পাহাড়ের কোলে রয়েছে বিশাল মনসা মন্দির, ২০০ বছরের এই ঐতিহ্য অনেকেরই অজানা

Oldest Manasa Mandir: পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝেই, মণিমাজরার জমির মালিক রাজা গোপাল সিং এই মন্দিরের কাজ সম্পূর্ণ করেন।

inscript
৩ মিনিট
পাহাড়ের কোলে রয়েছে বিশাল মনসা মন্দির, ২০০ বছরের এই ঐতিহ্য অনেকেরই অজানা

ঠাকুর দেবতাদের হায়ারার্কিতে মনসার ঠাঁই তলানির দিকে একথা প্রবল ভক্তও স্বীকার করবেন। বাঁ হাতে পুজো পেয়েছেন চাঁদ সদাগরের। অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষদের মধ্যেই একমাত্র তাঁর আরাধনার রমরমা। তবু, তিনি মনসা, অন্যতম 'জাগ্রত'। সাপের দেবী তিনি। বাংলায় কাব্যের আধার তিনি, বেহুলা লখিন্দরের প্রেমকে অমর করা দেবী তিনি। ভারতেই এমন একটি মন্দির রয়েছে মনসার, যার বয়স ২১২ বছর! তবে সেখানে মনসার সঙ্গে অবশ্য জড়িয়ে রয়েছে শক্তিপীঠের কিংবদন্তি। ১৮১১ সাল নাগাদ, মণিমাজরার রাজা ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পরে তৈরি করেছিলেন এই মন্দির। শিবালিকের পাদদেশে বিলাসপুর গ্রামে অবস্থিত ভারতের এই বিখ্যাত মনসা মন্দির।

তবে মনসা নয়, এই মন্দিরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই শিব-সতীর গল্পই! কথিত আছে, পার্বতীর পিতা রাজা দক্ষ একবার শিবের আচরণে অপমানিত বোধ করেছিলেন এবং রেগে গিয়ে শিবকে হরিদ্বারের কাছে এক বড় যজ্ঞে আমন্ত্রণ জানাননি। পার্বতী অবশ্য যজ্ঞে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কিন্তু এসেই বোঝেন হাওয়া খারাপ। অনুষ্ঠানটি তাঁর স্বামী শিবের অপমানের জন্যই আয়োজিত হয়েছে। গভীরভাবে আহত হয়ে তিনি ওই যজ্ঞের আগুনেই ঝাঁপ দিয়ে দেহত্যাগ করেন। কথিত আছে, ওই সময় শিব মৃত স্ত্রীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য করেন সারা বিশ্ব জুড়ে। বিষ্ণু শিবের এই ক্রোধ দমাতে সতীর দেহকে বিভিন্ন অংশে কেটে ফেলেন সুদর্শন চক্র দিয়ে। সতীর দেহ সারা ভারতের নানা অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। সতীর মাথাটি নাকি পড়েছিল এখানে, এই বিলাসপুরে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জ্যান্ত অজগরের আরাধনা পাইথন মন্দিরে, দুর্বলচিত্তদের প্রবেশ নিষেধ

Python Temple: ওয়াইদাহের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে সাপের অস্তিত্ব।

স্বাধীনতার আগে, এই মন্দিরটি মণিমাজরার বিভিন্ন রাজারাই দেখভাল করতেন। কিন্তু প্রিন্সলে স্টেটগুলি ভারতের ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরে মন্দিরটি পুরোহিতদের হাতে চলে যায়। পুরোহিতরা এর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হন। তীর্থযাত্রীরা আসেন ঠিকই কিন্তু মন্দিরটি ঘিরে চরম অব্যবস্থা চলতে থাকে। ১৯৯১ সালে যখন মনসা দেবী শ্রাইন বোর্ড গঠিত হয় এবং হরিয়ানা মাতা মনসা দেবী শ্রাইন অ্যাক্ট ১৯৯১ প্রণয়ন করে মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা হয় তখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। অবহেলার ফলস্বরূপ, হরিয়ানা সরকার মন্দিরটি দখল করে নেয় এবং মন্দির পরিচালনার জন্য "শ্রী মাতা মনসা দেবী শ্রাইন বোর্ড (SMMDSB) পঞ্চকুলা" ট্রাস্ট স্থাপন করে। ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত অত্যন্ত অবহেলিত ছিল এই মন্দির। তবে এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাত্পর্যের জন্য জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল মনসা মন্দির। ভক্তদের কথা মাথায় রেখেই হরিয়ানা সরকার একটি আইনের (১৯৯১ সালের হরিয়ানা আইন নং ১৪) মাধ্যমে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। মন্দির পরিচালনা এবং এই অঞ্চলের ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য হরিয়ানার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে চেয়ারপার্সন করেই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল।

