্মারক হিসেবে।

আজ যখন ‘বেঙ্গল ফাইলস’– এর মতো ছবি অর্ধসত্য তথ্য পরিবেশন করে, তখন ইতিহাসের আসল প্রতিরোধের কাহিনি সামনে আনা জরুরি। শিল্পী তাই দেখিয়েছেন— শুধু দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা হয়নি, দাঙ্গা থামানো ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্যও বহু মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন। শকুনের নজরদারি, উড়োজাহাজ, অস্ত্রে বোঝাই ট্রাক, সাইরেন, বোমার শব্দ— সবই ছিল সেই সময়ের বাস্তবতা লীলা রায়, মেঘনাদ সাহা, শরৎ বসু, যদুনাথ সরকার, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী— সকলেই এগিয়ে এসেছিলেন সম্প্রীতি রক্ষায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিনেমায় বিকৃত ১৯৪৬, ইতিহাসের নামে চলছে যে রাজনীতির খেলা

The Great Calcutta Killings: ৭০ বছর পর এই ঘটনাটা নিয়ে সিনেমা করার পিছনে কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? বিবেক অগ্নিহোত্রীদের লক্ষ্য হলো, হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে তাদের মধ্যে ঘৃণার সৃষ্টি করা।

মণ্ডপের চারপাশে ট্রাকের ছবিতে ধরা পড়েছে সেই অন্ধকার দিনগুলির স্মৃতি— কখনও অস্ত্র বোঝাই হয়ে, কখনও বা আহত মানুষকে উদ্ধার করতে। ঐতিহাসিক সৌম্য বসুর লেখায় পাওয়া যায়— কীভাবে দাঙ্গা স্তিমিত হওয়ার পর সমাজসেবার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেখান থেকেই জন্ম নেয় সমাজসেবী সঙ্ঘ। ২০২৫ সালের এই পুজো তাই কেবল উৎসব নয়, ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক হাসপাতাল ছিল লেক ভিউ রোডে। সেই হাসপাতালের কর্মীরাও লীলা রায়ের সঙ্গে মিলে দাঙ্গাপীড়িত মানুষদের সাহায্যে নেমেছিলেন। নানা বইয়ে উল্লেখ আছে— কীভাবে হিন্দু প্রতিবেশীরা মুসলিম হায়দার আলিকে রক্ষা করেছিলেন, অথবা এক মুসলিম পরিবার কীভাবে হিন্দু টি এন ঘোষকে দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল।

এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এখনও ছড়িয়ে আছে সেইসব গল্প। পুরনো সংবাদপত্রের কাটিং একত্রে করলে ভেসে ওঠে অন্য ছবি— যা ‘বেঙ্গল ফাইলস’-এর অর্ধসত্যের বিপরীতে দাঁড় করায় ঐক্য ও প্রতিরোধের ইতিহাস।

সমাজসেবীর এই পুজো আসলে স্মৃতির সমাহার। যেমন স্কুলে টিফিন ভাগ করে খাওয়ার সময় হিন্দু-মুসলমানের কোনো ভেদাভেদ ছিল না— সেই ছোট্ট স্মৃতিই আজ প্রতীক হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক সুস্নাত দাসের কথায়—

“১৯৪৫ এর পর ব্রিটিশরা ভয় পেত যে যদি হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ সবাই এক পতাকার নিচে একত্রিত হয়, যেমন হয়েছিল নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজে, তবে তাঁদের শাসন আর টিকবে না।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গোপাল পাঁঠা 'হিন্দু বীর' বা 'বিপ্লবী' কোনোটাই ছিলেন না

Gopal Patha: গোপাল পাঁঠা প্রথমে পাড়ার মস্তান ছিলেন পরবর্তী সময় দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি এবং তার সঙ্গীরা সাত মাইল দূর থেকে কখনও হিন্দু মহাসভার কাছাকাছি ছিলেন না, তারা মূলত ছিলেন দক্ষিণপন্থী।

