দশেরা হয় বাংলাতেও! এই জেলার 'রাবণ কাটা উৎসব' সম্পর্কে আজও জানেন না অনেকেই

সপ্তমী থেকে নবমী পুজোর আনন্দ কাটিয়ে উঠে দশমী থেকে দ্বাদশী অর্থাৎ এই তিনদিন বিষ্ণুপুরের মানুষ মেতে থাকেন প্রাচীন ঐতিহ্য ও পরম্পরার এই নৃত্য উৎসবে।

Ravhali Biswas
৪ মিনিট
দশেরা হয় বাংলাতেও! এই জেলার 'রাবণ কাটা উৎসব' সম্পর্কে আজও জানেন না অনেকেই

রাবণ রাখব, না, রাবণ কাটব

শরতের শিউলি আর কাশফুল আগমন বার্তা এনে দেয় যে মা আসছেন। মহালয়া থেকে শুরু করে দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্যে দিয়ে পুজোর সমাপ্তি ঘটে। তখন বাঙালির মন খারাপ। কিন্তু মায়ের বিসর্জনের সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় অশুভ শক্তির বিনাশ অর্থাৎ রাবন বধ যাকে আমরা ‘দশেরা’ বলে থাকি। আমাদের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে প্রায় ৪০০ বছর ধরে মল্লরাজাদের ঐতিহ্যবাহী এক লোকনৃত্য অনুষ্ঠিত হয় যা ‘রাবন কাটা’ নাচ বলে পরিচিত। অনেকেই হয়তো এই ব্যাপারে অতটা অবহিত নন। সপ্তমী থেকে নবমী পুজোর আনন্দ কাটিয়ে উঠে দশমী থেকে দ্বাদশী অর্থাৎ এই তিনদিন বিষ্ণুপুরের মানুষ মেতে থাকেন প্রাচীন ঐতিহ্য ও পরম্পরার এই নৃত্য উৎসবে।

‘রাবণ কাটা’ আসলে এক রকমের রাবণ বধ। ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যায়, নাচের অনুষ্ঠান শুরু হয় দুর্গা পুজোর শেষ দিন থেকে। এইদিন শ্রী রঘুনাথ জিউ মন্দিরে অভিষেকের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শুরু হয়। পুজোর শিল্পীরা আসেন এবং এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নাচ করেন, এরপর তারা রাবনের ভাই কুম্ভকর্ণকে বধের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের নাচ শেষ হয়। বলা হয়, প্রাচীন এই উৎসব শুরু করেন রামায়েৎ বৈষ্ণব গোষ্ঠী অর্থাৎ রামভক্ত বৈষ্ণবেরা। তখন বিষ্ণুপুরের রাজা ছিলেন মল্লরাজা রঘুনাথ সিং। কাটানধার হল বাঁকুড়ার অতি প্রাচীন এক শহর।

পুরাতাত্ত্বিকদের মতে, রাম রাবনের যুদ্ধে কুম্ভকর্ণ ও ইন্দ্রজিতকে আগে বধ করা হয়েছিল। এরপর দ্বাদশীর রাতে রাবণকে বধ করেন রাম। রাবণকে কেটে কেটে খণ্ড বিখণ্ড করা হয় বলেই রাবন কাটা উৎসব। রীতি মেনে একাদশীর সন্ধ্যায় ইন্দ্রজিতকে বধ করা হয়। আর দ্বাদশীর রাতে মন্দির প্রাঙ্গনে রাবণ বধের দ্বারা উৎসব শেষ হয়।

অনেক বছর আগে পর্যন্ত এই লোকনাচ বাংলার দশেরা বলে পরিচিত হলেও আজ সেসব অতীত। বর্তমানে একমাত্র দ্বাদশীর দিন সকাল বেলা থেকে নাচ গানের পর ‘যুদ্ধংদেহী’ রাবণের মূর্তি সাজানো হয়। রাম, সীতা, লক্ষ্মণের মূর্তির সামনেই রঘুনাথ জিউ কাছ থেকে ২১ বার যাতায়াতের পর জাম্বুবান আর সুগ্রীবের নাচের মধ্যেই হনুমান রাবণের গলায় কোপ বসায়।

