অপছন্দের পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম! অবাঞ্ছিত যৌনতা এড়াতে ব্যাঙ কী করে জানেন?

Frog Mating Facts : পুরুষ ব্যাঙ সাধারণত অ্যামপ্লেক্সাস নামে পরিচিত একটি 'পজিশন'-এ স্ত্রী ব্যাঙের পিঠে উঠে পড়ে।

inscript
৩ মিনিট
অপছন্দের পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম! অবাঞ্ছিত যৌনতা এড়াতে ব্যাঙ কী করে জানেন?

যৌনতার জন্য একে অন্যকে আকর্ষিত করার যে হাজারো কৌশল আছে তা এতদিনে তো জানাই। Gen-Z যাকে বলে 'টার্ন অন' করা সেই উত্তেজনার জন্য আকর্ষণ বা আকর্ষণের জন্য উত্তেজিত করা দুইয়ের উপরেই যে কেবল মানুষের মনোপলি, তা কিন্তু নয়। পশুপাখির জগত এই 'টার্ন অন'-এর ব্যাপারে মানুষের থেকে ঢের রহস্যময় ও চিত্তাকর্ষক। মানুষ শুধুই প্রজননের জন্য যৌনতা করে না ঠিকই, কিন্তু অন্য প্রাণীরা মূলত তাই-ই। তবে মোটেও ভাববেন না যে পশুপাখিদের ছানাপোনা তৈরিই লক্ষ্য বলে যেমন তেমন সঙ্গী পেলেই হলো, যৌনতা করলেই হলো! এসব ভাবনা প্রাণীদের মোটেও থাকে না। মনের মতো সঙ্গী না পেলে মানুষের মতোই 'টার্ন অফ' হয়ে যায় পশুপাখিরাও, আর তারপর যা যা কীর্তি ঘটায়, সে এক আশ্চর্য রহস্য! পৃথিবীতে স্ত্রী ব্যাঙের সংখ্যাই নেহাত কম নয়। নতুন এক গবেষণা বলছে ইউরোপে সাধারণ যে ব্যাঙ মেলে (রানা টেম্পোরারিয়া), সেই স্ত্রী ব্যাঙরা পছন্দসই যৌনসঙ্গী না পেলে আশ্চর্য এক কীর্তি করে।

যৌনসঙ্গমরত অবস্থায় অনেক প্রতিকূল ঘটনাই ঘটতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রেও, পশুপাখির ক্ষেত্রেও। কিছু ক্ষেত্রে যৌনসঙ্গমে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই পছন্দের পুরুষ ব্যাঙের সঙ্গে অবাঞ্ছিত সঙ্গম করতে হলে ইউরোপের এই স্ত্রী ব্যাঙগুলি তিনটি আচরণ তৈরি করে ফেলেছে নিজেদের মধ্যে। গবেষকরা এগুলোর নাম দিয়েছেন; রোটেশন, রিলিজ কল, এবং টনিক ইম-মবিলিটি বা মৃত্যুর ছলনা। তৃতীয় বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত।

ইউরোপিয় এই সাধারণ ব্যাঙগুলি ব্যাপকহারে প্রজনন করে। বসন্তে পুরুষ ও স্ত্রী ব্যাঙের বিশাল সমাবেশ ঘটে। যেখানে পুরুষ ব্যাঙ সাধারণত অ্যামপ্লেক্সাস নামে পরিচিত একটি 'পজিশন'-এ স্ত্রী ব্যাঙের পিঠে উঠে পড়ে। পুরুষ ব্যাঙগুলি যতটা সম্ভব স্ত্রী ব্যাঙের সঙ্গে সঙ্গম করার চেষ্টা করে। যার ফলে অনেকগুলি পুরুষ ব্যাঙ মিলনের জন্য স্তূপাকারে স্ত্রী ব্যাঙের উপরে উঠে পড়ে। পুরুষ ব্যাঙ জলের মধ্যে স্ত্রী ব্যাঙদের এভাবে আঁকড়ে ধরার ফলে স্ত্রী ব্যাঙগুলি ডুবে যেতে থাকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষের মূত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হতো ব্যাঙের দেহে! কীভাবে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করত আগেকার মানুষ?

