নারীদের বাদ দিয়ে সংবাদিক সম্মেলন, তীব্র নিন্দা এডিটরস গিল্ডের

Taliban Minister’s Press Meet Sparks Outrage: ভারতের এডিটর গিল্ড (Editors Guild of India) এই ঘটনাকে স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বলে উল্লেখ করেছে।

inscript
২ মিনিট
নারীদের বাদ দিয়ে সংবাদিক সম্মেলন, তীব্র নিন্দা এডিটরস গিল্ডের

দিল্লির আফগান দূতাবাসে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি-এর সংবাদ সম্মেলন শুধু কূটনৈতিক আলোচনার জন্যই নয়, নারী সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণেও দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো ভারত সফরে আসা এই তালিবান মন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠককে নারী-বিরোধী নীতির সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও লিঙ্গ সমতার বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন।

ভারতের এডিটর গিল্ড (Editors Guild of India) এই ঘটনাকে স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বলে উল্লেখ করেছে। গিল্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নীতি বিরুদ্ধ।” গিল্ড আরও উল্লেখ করেছে, ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় দূতাবাসগুলো থাকলেও, ভারতের মাটিতে এমন বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন নারীবিদ্বেষী তালিবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে দিল্লি?

At Jaishankar-Muttaqi meet in Delhi: এর আগের ১৫ মে-এর এস. জয়শঙ্কর ও আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ফোনালাপ শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

ভারতীয় মহিলা প্রেস কর্পস (Indian Women’s Press Corps) এই ঘটনাকে অত্যন্ত বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, “মহিলা সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়া আসলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানিক নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।” তারা ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছে, আফগান দূতাবাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট আলোচনার করতে, যেন এই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না হয়।

ভারতের রাজনৈতিক মহলের একাংশও ঘটনাটির নিন্দা করেছেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ““প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি, ভারত সফরে তালিবান প্রতিনিধির সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মহিলা সাংবাদিকদের অপসারণের বিষয়ে আপনার অবস্থান স্পষ্ট করুন। যদি নারীর অধিকারের প্রতি আপনার স্বীকৃতি কেবল এক নির্বাচন থেকে অন্য নির্বাচন পর্যন্ত সুবিধাজনক ভঙ্গিমায় প্রকাশ না হয়ে থাকে, তাহলে ভারতের সবচেয়ে যোগ্য কিছু নারীর প্রতি এই অপমান কীভাবে আমাদের দেশে অনুমোদিত হয়েছে, নারীরাই যে দেশের মেরুদণ্ড এবং গর্ব?” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা ভারতীয় কূটনীতির বাস্তবতা এবং গণতান্ত্রিক নীতির মধ্যে একটা জটিল দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কর্মক্ষেত্রেনারী পুরুষে বেতনের ফারাক! বৈষম্যের কারণ উঠে এল সমীক্ষায়

Gender gap in workplace: মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার পর নারীরা প্রায়ই কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসে বেতন বা পদোন্নতিতে পিছিয়ে পড়েন। এটি শুধু ব্যক্তিগত স্তরে নয়, অর্থনৈতিকভাবেও ধাক্কা দেয় দেশকে।

প্রথমে আফগান দূতাবাস কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরেকটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, সেখানে নারী সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক সমালোচনার কারণে আফগান পক্ষ কিছুটা মনোযোগী হয়েছে।

তালিবান সরকার ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মেয়েদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ, চাকরি থেকে সরানো এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় কোনো দেশই এখনও তাদের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশ তালিবানকে স্বীকৃতি না দিয়ে, কূটনৈতিক সংলাপ চালাচ্ছে, এই নিয়েও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

যদিও বিতর্ক শুরু হতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছিল, “এই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে ভারতের কোনো যোগ নেই।” তবুও প্রশ্ন উঠছে, তালিবানের নারীবিদ্বেষী নীতি জানা সত্ত্বেও, ভারত কেন আগেভাগে এমন বৈষম্যমূলক অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করল না?

উল্লেখ্য, এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও লিঙ্গ সমতা রক্ষার জন্য এখনও সতর্ক থাকা জরুরি। স্বীকৃতি না দিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নীতি এবং বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে তো ভারত? সেই প্রশ্ন থাকছেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।