অবসরের আট মাস! কেন আজও বাসভবন ছাড়েননি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়?

Chandrachur : প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের পর দু'জন দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট করা বাংলোতে ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ই রয়ে গিয়েছেন।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
অবসরের আট মাস! কেন আজও বাসভবন ছাড়েননি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়?

গত বছরের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় অবসর গ্রহণ করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি তিনি। ওই বাংলোটি দেশের প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট করা।তাই দ্রুত বাংলোটি খালি করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিল সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন তিনি টাইপ-৮ বাংলো পেতেন। নিয়ম অনুযায়ী, অবসরের পর সর্বাধিক ৬ মাস টাইপ-৭ সরকারি বাংলোয় থাকতে পারেন একজন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ৬ মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরও কৃষ্ণা মেনন মার্গের বাংলোয় থাকছেন, যা প্রধান বিচারপতির জন্য বরাদ্দ। এবার এই নিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দিল সুপ্রিম কোর্ট। দ্রুত বাংলো ছেড়ে সুপ্রিম কোর্টের হাউসিং পুলে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলছে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি।

আদালতের কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন মন্ত্রককে দেওয়া চিঠিতে প্রাক্তন বিচারপতিকে বাসভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের তরফে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুসারে, মেয়াদ শেষের পর কোন বিচারপতিই এত দিন সরকারি বাংলোতে থাকতে পারবেন না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন্দ্রের শিক্ষানীতি রাজ্যে চালু না হতে দিলেই সমস্যা মিটে যাবে?

National Education Policy 2020: এই শিক্ষানীতি সেই পরিবেশকে নিশ্চিত করতে চায় যেখানে শাসক, এলিট সম্প্রদায় দেশের বৌদ্ধিক ক্ষেত্রগুলোতে রাজত্ব করবে এবং অন্ত্যজ তথা প্রান্তিক পরিবারের ছেলে মেয়ের সস্তা শ্রমের জোগানে পরিণত হওয়াকে তাদের ভবিতব্য বলে মেনে নেবে।

এর জবাবে প্রাক্তন বিচারপতি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য তিনি এখনও বাংলো ছাড়তে পারেননি। তিনি বিকল্প একটি বাংলো পেয়েছেন। তবে সেখানে কিছু সংস্কারের প্রয়োজন। পাশাপাশি, তাঁর দুই কন্যর নিয়মিত এআইআইএমএস (AIIMS)-এ বিশেষ চিকিৎসার দরকার হয়। তাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম। এই কারণেই তাঁর সময় লাগছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, “এই সমস্যার সমাধান কয়েক দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। আমি অবগত এই পদে থাকাকালীন দায়িত্ব ও মর্যাদা কীরকম হওয়া উচিত।”

২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস রুলস-এর ৩বি ধারা অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মেয়াদ শেষে সর্বোচ্চ ছ'মাস পর্যন্ত সরকারি বাংলোয় থাকতে পারেন৷ সেই অনুযায়ী প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের চলতি বছরের ১০ মে বাংলো ছেড়ে দেওয়ার কথা৷ কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে তিনি ওই বাসভবনে থাকার জন্য আরও সময় চেয়েছিলেন৷ তাঁকে সেই অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। ৩১ মে সেই সময়ও শেষ হয়ে গিয়েছে।

দেশের ৫০তম প্রধান বিচারপতি ছিলেন ডিওয়াই চন্দ্রচূড়৷ ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন৷ ১০ নভেম্বর মেয়াদ শেষের পর প্রায় ৮মাস ধরে দেশের প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট করা বাংলোটিতেই থাকছেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Air India crash report: দুটি ইঞ্জিন-ই বন্ধ! এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এল যে তথ্য

Air India crash report: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ইঞ্জিন-১ এবং ইঞ্জিন-২ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি দুই পাইলটের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

তাঁর মেয়াদ শেষের পর দেশের ৫১তম প্রধান বিচারপতি হন সঞ্জীব খান্না৷ তিনি অবসর নেন চলতি বছরের ৩১ মে৷ ছ'মাস নিজের বাসস্থানেই ছিলেন তিনি। তাঁর পরে ৫২তম প্রধান বিচারপতি হন বিআর গাভাই। তিনিও তাঁর পূর্বতন বাংলোতেই থাকছেন৷ বর্তমান প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইকে আশ্বাস দিয়েছেন যে দ্রুত বাংলো ছেড়ে দেবেন। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের পর দু'জন দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিয়েছেন৷ কিন্তু প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট করা বাংলোতে ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ই রয়ে গিয়েছেন৷

এর মধ্যে অনেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের মদত রয়েছে বলে দাবি করছেন। এর আগে একাধিকবার প্রাক্তন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ঘনিষ্ট সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণেশ পুজো উপলক্ষে তাঁর বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যাওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি জাতীয় রাজনীতিতে। মারাঠিদের মতো টুপি পরে পুজোয় অংশ নিয়েছিলেন মোদি। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রাক্তন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ই প্রশ্নবিদ্ধ রায়ে অযোধ্যা বিবাদের নিষ্পত্তি করে মোদি সরকারের মুখরক্ষা করেছিলেন। একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্কের রায়দান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছিলেন, “আমি প্রতিদিন ঈশ্বরের সামনে বসে প্রার্থনা করতাম। আমি মনে করি যে যদি কেউ বিশ্বাস রাখে, তবে ভগবান তাঁকে সঠিক পথ দেখাবেই।”

শুধু তাই নয়, মসজিদ বা দরগাহর নিচে কোনো মন্দির ছিল কিনা তা জানতে একের পর এক সমীক্ষার অনুমতি দিয়েছিলেন চন্দ্রচূড়। এর পর থেকে যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য চন্দ্রচূড়কেই দায়ী করেন ওয়াকিবহাল মহল । বারাণসীতে মন্দির ভেঙে জ্ঞানবাপি মসজিদ তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, ১৯৯১ সালে তৈরি ধর্মস্থান আইনের নিরিখে প্রধান বিচারপতি হিসেবে চন্দ্রচূড় তা খারিজ করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। সে সময় আস্থার যুক্তি দেখিয়ে সেখানে তিনি পূজার্চনারও ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য হল, প্রধান বিচারপতিই সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা বিবেচনায় রাখেননি।

এখন সরকারি বাসভবন প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিই খোদ নিয়ম লঙ্ঘন করছেন?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।