নজরুলের পত্রিকায় সেদিন লেখেননি রবীন্দ্রনাথ

Kazi Nazrul Rabindranath Letters: "আমার শীর্ণ শক্তি আর জীর্ণ দেহের পরে তোমার দরদ নেই। কোনো মন্ত্রবলে বয়স বদল করতে পারলে তোমার শিক্ষা হতো।"

inscript
৪ মিনিট
নজরুলের পত্রিকায় সেদিন লেখেননি রবীন্দ্রনাথ

সে কালে রবীন্দ্রনাথও নজরুলের পত্রিকায় লেখেননি। ঘুরিয়ে বলেছিলেন, এখন 'বড়' লেখকরা যা বলেন। তফাৎ হলো কীভাবে তিনি বলেছিলেন, লিখতে পারবেন না। নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথের চিঠির উত্তরে কেমনভাবে কী বলেছিলেন, তাও লক্ষ্য করার মতো। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের প্রথম দেখা ১৯২০ সালে। যেটুকু জানা যায়, ওই সাক্ষাতে নজরুল তাঁর নতুন কবিতা 'আগমনী' রবীন্দ্রনাথকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের দ্বিতীয়বার দেখা এর ঠিক বছর দুয়েক পরে, ১৯২২-এর ১১ জুলাই। এর ঠিক এক মাস পরেই প্রকাশিত হয় নজরুল সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’। মুজফফর আহমেদ আর নজরুল মিলে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা প্রকাশের আগে তিনি রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী চেয়ে পাঠান। রবীন্দ্রনাথও একটি কবিতা লিখে পাঠান নজরুলকে। এরপর বসন্ত নাটিকাটি নজরুলকে উৎসর্গ, নজরুলকে অনশন ভঙ্গ করতে অনুরোধ, সেই সবই ঘটেছে। ১৯৩১ সালের জুন মাসে নজরুল দার্জিলিং গেলেন, রবীন্দ্রনাথও ছিলেন সেখানেই। সাক্ষাৎ হলো যথারীতি। এর বছর চারেক পর, ধূমকেতুর সময়ের মতোই রবীন্দ্রনাথের কাছে নয়া পত্রিকার জন্য লেখা চাইলেন নজরুল। ইনস্ক্রিপ্টে রবিবারের রোয়াকে এই সংখ্যায় আমরা দু'জনেরই দু'টি ঐতিহাসিক চিঠি তুলে ধরলাম পাঠকদের সামনে।

শ্রীচরণারবিন্দেষু,

গুরুদেব! বহুদিন শ্রীচরণ দর্শন করিনি। আমার ওপর হয়তো প্রসন্ন কাব্যলক্ষ্মী হিজ মাস্টার্স ভয়েসের কুকুরের ভয়ে আমায় ত্যাগ করেছেন বহুদিন। কাজেই সাহিত্যের আসর থেকে আমি প্রায় স্বেচ্ছানির্বাসন নিয়েছি। আপনার তপস্যায় আমি কখনো উৎপাত করেছি বলে মনে পড়ে না। তাই অবকাশ সত্ত্বেও আমি আপনার দূরে দূরেই থেকেছি। তবু জানি, আমার শ্রদ্ধার শতদল আপনার চরণস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি।

আমার কয়েকজন অন্তরঙ্গ সাহিত্যিক ও কবি বন্ধু ‘নাগরিক’ পরিচালনা করছেন। গতবার পূজায় আপনার কিরণস্পর্শে ‘নাগরিক’ আলোকিত হয়ে উঠেছিল, এবারও আমরা সেই সাহসে আপনার দ্বারস্থ হচ্ছি। আপনার যে কোনো লেখা পেলেই ধন্য হব। ভাদ্রের শেষেই পূজা সংখ্যা নাগরিক প্রকাশিত হবে। তার আগেই আপনার লেখনী-প্রসাদ আমরা পাব, আশা রাখি।

আপনার স্বাস্থ্যের কথা আর জিজ্ঞাসা করলাম না। ইতি –

প্রণত

নজরুল ইসলাম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যৌন জটিলতাও হয়ে উঠেছিল স্নিগ্ধ! নজরুলের যে গল্পের হদিশ আজও জানেন না পাঠক

Kazi Nazrul Islam Stories: এই গল্পগুলির অদ্ভুত অভিব্যক্তি কিংবা জীবন সংকটে যৌন উৎকণ্ঠা এক বিশেষ মাত্রা নিয়ে আসে।

১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৫ রবীন্দ্রনাথ এর উত্তরে নজরুলকে লেখেন,

কল্যাণীয়েষু,

অনেকদিন পর তোমার সাড়া পেয়ে মন খুব খুশি হোল। কিছু দাবী করেছো – তোমার দাবী অস্বীকার করা আমার পক্ষে কঠিন। আমার মুস্কিল এই, পচাঁত্তরে পড়তে তোমার এখনো অনেক দেরি আছে এইজন্য আমার শীর্ণ শক্তি আর জীর্ণ দেহের পরে তোমার দরদ নেই। কোনো মন্ত্রবলে বয়স বদল করতে পারলে তোমার শিক্ষা হতো। কিন্তু মহাভারতের যুগ অনেক দূরে চলে গেছে, এখন দেহে মনে মানবসমাজকে চলতে হয় সায়েন্সের সীমানা বাঁচিয়ে।