দুর্গাপুজোর সমাপ্তিতে এই বিষ্ণুপুরে কান পাতলেই শোনা যায় ফিকে হয়ে যাওয়া নাকাড়া, টিকারা, কাঁসি, ঝাঝনের শব্দ। একটি শোভাযাত্রার মতো করে এগিয়ে আসে তারা। প্রথম সারিতে থাকে জাম্বুবান, বিভীষণ, হনুমান আর সুগ্রীব। আর তার সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রের একটি দল। ৮-৮০ সকলেই সামিল সেই শোভাযাত্রায়। এরপর সেই মুখোশ পরা দল এক এক প্রত্যেকটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের শিল্প দেখালে কিছু প্রণামী পায়। এইভাবেই প্রচলিত পরম্পরাকে সামনে রেখে বিষ্ণুপুরবাসী পালন করে রাবণ কাটা উৎসব।

মুখোশ ও সাজপোশাক

রাবণ কাটা লোকনৃত্যের মূল আকর্ষণ হল এর মুখোশ। জাম্বুবান (কালো), বিভীষণ (লাল), সুগ্রীব (সাদা), হনুমান (সাদা)। আর এই মুখোশ তৈরি করেন প্রায় ২০০ বছর আগে বিষ্ণুপুরে কাটানধারের বাসিন্দা সুকুমার বারিকের পূর্বপুরুষেরা। মুখোশগুলি গামা জাতীয় নরম কাঠের তৈরি, মাথার দিকে ৫০ টি ফুটো করে তার অপর দিয়ে শন পরিয়ে শক্ত করে বেঁধে মাথার চুল তৈরি করা হয়। দাঁতের ছিদ্র দিয়েই অভিনেতাদের দেখার কাজ সারতে হয়। তাদের মুখে থাকে মুখোশ আর দেহে মুখোশের সঙ্গে মানানসই লোমশ পোশাক। হনুমানের পোশাক ‘ঘিয়ে’ রঙের সঙ্গে মুখোশ আর লোম সাদা। জাম্বুবানের মুখোশ ভালুকের মতো, কালো। বিভীষণের লাল রঙ, মাথায় পাগড়ি, কপালে সাদা ত্রিশূল আর ভ্রূ-গোঁফ কোঁচকানো। সুগ্রীবের মুখোশ বানরের আদলে তৈরি। নাচের সময়ে প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ছামধারীর পোশাক থেকে পশমের লোম ছিঁড়ে নিজের ঘরে রাখলে নাকি দূষিত জ্বর থেকে পরিবারের লোকেরা রক্ষা পায়।

রাবণ কাটা নাচের বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। নাচের দুটি ভাগ – দেবচাল ও রাক্ষস চাল। প্রথম নৃত্যে আছে লালিত্য আর পরের নৃত্যে আছে বলিষ্ঠতা। শিল্পীরা নিজের দক্ষতায় লাফ দেন।

রাবণকাটাকে কেন্দ্র করে বানানো হয় মাটির এক বিশাল মূর্তি এবং তার সাথে সাজানো হয় রঘুনাথের রথ। দশমী থেকে দ্বাদশী এই তিনদিন ধরে প্রত্যেক শিল্পী গ্রামের প্রত্যেকটি ঘরে ঘুরে ঘুরে নাচ দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করে। উৎসবের শেষ দিন রাতে জমা হয় মন্দির প্রাঙ্গনে। অষ্টধাতুর রঘুবীর মূর্তিকে রথে বসিয়ে জাম্বুবান, বিভীষণ, সুগ্রীব আর হনুমানের সঙ্গে গ্রামের লোকেরাও উল্লাস করতে করতে এগিয়ে যান রাবণের উদ্দেশ্যে। জাম্বুবানের হাতে থাকা তরোয়াল দিয়ে রাবণের মস্তক ছেদনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ। এরপর সেই রাবণের মূর্তিকে ভেঙে ফেলা হয়। আচার অনুযায়ী অনেকেই রাবণের এই মূর্তি ভাঙা মাটি ঘরে নিয়ে রাখেন, তাদের সংসারের মঙ্গল কামনার জন্য।

আরেকটি প্রচলিত বিশ্বাস এও যে, যে বা যিনি তরোয়াল দিয়ে রাবণের মাথা কাটেন, তার বংশ নাকি লোপ পায়। আগেও দেখা গেছে, যিনি রাবণের মাথা কেটেছেন হয় তিনি গাড়ি থেকে পড়ে পা ভেঙেছেন নয়ত পঙ্গু হয়ে গেছেন। এই কারণে এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিল্পী আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।

