দেহ থেকে আলাদা যৌনাঙ্গ, ৬ সেমি লম্বা শুক্রাণু! অবাক করবে পোকাদের যৌনজীবন

Reproduction of Insects: একজন স্ত্রী পোকার প্রজনননালিতে বেশ কয়েকটি পুরুষের শুক্রাণু থাকতে পারে।

inscript
৩ মিনিট
দেহ থেকে আলাদা যৌনাঙ্গ, ৬ সেমি লম্বা শুক্রাণু! অবাক করবে পোকাদের যৌনজীবন

মানুষের যৌন পরিচয় ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, যৌনতার চাহিদাও কিন্তু যৌন প্রক্রিয়া কমবেশি একই। যৌনতার রকমফেরে কীটপতঙ্গঅরা গুনে গুনে ১০০ গোল দিতে পারে মানুষকে। বিচিত্র কীটপতঙ্গের বিচিত্র দেহবৈচিত্র, বিচিত্র যৌনরীতি। এমন অনেক পোকামাকড় আছে যাদের পুরুষাঙ্গ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়। অনে কীটপতঙ্গ আবার এত শুক্রাণু তৈরি করে যা তাদের নিজের শরীরের আকারের ১০ গুণ বেশি। অনেকে আবার সম্ভাব্য সঙ্গীদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে মেরে ছিঁড়ে ফেলে। যেমন ধরা যাক, পুরুষ স্ট্যাগ বিটল। ইউরোপের বৃহত্তম বিটল এটি। এদের বিশাল চোয়াল রয়েছে, সঙ্গমে লিপ্ত দুই পোকাকে আলাদা করতে পারে এরা। আসলে পছন্দের নারীর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী পোকাকে আলাদা করার জন্যই এই ব্যবস্থা। নারীদের বেছে নিতে অন্যান্য পুরুষদের সঙ্গে লড়ার জন্যই এই শিঙ বা চোয়াল ব্যবহার করা হয়।

আসলে এই প্রজাতির পোকার মধ্যে ছোট আকৃতির পুরুষরা সঙ্গমের লড়াইয়ে জেতার সুযোগ পায় না। তাই সঙ্গমের গোপন কৌশল তৈরি করেছে তারা। এরা অন্য পুরুষদের লড়াই করার জন্য অপেক্ষা করে, তারপরে নারীদের সাথে মিলিত হয় এবং পুরুষদের বিভ্রান্ত করে। পুরুষ কীটদের মধ্যে শারীরিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ডিম্বাণু নিষিক্ত করার প্রতিযোগিতাও চলে। প্রাণিজগতে কিন্তু 'লয়াল' বলে কিছু নেই। স্ত্রী পোকারা কিন্তু খুব কমই তাদের সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। তাই একজন স্ত্রী পোকার প্রজনননালিতে বেশ কয়েকটি পুরুষের শুক্রাণু থাকতে পারে। পুরুষরা এই সমস্যার মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন উপায় উদ্ভাবন করেছে। যেমন বড় শুক্রাণু তৈরি করা। ফ্রুট ফ্লাইয়ের শুক্রাণু প্রায় ৬ সেমি লম্বা হয়! অর্থাৎ মাছিটির আকারের প্রায় ২০ গুণ বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিষে হার মানাবে গোখরোকে, পশ্চিমবঙ্গেও হানা দিচ্ছে এই মারাত্মক পোকা

অ্যাসিডপোকা বা নাইরোবি ফ্লাই। কেনিয়া, নাইরোবি-সহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এদের দেখা মেলে। এমনকী, বিশ্বজুড়ে ক্রান্তীয় অঞ্চলগুলিতে এদের দেখা পাওয়া যায়। তাহলে কি পশ্চিমবঙ্গে এদের দেখা পাওয়া সত্যি-ই অস্বাভাবিক বা ভয়ের?

তবে, সম্ভবত শুক্রাণুর প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার সবচেয়ে অসাধারণ পদ্ধতি বের করেছে ওডোনাটা (ড্রাগনফ্লাইস এবং ড্যামসেলফ্লাই)। এদের অলঙ্কৃত পুরুষাঙ্গ রয়েছে। পুরুষাঙ্গে হুক এবং চাবুক থাকে যা দিয়ে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষদের শুক্রাণুকে সরিয়ে নিজস্ব শুক্রাণুকে স্ত্রীটির যৌনাঙ্গে রাখতে পারে। তবে এই লড়াইয়ে পুরুষদেরই এমন মার-মার, কাট-কাট দশা তা নয়। ব্রাজিলে একধরনের পোকা আছে যারা গুহাতে থাকে। এদের স্ত্রী পোকারা আবার পুরুষদের জন্য প্রতিযোগিতা করে। এদের যৌনাঙ্গ খানিক বিপরীত ধরনের। পুরুষদের খানিক যোনির মতো অংশ থাকে আর স্ত্রীদের উত্থিত একটি যৌনাঙ্গ। স্ত্রী পোকারা তাদেরর 'লিঙ্গ' ব্যবহার করে পুরুষের থেকে শুক্রাণু চুষে নেয়। এমনকী স্ত্রী পোকা তার শরীরের কোন দু'টি কক্ষের মধ্যে শুক্রাণু সঞ্চয় করবে সেই সিদ্ধান্ত সে নিতে পারে। মনে করা হয়, এই আচরণটি সীমিত খাদ্য সরবরাহের অভিযোজন হিসাবে বিবর্তিত হয়েছে। মহিলারা সহবাসের সময় অর্জিত সেমিনাল ফ্লুইড খাওয়ার ফলে শক্তি অর্জন করে, যা ৭০ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

পুরুষ বেড বাগরা স্ত্রী পোকার পেটে ছিদ্র করে তারপর সেই পেটের গহ্বরের ক্ষত দিয়ে শুক্রাণু ঢুকিয়ে দেয়। যেহেতু পোকামাকড়ের ধমনী এবং শিরা ছাড়াই রক্তসংবহন ব্যবস্থা থাকে, তাই শুক্রাণু সহজেই নিষিক্তকরণের জন্য পেটের গহ্বর থেকে ডিম্বাশয়ে চলে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিষাক্ততম সাপের কামড়ে মৃত্যু, ২০ বছরের এই তরুণ না থাকলে তৈরিই হতো না প্রতিষেধক

Snake Antivenom: রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় জিভ নাড়াতে বা গিলতে পারছেন না কেভিন।

পোকামাকড়ের যৌন আচরণের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো প্রেয়িং ম্যান্টিস, যেখানে স্ত্রী পোকা যৌনতার সময় বা পরে তার সঙ্গীর মাথা কামড়ে খেয়ে নেয়। এই মাথা খাওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজের এবং নিজের সন্তানদের জন্য পুষ্টি লাভ করে স্ত্রী পোকা। সম্প্রতি, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে পুরুষরাও স্ত্রী পোকাদের আক্রমণ করে। তবে তারা স্ত্রীদের খায় না, গুরুতরভাবে আহত করে।

অনেক পুরুষ পোকামাকড় শুধুমাত্র একবারই সঙ্গম করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষ মৌমাছিরা এমন বিশাল শক্তি দিয়ে বীর্যপাত করে যে সেই শব্দ মানুষও শুনতে পারে। এর ফলে পুরুষের পক্ষাঘাত হয়, তার ফলে সে মারা যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।