বর্ধমানের রাঁধুনির গোপন রেসিপি কীভাবে জন্ম দিয়েছিল সকলের প্রিয় মোগলাই পরোটার?

আপনি যদি কলকাতায় থেকে আজ অবধি এই ঐতিহাসিক পরোটা-সফরের অংশীদার না হয়ে থাকেন, তবে আর দেরি না করে একদিন সন্ধেবেলা চিরাচরিত জলখাবারের ছন্দপতন ঘটিয়ে দিনের শুরু করুন মোগলাই পরোটা দিয়ে।

Arunima Mukherjee
৪ মিনিট
বর্ধমানের রাঁধুনির গোপন রেসিপি কীভাবে জন্ম দিয়েছিল সকলের প্রিয় মোগলাই পরোটার?

বাঙালিরা তাদের রুচি, শিক্ষা, সংস্কৃতি অথবা পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি পরিচিত তাদের ভোজনরসিকতার জন্যও। তাই তো ইদানীংকালে ভারত কিংবা বিশ্বের নানা দেশের তামাম ফুড ভ্লগাররা কলকাতার খাবারের স্বাদ আস্বাদন করার জন্য একবার করে হলেও ঢুঁ মেরে যান। অন্যদিকে আবার বাইরের দেশগুলোতে বাঙালি খাবারের অসংখ্য দোকান প্রতিনিয়ত মাথা চাড়া দিয়ে গজিয়ে উঠছে। কলকাতার অসংখ্য বিখ্যাত সব খাবারের তালিকায় একটি জনপ্রিয় খাবার হল মোগলাই পরোটা। বাইরে ময়দার পাতলা আস্তরণ, ভেতরে মাংস বা ডিমের পুর আর সঙ্গে পিঁয়াজ এবং শসার স্যালাড আর আলুর তরকারি- ভোজনরসিক বাঙালিমাত্রই এই স্বয়ংসম্পূর্ণ পরোটার সঙ্গে তারা কমবেশি সকলেই পরিচিত। কিন্তু দিল্লি থেকে এই পরোটা খাস কলকাতায় এল কীভাবে তা কখনও ভেবে দেখেছেন? যদি না ভেবে থাকেন তাহলে ঋত্বিক ঘটকের সেই ভাবা প্র‍্যাকটিস করার বিখ্যাত উক্তির অবতারণা না করে বরং সরাসরি বলেই ফেলি পরোটা-যাত্রার কথা।

মুঘল খাবার বা মোগলাই খাবার

এককথায় বলতে গেলে বলাই যায়, ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যের সঙ্গে যে-সমস্ত খাবারের নাম জড়িয়ে আছে, তাই মোগলাই খাবার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আর একটু বিশদে বলতে গেলে, মুঘল সাম্রাজ্যের যে খাবারগুলো আজকের মোগলাই খাবার হিসাবে পরিচিত, তা মূলত মধ্যযুগীয় ইন্দো-পার্সিয়ান সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। মোগলাইকে একটি আদর্শ ফিউশন খাবার বলা যেতে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্য এশিয়া এবং ইসলামিক খাদ্যগুলোর একটি সুস্বাদু সংমিশ্রণ হলো এই মোগলাই খাবার। মধ্য এশিয়ার তুরস্ক থেকে যেহেতু এই মুঘলদের উদ্ভব, তাই তুর্কি খাবারের এক বৃহৎ প্রভাব এই মোগলাই খাবারে দেখা যায়। এই খাবারগুলি বর্তমানে মূলত উত্তর ভারতের খাবার হিসেবে অধিক প্রচলিত।বিভিন্ন মশলা, বাদাম, শুকনো ফল, দুধ কিংবা কখনও কখনও আবার মালাই সহযোগে এই খাবারগুলো তৈরি করা হয়ে থাকে। ছোট্ট একটি কথা এখানে না বললেই নয়, ১৮৫৭ সালে দিল্লির সিংহাসন অধিগ্রহণের পরে ইংরেজরা সর্বপ্রথম এই খাবারগুলোকে ‘মোগলাই খাবার’ হিসেবে নামকরণ করেছিল।

পরোটার ইতিহাস

সব বিখ্যাত জিনিস গড়ে ওঠার পিছনেই দেখা যায় কোনও না কোনও মজার গল্প থাকে, ঠিক সেইভাবেই এই পরোটার গড়ে ওঠার পিছনেও একটি গল্প রয়েছে। মুঘল মসনদে তখন চতুর্থ সম্রাট জাহাঙ্গির বিরাজমান। মুঘল ইতিহাসের কিছু পাতা ঘাঁটলে বোঝা যায়, সম্রাট জাহাঙ্গির খানিক শিল্পী মনের মানুষ ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই খাওয়ার সময় রাঁধুনি কিংবা বলা ভালো, বাবুর্চি তাঁকে মাংস এবং পরোটা পরিবেশন করলে তিনি হঠাৎ-ই সেদিন রেগে যান। আর রাগ করবেনই বা না কেন? ভারতের সম্রাটের ভাগ্যে যদি নিতান্তই বর্তমানের মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই একই খাবার রোজ জোটে সে কি মানা যায়! তাই তিনি তাঁর রাঁধুনিকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই এই পরোটা আর মাংসের বদলে নতুন কিছু খাবার আবিষ্কার করতেই হবে। সেই সময় সম্রাটের রাঁধুনি ছিলেন বর্ধমানের আদিল হাফিজ উসমান। তা তিনিও কম বুদ্ধিমান ছিলেন না। ন'দিনের মাথায় তিনি জাহাঙ্গিরের সামনে হাজির হলেন আজকের মোগলাই পরোটা নিয়ে। সম্রাট জাহাঙ্গির তো নতুন খাবার পেয়ে ভীষণ আপ্লুত। তিনি সেদিন এতই খুশি হয়েছিলেন যে, আদিল হাফিজ উসমানকে এক হাজারএকটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়েও ক্ষান্ত হলেন না, সঙ্গে আবার তাঁকে দিলেন একটি জায়গির।

