পাক এজেন্টের প্রেমে পড়ে গুপ্তচর! ভারতের এই কূটনীতিকের কী পরিণতি হয়েছিল?

Spy Madhuri Gupta: সেই সময় মাধুরীর বয়স ৫২। বছর ৩০-এর জামশেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন মাধুরী৷ আসলে প্রেম নয়, প্রেমের ফাঁদ।

inscript
৩ মিনিট
পাক এজেন্টের প্রেমে পড়ে গুপ্তচর! ভারতের এই কূটনীতিকের কী পরিণতি হয়েছিল?

কিছুদিন আগেই, পাকিস্তানের হয়ে কাজ করা ভারতীয় ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার নাম প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর যে সব তথ্য জানা গিয়েছে, তা স্পষ্ট যে পাকিস্তানের হাই কমিশনের যোগাযোগের সূত্রেই সেই দেশের প্রশাসনিক স্তরের নানা মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গুপ্তচর হয়ে ওঠার পথে এগোতে থাকেন জ্যোতি। সাধারণত কোনও না কোনও অন্য মানুষের হাত ধরেই আরেক মানুষ অপরাধের পথে এসে পড়েন। নেপথ্যে থাকে নানা কারণ, অর্থলোভ, খ্যাতি, কোনও না কোনও বিশেষ সুবিধা পাওয়া এমনকী প্রেমও! প্রেমে পড়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার নজির নতুন নয়। এর আগেও ভারতীয় কূটনীতিক পাকিস্তানের গুপ্তচর হয়ে উঠেছিলেন স্রেফ পাক এজেন্টের প্রেমে পড়ে! জ্যোতি মালহোত্রার ছায়া ধরে উঠে এসেছে ১৫ বছর আগে ধৃত এক পাক গুপ্তচর, মাধুরী গুপ্তর কাহিনি।

২৬/১১ মুম্বই হামলার ১৮ মাস পর ২০১০ সালে সামনে আসে পাকিস্তানের চর মাধুরী গুপ্তর নাম। ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসে কূটনীতিক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। মাধুরী বিদেশ মন্ত্রকের হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বহু দেশে কাজ করেছেন ভারতের হয়ে। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে গল্পটা আর নিছক কাজে থেমে থাকেনি। তা গড়িয়ে যায় প্রেমের সম্পর্কে। সেখান থেকেই জল গড়ায় দেশদ্রোহিতার দিকে।

১৯৮০-র দশকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে যোগ দেন দিল্লিবাসী মাধুরী। তিনি উর্দু ভাষায় দক্ষ ছিলেন এবং ইরাক, লাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া ও ক্রোয়েশিয়ায় কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে, ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনে প্রেস ও ইনফরমেশন বিভাগের দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয় তাঁকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বৌদ্ধ ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে গুপ্তচর! অবাক করবে এই বাঙালির রহস্যময় জীবন

Spy Sarat Chandra Das: আইনি কাগজপত্র সইসাবুদ করে দিতে হয় শরৎচন্দ্রকে যে, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী হবে না। তাঁর মাসিক আয় ধার্য হয় ৩০০ টাকা।

ইসলামাবাদে কর্মরত থাকাকালীনই কূটনীতিকদের একটি অনুষ্ঠানে যান মাধুরী গুপ্ত। সেখানে পাকিস্তানি সাংবাদিক জাভেদ রশিদের মাধ্যমে আইএসআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। এর মধ্যে মুবশার রেজা রানা ও জামশেদ নামে দুই আইএসআই কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। মাধুরী কিন্তু ততদিনে জীবনের অনেকগুলো ঘাট পেরিয়ে এসেছেন। অভিজ্ঞতা তাঁর প্রচুর। সেই সময় মাধুরীর বয়স ৫২। বছর ৩০-এর জামশেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন মাধুরী৷ আসলে প্রেম নয়, প্রেমের ফাঁদ। প্রেমের আড়ালে আইএসআই যে ফাঁদ পেতেছিল, তাতে এতদিনের অভিজ্ঞ, দক্ষ কূটনীতিক মাধুরীও ধরা পড়ে গেলেন৷ সেই সম্পর্কে মাধুরী গুপ্ত নিজেকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলেন যে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জামশেদকে বিয়ে করতেও রাজি ছিলেন৷

প্রেমের মোহেই মাধুরী গুপ্ত বিশ্বাসঘাতকতা করে বসেন নিজের দেশের সঙ্গে। ইমেলের মাধ্যমে মাধুরী ভারতের বিভিন্ন গোপন তথ্য পাঠাতে থাকেন পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কাছে, যার মধ্যে ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের ৩১০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের পোস্টিং সংক্রান্ত তথ্য এবং তাঁদের পারিবারিক বিবরণও। এই তথ্য ফাঁসের ফলে হুমকির মুখে পড়ে ভারতের নিরাপত্তা।

এই বিষয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পারলে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে, দিল্লিতে একটি বৈঠকের অজুহাতে ডেকে পাঠানো হয় মাধুরীকে। এরপর ২২ এপ্রিল, দক্ষিণ ব্লকে এসে পৌঁছলেই গ্রেফতার করা হয় মাধুরীকে। তদন্তে জানা যায়, তিনি ৭৩টি ইমেল আদান-প্রদান করেছেন, যার মধ্যে ৫৪টি মেল তিনি পাঠিয়েছিলেন এবং ১৯টি মেল পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ এবং ৫ ধারায় মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২১ মাস তিহাড় জেলে কাটান তিনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে ৬৪ বছর বয়সে মারা যান মাধুরী।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পেশাগত দায়িত্বের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তার এক বাস্তব উদাহরণ মাধুরী গুপ্তর জীবন। একজন কূটনীতিকের কাছ থেকে দেশ সর্বোচ্চ সততা ও বিশ্বস্ততা প্রত্যাশা করে। কিন্তু নিজের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন মাধুরী গুপ্ত। প্রেমের ফাঁদ আর দেশের নিরাপত্তার মধ্যেকার সেতু নড়ে গিয়েছিল এক নিপাট ছলনায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।