মাথায় গুরুতর চোট তাঁকে বানিয়ে দিল দ্রুততম 'ক‍্যালকুলেটর'! ভানু প্রকাশ আজ দেশের বিস্ময়

Human Calculator: কেন নীলকন্ঠ ভানু প্রকাশ দ্রুততম হিউম্যান ক্যালকুলেটরের তকমা পেয়েছেন?

Raktim Dey
৩ মিনিট
মাথায় গুরুতর চোট তাঁকে বানিয়ে দিল দ্রুততম 'ক‍্যালকুলেটর'! ভানু প্রকাশ আজ দেশের বিস্ময়

'হিউম্যান ক্যালকুলেটর'- শব্দদু'টি শুনলেই বহু মানুষের শকুন্তলা দেবীর নাম মনে পড়ে। অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন এই মানুষটিকে ঘিরে অসংখ্য কাহিনি রয়েছে। তাঁর বৈচিত্র‍্যপূর্ণ জীবন নিয়ে একটি হিন্দি সিনেমা পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। শকুন্তলা দেবী আজ আমাদের মধ্যে না থাকলেও তাঁর অভাব পূরণ করতে শুরু করেছেন অপর এক ভারতীয়। বিবিসি তাঁকে গণিতের উসেইন বোল্ট আখ্যা দিয়েছে। পৃথিবীর দ্রুততম এই হিউম্যান ক্যালকুলেটরের নাম নীলকন্ঠ ভানু প্রকাশ। ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে একটি দুই অঙ্কের সংখ্যাকে নিজেদের মধ্যে সর্বাধিকবার যোগ করার রেকর্ড শকুন্তলা দেবীর নামেই ছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার কারণেই নীলকন্ঠ ভানু প্রকাশ দ্রুততম হিউম্যান ক্যালকুলেটরের তকমা পেয়েছেন। শুনলে আশ্চর্য হতে হয়, হয়তো আজ তাঁর জীবন সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত।

নীলকন্ঠ ভানু প্রকাশের জন্ম ১৯৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর। পাঁচ বছর বয়সে একটি পথ-দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় চোট পেয়েছিলেন। ভানু প্রকাশের পরিবার সেই সময়ে বাড়িতে তাঁর আশপাশের প্রায় সব আয়না লুকিয়ে ফেলেছিল। তাঁর নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে অবসন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে এই কাজ করা হয়েছিল। এই ঘটনা থেকে সেই দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কিছুটা আন্দাজ করা যায়। মাথায় চোট পাওয়ার ফলে তাকে প্রায় এক বছর ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হয়েছিল। সেই সময় ঘরের মধ্যে খেলার জন্য নীলকণ্ঠর পিতা শ্রীনিবাস তাঁকে বহু পাজল কিনে দিয়েছিলেন। এই বিভিন্ন রকমের পাজল নিয়ে খেলা করতে করতে তাঁর গণিতের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। সাধারণ পাজল থেকে অ্যাবাকাস এবং তারপর পাটিগণিত- নানা শাখায় নিজেকে মেলতে থাকেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বলা হত 'হিউম্যান কম্পিউটার', লিখেছিলেন সমকামিতা নিয়ে বই || আজও বিস্ময় এই মহিলা গণিতজ্ঞ

স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা গণিতজ্ঞ শকুন্তলা দেবী।

গণিত-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করেছিলেন ভানু প্রকাশ। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক হওয়ার আগেই তাঁর ঝুলিতে বহু স্বর্ণপদক এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার জমা হয়েছিল। গণিতে স্নাতক এবং অন্যান্য কৃতিত্বর কারণেই ভানু প্রকাশ বহু চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর মাথায় তখন অন্য চিন্তা শুরু হয়েছিল। সেই চিন্তা ছিল মানুষের মধ্যে থেকে গণিতের ভয় দূর করা।

'পাই দিবস' পালিত হয় মার্চ মাসের ১৪ তারিখ। এই দিন এক সাক্ষাৎকারে ভানু প্রকাশ বলেছিলেন, গণিতের ভয় কাটানোর কিছু উপায়ের মধ্যে প্রথম উপায় হলো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা। গণিতের বিভিন্ন ধারণা কেন তৈরি হয়েছে, সেই সম্পর্কে জানতে পারলে গণিত বোঝা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তাঁর মতে গণিতের অভ্যাস, বিশেষত, বিভিন্ন রকমের হিসেবের অভ্যাস শরীরচর্চার মতোই করা সম্ভব। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বহু ক্ষেত্রে করা ছোট ছোট হিসাব যদি আমরা রোজ অভ্যাস করি, তাহলে গণিতের হিসেবের ভয় কিছুটা দূর হবে। এই অভ্যাস যে কোনও বয়সের মানুষ আয়ত্ত করতে পারে এবং এইভাবেই তাঁর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। তাঁর মতে, কোনও মানুষ তার আশপাশের মানুষের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলে, সেই ভাষাকে সে কখনও ভয় পায় না। মানুষ তার মাতৃভাষায় কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করে না। এর একমাত্র কারণ হলো, প্রতিদিনের অভ্যাস। গণিত এবং হিসেবের ক্ষেত্রেও সেই একই পন্থা অবলম্বন করে মানুষ গণিত এবং হিসেবের ভয়কে জয় করতে পারবে। তাঁর মতে, গণিতের ভয় কাটানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। বহু চিন্তাভাবনার পর এবং নানা লোভনীয় চাকরি প্রত্যাখ্যান করে ভানু প্রকাশ ২০২০ সালে তৈরি করেছিলেন 'ভানজু'। ভানু প্রকাশের লক্ষ্য অনুযায়ী তৈরি হওয়া এবং তাঁর প্রদর্শিত পথে নেটমাধ্যমে সহজে অঙ্ক শেখার একটি ঠিকানা হলো ভানজু।

ভানু প্রকাশের জীবনের তেইশ বছর পূর্ণ করার আগেই বহু মানুষ তাকে 'ম্যাথলিট' বলে অভিহিত করতে শুরু করেছে। তাঁর ঝুলিতে অসংখ্য স্বর্ণপদক ছাড়াও রয়েছে চারটি বিশ্ব রেকর্ড এবং পঞ্চাশটি লিমকা রেকর্ড। ২০২০ সালে লন্ডনে আয়োজিত গণিতের মানসিক গণনার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভানু প্রকাশ স্বর্ণপদক অর্জন করেছিলেন। 'ফোর্বস' ম্যাগাজিন তাদের থার্টি আন্ডার থার্টি-র তালিকায় তাঁর নাম রেখেছে। এই সবকিছুর মধ্যেই ভানু প্রকাশ তাঁর পুরনো এবং একটি নতুন লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন- মানুষের মধ্যে থেকে গণিতের ভীতি দূর করা ও ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক গণিতে আত্মবিশ্বাসী মানুষ তৈরি করা।

তথ্য ঋণ: দ‍্য টেলিগ্রাফ, দ্য উইক, দ‍্য হিন্দু।

লিখেছেন
Raktim Dey
Raktim Dey
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।