আদিল উসমান কিন্তু নিজের জীবদ্দশায় এই পরোটার রেসিপি কাউকে বলেননি, এমনকী, তিনি তাঁর ছেলেদেরকেও এই রেসিপিটি গোপন রাখতে বলেছিলেন। সেইমতো উসমানের পরবর্তী বহু প্রজন্ম এই রেসিপিটি তাঁদের কাছে মূল্যবান ধনসম্পদের ন্যায় গোপন করেই রেখেছিলেন। তারপর একদিন মুঘল যুগের অবসান ঘটল, ভারতের শাসনভার পেল ব্রিটিশরা। উসমানের উত্তরসূরিরা বুঝলেন, এই মোক্ষম সময়– আর তার পরেই পরোটার রেসিপি চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। কলকাতা পেল তার বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় মোগলাই পরোটা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পরমহংস রামকৃষ্ণ থেকে নেতাজি: সকলের প্রিয় তেলেভাজার দোকান ছড়িয়ে এই শহরেই

সেরা টেস্টের দৌড়ে যারা ইঞ্চিখানেক এগিয়ে তাদের হালহদিশ রইল। কলকাতার প্রথম সারির কয়েকটি চপের দোকানের সুলুকসন্ধান রইল এখানে।

মোগলাই পরোটার পূর্বসূরি

আগেই বলা হয়েছে মোগলাই খাবারে তুরস্কের প্রচুর প্রভাব রয়েছে। বাংলার হিন্দু রাজাদের শাসনের পর, আনুমানিক ১২০০ থেকে ১২০২ অব্দে বাংলায় তুর্কি আক্রমণ হয় এবং বাংলার শাসনভার চলে যায় তাদের হাতেই। খিলজি রাজবংশ প্রথমে ভারতে এবং পরে দিল্লিতেও বেশ কয়েকশো বছর তাদের শাসন কায়েম রাখতে সমর্থ হয়েছিল। এই সময় তুর্কিদের ‘গোজলেমে’ বলে একটি খাবারের সন্ধান পাওয়া যায়, যা খানিকটা আজকের মোগলাই পরোটার মতোই ছিল। তবে এই খাবারে বিভিন্ন স্বাদের মশলার সঙ্গে মূলত ভেড়া কিংবা গরুর মাংস পুর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বলে রাখা ভালো, এই ‘গোজলেমে’ ছিল তুর্কির ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

মহারাষ্ট্রীয় মোগলাই পরোটা

‘বাইদা রোটি’ নামে মাংস, ডিম এবং মশলার সংমিশ্রণে বানানো অন্য এক ধরনের একটি পরোটা আবার মহারাষ্ট্রে পাওয়া যেত। এটি ছিল মূলত দুপুরের খাবার।একথা আমরা সবাই জানি যে, শ্রীলঙ্কা এবং বর্মা (বর্তমানের মায়ানমার)– এই দুই দেশ দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। বর্মার, ‘পালটাস’ নামের একটি পরোটার থেকে মহারাষ্ট্রের এই ‘বাইদা রোটি’-র আগমন বলে অনেকে মনে করে থাকেন। বলা হয়ে থাকে, বর্মা থেকে যখন সেখানকার লোকজনরা ভারতে আসতেন, তাঁদের সঙ্গেই ভারতীয় উপকূলে ‘পালটাস’ পরোটার রেসিপি ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং সেখান থেকেই এই পরোটা ‘বাইদা রোটি’ নাম নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপকূলে এবং পরবর্তী সময়ে গোটা রাজ্যেই।

ভিন্ন মত

সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক বেশ নিবিড় হয়েছিল। ১৬০৮ সালে সুবেদার ইসলাম খান বাংলাদেশের বর্তমান ঢাকা শহরকে মুঘল বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গিরনগর। পরবর্তীকালে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে 'ঢাকা' নামটির আবির্ভাব হয়েছে। অনেকে মনে করেন, এই মোগলাই পরোটার জন্ম হয়েছিল ঢাকাতেই। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরে দেশভাগের ফলে সেখানকার মানুষের হাত ধরেই সেই রেসিপি কলকাতায় ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু এই তথ্যটি সত্য নয়, কারণ ১৯২৫ সালে কলকাতার অনাদি কেবিনের প্রতিষ্ঠাতা বলরাম জেনা, তাঁর ছেলের স্মরণে দোকানটি স্থাপন করেন। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত কলকাতার এই দোকান সগৌরবে অসংখ্য ভোজনরসিক বাঙালির কাছে একই স্বাদের মোগলাই পরোটা পরিবেশন করে চলেছে। আলুর তরকারি, স্যালাড এবং কাসুন্দি-সহযোগে গরম গরম ছোট আকারে কাটা মোগলাই পরোটা খেতে আজও ভিড় লেগে থাকে অনাদি কেবিনে। আপনি যদি কলকাতায় থেকে আজ অবধি এই ঐতিহাসিক পরোটা-সফরের অংশীদার না হয়ে থাকেন, তবে আর দেরি না করে একদিন সন্ধেবেলা চিরাচরিত জলখাবারের ছন্দপতন ঘটিয়ে দিনের শুরু করুন মোগলাই পরোটা দিয়ে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।