অকালে দেবী দুর্গার বোধন করে শক্তিধর হয়েছিলেন রামচন্দ্র। সেই কাহিনিকে ধরে রেখেই আজও এই বিষ্ণুপুরে রাবণ কাটা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। তবে এই লোকনৃত্য সম্বন্ধে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন। যারা এই নৃত্য উৎসবে যোগ দেন তারা নিতান্তই দিন মজুরের পরিবার। বছরের সারা বছর দিন আনে দিন খায় অবস্থা কিন্তু পুজোর দশমী থেকে দ্বাদশী তাদের কাছে আনন্দের সময়। তারপর আবার সেই দিন মজুরের কাজে ফিরে যাওয়া। আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে এই রাবণ কাটা উৎসবের শিল্পীরা। আর্থিক অনটন সহ্য করে অনেক তরুণ প্রজন্ম তাদের এই সংস্কৃতি বজায় রাখতে চাইছে কিন্তু তারা কেউই আর গামার পোশাক আর পাটের আলখাল্লা পড়তে রাজি নয়।

রাবণ কাটা নাচের শিল্পীদের কথায়, ‘আগে বিষ্ণুপুর মেলায় তাদের ধরাবাঁধা অনুষ্ঠান থাকত কিন্তু এখন কোনও ডাকও আসে না’। তাদের আরও অভিযোগ প্রাচীন শিল্পের প্রসারে প্রশাসন কোনওভাবেই সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। তবে আগামী প্রজন্ম এই লোকনৃত্য ধারা বজায় রাখবে কিনা তা নিয়েও আছে অনেক প্রশ্ন।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ভূমিকম্পে নদী শুকোল, গ্রাম ছাড়লেন কারিগররা: আজরাখপুর যেভাবে বাঁচিয়ে রাখল ৪০০ বছরের শিল্পকে

Ajrakh block printing: ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকেই শুকিয়ে যেতে থাকে সরন নদী। নিয়মিত বহমান জল ছাড়া কাপড়ে স্বাভাবিক রং ফোটানো কঠিন হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীরা কূপ খনন করেছিল। লকূপের জলে অতিরিক্ত মাত্রায় লোহা থাকার কারণে কাপড়ে রঙের কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে ফিকে হতে থাকে প্রাকৃতিক ও ভেষজ রঙের এই ঐতিহ্যবাহী আজরাখ শিল্প। জীবিকার সন্ধানে এক সময় গ্রামের বহু মানুষ ভিন্ন পেশা বেছে নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে পাড়ি দিতে বাধ্য হন।

শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব ধারার মেলবন্ধন: খড়দহে নিত্যানন্দের কাত্যায়নী পুজো

Khardaha Nityananda Prabhu Durga Puja: নিত্যানন্দের পূজিতা দেবী কাত্যায়নী দশভুজা। ঘোড়ামুখো সিংহ তাঁর বাহন। ত্রিশূল হাতে অসুরকে তিনি হত্যা করছেন। তাঁর ডানে জয়া ও বামে বিজয়া। জয়ার নিচে গণেশ আর বিজয়ার নিচে কার্তিকের অবস্থান।

কৈলাসী থেকে দশাবতারী, দুর্গার চালচিত্রে যেভাবে ধরা পড়ে বাংলার পুরাণ ও লোকবিশ্বাস

Durga Puja Chalchitra: প্রতিমার ঠিক পিছনে যে অর্ধবৃত্তাকার বা বিস্তৃত কাঠামো থাকে, তাকে বলা হয় চালি। আর তার উপর অঙ্কিত কাহিনিমূলক চিত্রই হলো চালচিত্র। তবে এই চালচিত্রকে শুধুমাত্র শৈল্পিক অলংকরণ হিসেবে দেখা যায় না, বরং বহু শতাব্দীর ধর্মীয় স্মৃতি, লোকবিশ্বাস, পুরাণকথা, সামাজিক কল্পনা ও নন্দনতাত্ত্বিক চেতনার এক জটিল ও সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হলো এই চালচিত্র।

অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?

Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।

জমিদারগিন্নির অপমানের জবাব দিতেই শুরু পাঞ্জা বাড়ির দুর্গাপুজো

Panja family Durga Puja: এক বর্ষামুখর দুর্গাষ্টমীর দিনে জমিদারবাড়ির মহিলারা, জমিদারগিন্নির সঙ্গে, বাড় সিউড়ির দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে যান। ফেরার পথে কর্দমাক্ত রাস্তা পেরোনোর সময় দামি শাড়ি কাদা থেকে বাঁচাতে তাঁরা শাড়ির পাড় কিছুটা তুলে হাঁটছিলেন। কথিত আছে, তা দেখে পাড়ার কয়েকজন কটূক্তি করে বলেন— “পাঞ্জা বাড়ির বউ কাপড় উঠিয়ে চলছে!”

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।