আবগারি দুর্নীতির টাকা কোথায়? আদালতে হাঁড়ি ভাঙবেন কেজরি?

Delhi Liquor Policy, Arvind Kejriwal: কেজরিওয়ালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৭৩ হাজার টাকা খুঁজে পেয়েছে ইডি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আপাতত ইডি হেফাজতে। গত দু'বছর ধরেই ওই মামলায় একাধিক বার অভিযান চালিয়েছে ইডি।

Sohini Das
৩ মিনিট
আবগারি দুর্নীতির টাকা কোথায়? আদালতে হাঁড়ি ভাঙবেন কেজরি?

লোকসভা ভোটের আর দেরি নেই। ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে দিনক্ষণও। প্রায় সমস্ত দলের প্রার্থীতালিকাই তৈরি। আর ঠিক এ সময়েই আবগারি মামলায় গ্রেফতার করা হল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত ইডি হেফাজতেই থাকতে হবে তাঁকে। তেমনই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। ওই দিনই তাঁকে ফের আদালতে তোলার কথা। আদৌ মুক্তি পাবেন কিনা কেজরিওয়াল, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার আদালতে যে ধামাকা হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেজরিপত্নী সুনীতা।

২০২১ সালের নভেম্বরে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে দিল্লি সরকার শহরে অ্যালকোহন বিক্রিতে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে নতুন একচি আবগারী নীতি চালু করে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে দিল্লির মুখ্যসচিব নরেশ কুমার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে ওই মামলাটি নিয়ে নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলায় সিবিআই তদন্তেরও আর্জি ওঠে। কেজরি-সরকারের নয়া নীতির জেরে সরকারি কোষাগারের ৫৮০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ বেশ কয়েক জন আপ নেতাকে কাঠগড়ায় তোলে ইডি। তার আগে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া-সহ তিন আপ নেতার বাড়িতে তল্লাশিও চালায় সিবিআই। সিসৌদিয়া-সহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় এফআইআরও। ওই বছরেরই মার্চ মাসে ইডি জানিয়েছিল, অন্তত ২৯২ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি এই আবগারি মামলা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অন্তত ন'বার কেজরিওয়ালকে ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের কাছে সুরক্ষা চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হন কেজরি। আর তার পরেই ইডি-র হাতে গ্রেফতার হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেজরিওয়ালের পরে কে? ইডি-সিবিআই অস্ত্রের নিশানায় এবার কারা?

Arvind Kejriwal: বিভিন্ন অবিজেপি রাজ্যে বিরোধীস্বরকে রুখতে নয়া অস্ত্র যেন ইডি-সিবিআই। প্রথমে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তার পরেই খাঁড়া এসে নামল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাঁধে।

কেজরিওয়ালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৭৩ হাজার টাকা খুঁজে পেয়েছে ইডি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আপাতত ইডি হেফাজতে। গত দু'বছর ধরেই ওই মামলায় একাধিক বার অভিযান চালিয়েছে ইডি। মণীশ সিসৌদিয়া থেকে শুরু করে সঞ্জয় সিং ও সত্যেন্দ্র জৈনের বাড়িতেও চলে তল্লাশি অভিযান। গোড়া থেকেই নিজেকে নির্দেশ বলে দাবি করে এসেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের দেখানো পথেও হাঁটেননি কেজরি। যতক্ষণ না অভিযোগ প্রমাণ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগের প্রশ্ন নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই ইডি হেফাজতে থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শুরু করেছেন কেজরি। নিকাশি থেকে শুরু করে দিল্লির জলসমস্যা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও দিয়েছেন জেল থেকেই। দিল্লির জলমন্ত্রী অতীশীকে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জেল থেকেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। যার তাঁর পক্ষ থেকে পাঠ করেছিলেন কেজরি-পত্নী সুনীতা। বুধবার ফের প্রকাশ্যে এলেন সুনীতা। জানালেন, বৃহস্পতিবার আদালতে এই কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস করবেন কেজরিওয়াল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির নেপথ্যেও নির্বাচনী বন্ড! কীভাবে?

Arvind Kejriwal Arrest and Electoral Bond: পিনাকা শরৎ চন্দ্র রেড্ডি ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে ৬২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। যে অনুদানের ৪৪.৫ কোটি টাকাই পেয়েছে বিজেপি।

সুনীতা জানিয়েছেন, ২৮ মার্চ আদালতে কেজরি তথ্য়প্রমাণ-সহ জানাবেন, আবগারি কেলেঙ্কারির সমস্ত অর্থ কোথায় আছে? দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি করে ৭৩ হাজার টাকা উদ্ধার হওয়ায় কার্যত অবাক হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকেরাই। বুধবার অরবিন্দ-পত্নী জানিয়েছেন, "অরবিন্দজি আমায় বলেছেন, গত দু'বছর ধরে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ২৫০ জায়গায় রেড করেছে। এই স্ক্যাম থেকে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে এখনও পর্যন্ত একটা টাকাও উদ্ধার করতে পারেনি ED। ওরা প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার বাড়িতে রেড করেছেন। রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন, প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের বাড়িতেও পৌঁছে যায় এজেন্সি। কিন্তু, একটা টাকাও উদ্ধার করতে পারেনি তারা।" তাহলে কোথায় গেল এই আবগারি দুর্নীতি মামলার টাকা? সুনীতার কথায়, 'অরবিন্দজি সমস্তটাই আদালতে প্রকাশ্যে আনবেন। গোটা দেশ সেই ঘটনার সাক্ষী থাকবে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। আমার স্বামী বলেছেন, তিনি হয়তো শারীরিকভাবে জেলে রয়েছেন, কিন্তু, তাঁর আত্মা রয়েছে দিল্লিবাসীর সঙ্গেই।'

সামনেই লোকসভা ভোট। ভোটের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী সরাতে উদ্দেশ্যপ্রণদিত ভাবেই অবিজেপি রাজ্যগুলির প্রধান নেতা-মন্ত্রীদের পিছনে কেন্দ্রীয় সংস্থা লাগাচ্ছে বিজেপি। এমন অভিযোগ রয়েছে গোড়া থেকেই নানা মহলে। তবে কি সত্যিই বড় কোনও তথ্য়প্রমাণ রয়েছে কেজরিওয়ালের হাতে। গ্রেফতার, ইডি হেফাজত- সব কিছু সত্ত্বেও গোড়া থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে কি তাঁর আস্তিনে লোকানো রয়েছে বড় কোনও তুরুপের তাস? যা বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করার পর হতে চলেছে বড়সড় ধামাকা। অন্তত কেজরি-পত্নীর কথা থেকে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?