কিংবদন্তি অনুসারে, শিবালিক পর্বতমালার চরম প্রান্তে অবস্থিত এই মন্দিরটির আশেপাশের দৃশ্য ছিল নয়নাভিরাম। পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝেই, মণিমাজরার জমির মালিক রাজা গোপাল সিং এই মন্দিরের কাজ সম্পূর্ণ করেন। লোক বিশ্বাস, মণিমাজরার রাজা গোপালদাস তাঁর দুর্গের দরজা থেকে মন্দির পর্যন্ত একটি গুহা তৈরি করেছিলেন, যা প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। সতীকে দেখতে তিনি প্রতিদিন তাঁর রাণীর সঙ্গে এই গুহা দিয়েই যেতেন। রাজার আগমন না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের দরজা খোলা হতো না। মূল মন্দিরে দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়। আরও তিনটি মূর্তিও স্থাপন করা হয়; সরস্বতী, মনসা এবং মহালক্ষ্মী। এই মন্দির চত্বরে ৩টি মন্দির রয়েছে। মণি মাজরার মহারাজা গোপাল দাস সিং নির্মিত মনসা মন্দিরটিই প্রাচীনতম। এই চত্বরে যে ৩টি মন্দির রয়েছে, সবের মধ্যে মূল মন্দিরটি প্রাচীনতম। মণিমাজরার মহারাজা গোপাল দাস সিং, ১৭৮৩ সালে সিংহাসনে বসেন। তিনিই বিলাসপুর, তহসিল এবং জেলা পঞ্চকুলার গ্রামে শিবালিক পাদদেশে অবস্থিত মনসার বর্তমান মূল মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। পাতিয়ালার মহারাজা করম সিং ১৮৪০ সালে পাতিয়ালা শিবালয় মন্দির স্থাপন করেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ঋত্বিক: ফিরে দেখা

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও আমেরিকার অভিবাসন: আমেরিকার ইতিহাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা কোথায়?

Statue of Liberty: স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন।

এশিয়ার সেরা মিউজিয়ামের স্বীকৃতি পাটনার, কীভাবে বিশ্বসেরাদের টেক্কা দিল বিহার মিউজিয়াম?

Patna Outranks paris: বিশ্বের সেরা ১০০টি মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে কীভাবে ল্যুভর ও মেটের মতো বিখ্যাত জাদুঘরকে পিছনে ফেলে এশিয়ার সেরা মিউজিয়াম হয়ে উঠল পাটনার বিহার মিউজিয়াম?

দেশভাগের ইতিহাসকে নারীর চোখে দেখা: অংশুমান করের ‘হিরণবালা’

Hiranbala Novel Review: বাংলা উদ্বাস্তু-আখ্যানের বড় অংশে দেশভাগের অভিজ্ঞতা এসেছে পুরুষের জীবন, তার মনস্তত্ত্ব ও তার গতিবিধির ভিতর দিয়ে। ‘হিরণবালা’ প্রথমেই এই কাঠামো ভেঙে দেয়। উদ্বাস্তু পরিবারের গল্পে একজন নারীকে নিষ্ক্রিয় বা পরোক্ষ ভূমিকায় না দেখিয়ে, উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতাটিকে প্রত্যক্ষভাবে বুনে দেয় নারীটির জীবন। দেশভাগকে প্রায় অদৃশ্য করে হিরণকে উদ্বাস্তু করা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে, বিয়ের মধ্য দিয়ে।

সুকুমার রায়ের সঙ্গে চার্লি চ্যাপলিনের ভীষণ মিল পাই: স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

Sukumar Ray Literature: কেউ যদি অনেক বড় বয়সেও ছোট থাকতে চায়— যেমন আমি বলি যে আমার বয়স বাড়েনি— আর যদি নিজের বয়সটাকে একই জায়গায় ধরে রাখতে ইচ্ছে করে, তবে মনে হয় সুকুমার রায়ের সমগ্র তাঁর সারাজীবন বিছানার পাশে গীতবিতানের মতোই চিরসঙ্গী হয়ে থাকতে পারে।

বাংলার দেশি খাসির মাংস থেকে চিংড়ি শুঁটকি, জিআই তকমার অপেক্ষায় কোন কোন খাবার?

GI Tag Registration: বাংলার দেশি খাসির মাংস, ইলিশের বিভিন্ন পণ্য ও চিংড়ি শুঁটকি জিআই স্বীকৃতি পেতে চলেছে। আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার আশা। কিন্তু জিআই তকমা কী এবং এই স্বীকৃতি পেলে বাংলার উৎপাদকদের কী লাভ হবে?