এই মুহূর্তে কেমন আছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা?

Bangladeshi Hindu Minorities: গোবিন্দ বলছেন, ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতারাই গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদেরই ক্ষতি করছেন।

inscript
৩ মিনিট
এই মুহূর্তে কেমন আছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা?

অশান্ত বাংলাদেশে যে আন্দোলন ছাত্রদের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল তা অবশেষে ছাত্রদের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর গণভবন দখল করে যে ভাংচুর, লুঠপাট চলেছে তাতে স্তম্ভিত বিশ্ব। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তিও। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই আন্দোলনে মিলে গিয়েছে আওয়ামী লীগ বিরোধী বিএনপি ও জামাত-এ-ইসলামীও। এবার এই আবহে গোটা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন উড়ো খবরও আসছে। এই আন্দোলনে, বিএনপি-জামাতের প্রভাব বাড়ায় নাকি বিপদের মুখে পড়তে চলেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা! ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে। বিএনপির শাসনামলে বারবারই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এবারও কি তেমনটাই ঘটছে নাকি শুধুই গুজব ছড়ানো হচ্ছে?

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ঠিক কেমন আছেন? পরিসংখ্যান বলছে, গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। কিন্তু হিন্দুদের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫ শতাংশের বেশি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনগণনা হয় ১৯৭৪ সালে। সেই সময় মোট জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার। তার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন ১ কোটি ৩ লাখ ১৩ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার ১৩.৫ শতাংশ। ১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার হিন্দু বাংলাদেশ ছাড়েন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৭০ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় চলে এসেছিলেন। যার ৯৫ শতাংশই ছিলেন বাঙালি হিন্দু। এবারের অশান্তির কারণে সংখ্যালঘু হিন্দুরা কি ভারতমুখী হবেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যাঁদের জন্য লেখিকাকে নির্বাসন, তাঁদের হাতেই দেশছাড়া হাসিনা! কী বলছেন তসলিমা?

Taslima Nasreen on Sheikh Hasina: তসলিমার বিখ্যাত বই 'লজ্জা' নিয়ে মৌলবাদী সংগঠনগুলি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সেই প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে।

পরিস্থিতি সেইদিকে যাওয়ার আগেই, বাংলাদেশে এই অশান্তির আবহে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা আওয়াজ তুলেছে, বাংলাদেশে 'হিন্দু খতরেঁ মে হ্যায়', বাংলাদেশ নাকি জামাতদের কবলে চলে যাচ্ছে। বিজেপির তরফে প্রচার হচ্ছে, লাখে লাখে সংখ্যালঘু হিন্দু উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আসবেন। সত্যিই কি এমনটা ঘটছে?

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসভার মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক অবশ্য বলছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয় যতটা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার চলছে। তিনি বলছেন, "হাসিনার পদত্যাগের পর বাংলাদেশের হিন্দুরা মনে করেছিলেন তাঁদের উপর অত্যাচার হবে, লুঠপাট চলবে, অগ্নিসংযোগ হবে। কিন্তু সোমবার বিএনপি ও জামাতের নেতারা তাঁদের নেতৃবৃন্দের নির্দেশ দেন যাতে হিন্দুদের বাড়িতে অত্যাচার, লুটপাট অগ্নিসংযোগ না হয়, প্রত্যেক মন্দিরে যাতে পাহারা দেওয়া হয়।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"পরবর্তী পাকিস্তান হবে বাংলাদেশ", কেন বলছেন শেখ হাসিনার পুত্র জয়?

Sheikh Hasina Bangladesh: হাসিনা পুত্র বলছেন, পরিস্থিতিকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের হাত থাকতে পারে।

বাংলাদেশে হিন্দুদের অন্যতম প্রধান মুখ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ শাখার অন্যতম সংগঠক গোবিন্দ বলছেন, "জামাত-বিএনপির লোকেরাও মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা পাহারা দিয়েছে। যা হামলা হয়েছে, মূলত আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হিন্দু। সাধারণ হিন্দুদের ওপর হামলা হয়নি। কিছু দুষ্কৃতী কোনও ঘটনা ঘটালেও সেগুলি ব্যাতিক্রম।" গোবিন্দ বলছেন, ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতারাই গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদেরই ক্ষতি করছেন।

তবে গোবিন্দ প্রামাণিকের এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কি একেবারেই মিলে যাচ্ছে? বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো' জানাচ্ছে, সেই দেশের ২৯টি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতির বাড়িতে, খুলনা জেলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিমান বিহারী অমিত ও যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনিমেষ সরকার রিন্টুর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। সাতক্ষীরায় জেলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু এবং ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত ঘোষের বাড়িতেও হামলা হয় বলে খবর। বিভিন্ন দুর্গামন্দিরে হামলা, কালীমন্দিরে ভাঙচুর, রামকৃষ্ণ মিশন ও ইসকন মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। একদিকে যেমন মন্দির পাহারা চলছে তেমনই ভাংচুরও ঘটছে!

তাই সবটা মিলে ভারতের কেন্দ্র সরকার সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। সংখ্যালঘু হিন্দু ও শরণার্থী সমস্যা চিরকালই বিজেপি সরকারের ইস্যু, তাই এবারের অশান্তির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘুদের ভারতে আসার আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছে না ভারত। হাসিনা সরকারের পতনে ভারতের সীমান্তে বিপদ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। হাসিনা ভারতে এসে পৌঁছতেই বাংলাদেশ ও ভারতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকেন এদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ডাকা ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব পিকে মিশ্র, ‘র’-এর প্রধান রবি সিন্‌হা এবং গোয়েন্দা বিভাগের (আইবি)-র ডিরেক্টর তপন ডেকা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।