এই সময়ের নৌ বিদ্রোহ কিংবা শ্রমিক আন্দোলনের দিনগুলোতে শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষকরা যে ঐক্যের ছবি গড়ে তুলেছিলেন, তা ভাঙার জন্য সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। আর তাই সমাজসেবীর আজকের এই ‘পথের পাঁচালি’ এক অন্য বিকল্পের দিশা দেখায়। এই পুজো আমাদের মনে করিয়ে দেয়— বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষতার ইতিহাস কতটা গভীর ও পুরনো। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে অনেকেরই ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, তবু যদি সুযোগ মেলে, দক্ষিণ কলকাতার সমাজসেবীর এই পুজো অন্তত একবার দেখে আসা উচিত।

দক্ষিণ কলকাতার পরিচিত রাস্তাগুলির একটি লীলা রায় সরণী, শরৎ বোস রোড। সাদার্ন অ্যাভিনিউকে কেটে রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের সঙ্গে মেশা যে সব রাস্তাগুলি, তার পাশেই ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজসেবী সঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন লীলা রায়, যিনি একসময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছিলেন। অনেকের মনে হতে পারে, এবারের পুজোর থিম শুধু সমাজসেবী সঙ্ঘকে ঘিরেই। কিন্তু বিষয়টি আসলে তার থেকেও অনেক বড়— ১৯৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গার পর লীলা রায়, মেঘনাদ সাহা-সহ বহু মানুষ যেভাবে দাঙ্গাপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ইতিহাসকে স্মরণ করেই এই ভাবনার নাম রাখা হয়েছে ‘পথের পাঁচালি’।

একদিকে যখন এক অবাঙালি পরিচালক দাঙ্গার ইতিহাস বিকৃত করে সংখ্যাগুরুদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করছেন, তখন শিল্পী প্রদীপ দাস তুলে ধরেছেন— কীভাবে এই শহরেরই এক কোণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। শিল্পী এর আগে কলকাতার আরও কয়েকটি পুজোয় কাজ করেছেন, কিন্তু এই সময়টিকে বেছে নেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট— বাঙালির ইতিহাস আসলে ধর্মনিরপেক্ষতার ইতিহাস, যার সাক্ষ্য মেলে বিভিন্ন সময়ে নানা ছাপাখানার মুদ্রণে। তাই মণ্ডপের প্রবেশপথে রাখা হয়েছে এক ছাপা যন্ত্র এবং বইয়ের মলাট, যেখানে লেখা আছে— ‘সেকুলার বাঙালির ইস্তেহার’। যেন মনে করিয়ে দেয়, যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, বাংলার মাটি বিভেদের বিরুদ্ধে অটল।

প্রতিটি রাস্তাই একেকটি ইতিহাস বয়ে বেড়ায়। সমাজসেবী সঙ্ঘের আশেপাশের রাস্তা ও বাড়িগুলিও তার ব্যতিক্রম নয়। খড়খড়ি দেওয়া জানলা, পুরনো বারান্দা, বড় আয়না— সবই বহন করছে সেই সময়ের স্মৃতি। ১৯৪৬ সালের অগাস্টে যখন কলকাতা ভাতৃঘাতী দাঙ্গায় জ্বলছিল, তখন এখানকার মানুষ তাঁদের দরজা খুলে দিয়েছিলেন সম্প্রীতির স্বার্থে। সেই পথ চলার ইতিহাস আজও মানুষ মনে রেখেছেন। নেতাজির সহকর্মী লীলা রায় চেষ্টা করেছিলেন সহমনা মানুষদের সঙ্গে নিয়ে দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষকে সাহায্য করতে। সেই সময় থেকেই সমাজসেবী সঙ্ঘের যাত্রা শুরু হয় এবং একই বছরে পুজোও শুরু হয়। তবে এই পুজো কোনোদিনই কেবল সংখ্যাগুরুর ধর্মীয় উৎসব হয়ে থাকেনি, বরং প্রথম দিন থেকেই এটি হয়ে উঠেছে সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। তাই আজও পুজোর মণ্ডপে প্রবেশ করলে শোনা যায় আজানের সুর— সেই ইতিহাসেরই স্মারক হিসেবে।