অনেকদিন থেকে আমার আয়ুর ক্ষেত্রে ক্লান্তির ছায়া ঘনিয়ে আসছিল, কিছুদিন থেকে তার উপরেও দেহযন্ত্রের বিকলন দেখা দিয়েছে। এখন মূলধন ভেঙে দেহযাত্রা নির্বাহ করতে হচ্ছে – যা ব্যয় হচ্ছে তার আর পূরণ হবার উপায় নেই। তোমার বয়সে লেখা সম্বন্ধে প্রায় দাতাকর্ণ ছিলুম, ছোটোবড়ো সকলকেই অন্তত মুষ্টি ভিক্ষাও দিয়েছি। কলম এখন কৃপণ, স্বভাবদোষে নয়, অভাববশত। ছোটবড় নানা আয়তনের কাগজের পত্রপুট নিয়ে নানা প্রার্থী আমার অঙ্গনে এসে ভিড় করে – তাদের সকলকেই ফেরাতে হলো। অনাবৃষ্টির কুয়োর শেষতলায় অল্প যেটুকু জল জমে ছিল সেটুকু নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমি প্রতিজ্ঞা করছি কৃপণের অখ্যাতি শেষ বয়সে স্বীকার করে নিয়ে রিক্ত দানপাত্র হাতে বিদায় নেব। যারা ফিরে যাবে তারা দুয়ো দিয়ে যাবে কিন্তু বৈতরণীর মাঝদরিয়ায় সে ধ্বনি কানে উঠবে না।

আজকাল দেখতে পাই ছোটো ছোটো বিস্তর কাগজের অকস্মাৎ উদ্‌গম হচ্ছে – ফুল ফসলের চেয়ে তাদের কাঁটার প্রাধান্যই বেশি। আমি সেকেলে লোক, বয়সও হয়েছে। সাহিত্যে পরস্পর খোঁচাখুঁচির প্রাদুর্ভাব কেবল দুঃখজনক নয়, আমার কাছে লজ্জাজনক বোধ হয়। এইজন্যে এখনকার ক্ষণসাহিত্যের কাঁচা রাস্তায় যেখানে সেখানে পা বাড়াতে আমার ভয় লাগে। সাবধানে বাছাই করে চলবার সময় নেই, নজর ক্ষীণ হয়েছে; এইজন্যে এইসকল গলিপথ একেবারে এড়িয়ে চলাই আমার পক্ষে নিরাপদ। তুমি তরুণ কবি, এই প্রাচীন কবি তোমার কাছ থেকে আর কিছু না হোক করুণা দাবী করতে পারে। নিষ্কিঞ্চনের কাছে প্রার্থনা করে তাকে লজ্জা দিও না। এই নতুন যুগে যে সব যাত্রী সাহিত্যতীর্থে যাত্রা করবে পাথেয় তাদের নিজের ভিতর থেকেই সংগ্রহ করতে হবে।

শুনেছি বর্ধমান অঞ্চলে তোমার জন্ম। আমরা থাকি তার পাশের জিলায় – কখনো যদি ঐ সীমানা পেরিয়ে আমাদের এদিকে আসতে পারো খুশি হবো। স্বচক্ষে আমার অবস্থাও দেখে যেতে পারবে।

ইতি

১৫ ভাদ্র, ১৩৪২

স্নেহরত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বভারতীর আপত্তি, রবীন্দ্রনাথ সেদিন দাঁড়িয়েছিলেন নজরুলের পাশে

তিনি এবং কয়েকজন মিলে তৈরি করেছিলেন ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস। যার নাম ছিল বেঙ্গল টাইগার পিকচার্স।

রবীন্দ্রনাথের এই চিঠি পেয়ে ‘নাগরিক’-এর ওই বার্ষিক সংখ্যাতেই (২য় বর্ষ, ১ম সংখ্যা, ১৩৪২ সন) ‘তীর্থপথিক’ নামে একটা দীর্ঘ কবিতা লেখেন নজরুল ইসলাম। সেই কবিতার শেষের লাইনগুলো পুরোটা উদ্ধৃত করলাম –

বিজ্ঞান বলে, বলুক, রবির কমিয়া আসিছে আয়ু;

রবি রবে যতদিন এই ক্ষিতি-অপ-তেজ-বায়ু।

মহাশূন্যের বক্ষ জুড়িয়া বিরাজে যে ভাস্কর,

তার আছে ক্ষয়, এত প্রত্যয় করিবে কোন্ সে নর?

চন্দ্র-ও আছে, আছে অসংখ্য তারকা রাতের তরে

তবু দিবসের রবি বিনা মহাশূন্য নাহি সে ভরে।

তুমি রবি, তুমি বহু ঊর্ধ্বের, তোমার সে কাছাকাছি

যাবে কোন্ জন? তোমার কিরণ-প্রসাদ পাইয়া বাঁচি।

তুমি স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বিশ্বের বিস্ময়,

তব গুণ-গানে ভাষা-সুর যেন সব হয়ে যায় লয়।

তুমি স্মরিয়াছ ভক্তেরে তব, এই গৌরবখানি

রাখিব কোথায় ভেবে নাহি পাই, আনন্দে মূক বাণী।

কাব্যলোকের বাণী-বিতানের আমি কেহ নহি আর,

বিদায়ের পথে তুমি দিলে তবু কেন এ আশিস-হার?

প্রার্থনা মোর, যদি আরবার জন্মি এ ধরণীতে,

আসি যেন শুধু গাহন করিতে তোমার কাব্য-গীতে!!

তথ্যঋণ- অরুণকুমার বসুর নজরুল জীবনী

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।