Pregnancy Test with Frog: চিকিৎসকরা সম্ভাব্য গর্ভবতী মহিলাদের প্রস্রাব একটি সিরিঞ্জে ভরে ব্যাঙের পিঠে থাকা একটি থলিতে ভরে দিতেন।

বার্লিনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক ডঃ ক্যারোলিন ডিট্রিচ বলছেন, আগে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে স্ত্রী ব্যাঙগুলি বোধহয় যৌনতায় একেবারেই আগ্রহী নয়। তবে পরে তারা দেখেন, নিজেদের মধ্যে তিনটি আচরণ অভ্যাস করে ফেলেছে ছোট স্ত্রী ব্যাঙগুলি। এই ছোট স্ত্রী ব্যাঙগুলিই 'অ্যামপ্লেক্সাস' পজিশন থেকে পালাতে বেশি সফল। এই আচরণের ফলে প্রজননের সেই বিশাল পর্বে স্ত্রী ব্যাঙগুলি অনেক কম নিষ্ক্রিয় থাকে।

দু'টি ভিন্ন আকারের স্ত্রী ব্যাঙকে একটি পুরুষ ব্যাঙের সঙ্গে একটি বাক্সে রাখা হয়েছিল এবং এক ঘণ্টা এদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। সবটা রেকর্ডও করা হয়। গবেষকরা দেখেন তিনটি মূল আচরণ করছে এই স্ত্রী ব্যাঙগুলি। ছোট স্ত্রী ব্যাঙ তিনটি কৌশলই বড় স্ত্রী ব্যাঙের চেয়ে বেশি ব্যবহার করছে এবং পুরুষের মিলন মুহূর্ত থেকে এই ছোট ব্যাঙগুলিরই পালানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ছিল। স্ত্রী ব্যাঙগুলির মধ্যে, ৮৩ শতাংশই রোটেশন কৌশলটি ব্যবহার করে সঙ্গম ছেড়ে পালায়। প্রায় অর্ধেক, মানে ৪৮ শতাংশ স্ত্রী ব্যাঙ 'রিলিজ কল' পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই রিলিজ কল হচ্ছে একটি বিশেষ ডাক, যাতে স্ত্রী ব্যাঙগুলি পুরুষদের শব্দের অনুকরণ করে, তাদের উপরে চেপে থাকা পুরুষদেরকে বোকা বানিয়ে ছেড়ে দেয়। পুরুষরা সাধারণত এই রিলিজ কল ব্যবহার করে অন্য পুরুষদের সংকেত দিতে যে তারা একজন পুরুষ, তাই তাদের ছেড়ে দিয়ে মহিলা সঙ্গী খোঁজা উচিত।

টনিক ইম-মবিলিটিতে স্ত্রী ব্যাঙগুলি তাদের বাহু এবং পা শক্ত করে রাখে। ৩৩ শতাংশ স্ত্রী ব্যাঙ এই কৌশলেই পালায়। যেহেতু এই আচরণগুলি বয়স্কদের তুলনায় কম বয়সি স্ত্রী ব্যাঙের মধ্যেই দেখা যায়, তাই এটিও হতে পারে যে সঙ্গমের অতিরিক্ত চাপ এড়াতেই এমন আচরণ তৈরি করেছে নতুন প্রজন্মের স্ত্রী ব্যাঙরা। রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সে প্রকাশিত এই গবেষণায় গবেষকরা আরও বলছেন, এই ব্যাঙগুলির মধ্যে স্ট্রেস কর্টিকোস্টেরনের মাত্রা খতিয়ে দেখলে এই আচরণগুলি আরও ভালো বোঝা যাবে। বাক্সের মধ্যে ওই ব্যাঙদের দেখে যে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে তা ফাঁকা জায়গায় আলাদা হতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?