আজ যখন ‘বেঙ্গল ফাইলস’– এর মতো ছবি অর্ধসত্য তথ্য পরিবেশন করে, তখন ইতিহাসের আসল প্রতিরোধের কাহিনি সামনে আনা জরুরি। শিল্পী তাই দেখিয়েছেন— শুধু দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা হয়নি, দাঙ্গা থামানো ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্যও বহু মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন। শকুনের নজরদারি, উড়োজাহাজ, অস্ত্রে বোঝাই ট্রাক, সাইরেন, বোমার শব্দ— সবই ছিল সেই সময়ের বাস্তবতা লীলা রায়, মেঘনাদ সাহা, শরৎ বসু, যদুনাথ সরকার, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী— সকলেই এগিয়ে এসেছিলেন সম্প্রীতি রক্ষায়।

মণ্ডপের চারপাশে ট্রাকের ছবিতে ধরা পড়েছে সেই অন্ধকার দিনগুলির স্মৃতি— কখনও অস্ত্র বোঝাই হয়ে, কখনও বা আহত মানুষকে উদ্ধার করতে। ঐতিহাসিক সৌম্য বসুর লেখায় পাওয়া যায়— কীভাবে দাঙ্গা স্তিমিত হওয়ার পর সমাজসেবার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেখান থেকেই জন্ম নেয় সমাজসেবী সঙ্ঘ। ২০২৫ সালের এই পুজো তাই কেবল উৎসব নয়, ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক হাসপাতাল ছিল লেক ভিউ রোডে। সেই হাসপাতালের কর্মীরাও লীলা রায়ের সঙ্গে মিলে দাঙ্গাপীড়িত মানুষদের সাহায্যে নেমেছিলেন। নানা বইয়ে উল্লেখ আছে— কীভাবে হিন্দু প্রতিবেশীরা মুসলিম হায়দার আলিকে রক্ষা করেছিলেন, অথবা এক মুসলিম পরিবার কীভাবে হিন্দু টি এন ঘোষকে দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল।

এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এখনও ছড়িয়ে আছে সেইসব গল্প। পুরনো সংবাদপত্রের কাটিং একত্রে করলে ভেসে ওঠে অন্য ছবি— যা ‘বেঙ্গল ফাইলস’-এর অর্ধসত্যের বিপরীতে দাঁড় করায় ঐক্য ও প্রতিরোধের ইতিহাস।

এই সময়ের নৌ বিদ্রোহ কিংবা শ্রমিক আন্দোলনের দিনগুলোতে শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষকরা যে ঐক্যের ছবি গড়ে তুলেছিলেন, তা ভাঙার জন্য সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। আর তাই সমাজসেবীর আজকের এই ‘পথের পাঁচালি’ এক অন্য বিকল্পের দিশা দেখায়। এই পুজো আমাদের মনে করিয়ে দেয়— বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষতার ইতিহাস কতটা গভীর ও পুরনো। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে অনেকেরই ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, তবু যদি সুযোগ মেলে, দক্ষিণ কলকাতার সমাজসেবীর এই পুজো অন্তত একবার দেখে আসা উচিত।

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কুম্ভের রাস্তা চওড়া করতে ভাঙা পড়ল মসজিদ, উজ্জয়িনীর ঘটনায় উঠছে যে প্রশ্ন

Legal Battle of ujjain's Shahi masjid: ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিতে উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের তিন ফুট অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের ২৭২টি ভবনের তালিকায় রয়েছে ৮০টিরও বেশি ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাতভর আলোচনার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ছত্রি চকে ছোড়া হয় পাথর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ছুড়তে হয় কাঁদানে গ্যাস।

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।

জেলের ৭১৬ দিন: কী পড়তেন, কী ভাবতেন, কীভাবে লড়তেন ভগৎ সিং?

Bhagat Singh jail life: জেলখানায় ভগৎ সিংয়ের সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিল বই। দ্বারকাদাস লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান শাস্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলের ভিতর বই পাচার করতেন। এই ৭১৬ দিনে তিনি প্রায় ৩০০-র বেশি বই পড়েছেন ভগৎ সিংহ।

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।