আট বছর বাদে হৃতিকের মনে অন্য কেউ, কে এই সাবা আজাদ!

Arunima Mukherjee
৩ মিনিট
আট বছর বাদে হৃতিকের মনে অন্য কেউ, কে এই সাবা আজাদ!

হৃতিক রোশন এবং সাবা আজাদের প্রেমের খবর কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বলিউডের আনাচে-কানাচে। এই বছরের গোড়ার দিকেই বান্দ্রার একটি ক্যাফে থেকে হাত ধরে বের হতে দেখা যায় হৃতিক এবং সাবাকে। এরপর থেকেই মিডিয়া এবং অনুগামী মহলে জল্পনার অন্ত নেই। তবে কি স্ত্রী সুজানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আট বছর পর আবার কেউ স্থান করে নিয়েছে সকলের প্রিয় কৃশের হৃদয়ে? যদিও দুই তারকার কেউই এখনও অবধি এই সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের মুখ খোলেননি। সাবাকে ফোন করে এই সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আপাতত ব্যাস্ত আছেন বলে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যান। কিছুদিন আগেই ফারহান আখতারের বিয়েতে হৃতিকের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু অবশ্য এই সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন এবং আরও বলেছেন তারা দু'জনেই এই সম্পর্কে খুবই খুশি রয়েছেন, নিজেদের মতো করে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। তবে বেশ খানিকটা সময় নিয়েই তাঁরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে চান।

কে এই সাবা আজাদ?

তিনি একাধারে যেমন একজন বলিউডের নায়িকা তেমনই আবার একজন সুগায়িকাও। তবে তাঁর আসল নাম সাবা সিং গ্রেওয়াল। ২০০৮ সালে বলিউডে তিনি পা রেখেছিলেন ‘ দিল কবাডি’ ছবির মাধ্যমে। এরপর ২০১১ সালে ‘মুঝসে ফ্রেনডশিপ কারোগে’ ছবিতে তিনি শীর্ষ অভিনেত্রী ছিলেন। বিগত বছরে নেটফিলক্সের ‘ফিল লাইক ইশক’ নামে এক আন্থ্রোলজিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, এছাড়াও চলতি বছরের সনি লাইভে ‘রকেট বয়েজ’ বলে একটি বাওপিকে তিনি অভিনয় করেছেন। বড়পর্দার পাশাপাশি তিনি আবার কিছু শর্টফিল্মেও কাজ করেছেন যেমন, ঈশান নাইয়ারের ‘গুরুর’। আসলে সাবার একটি থিয়েটারমুখী পরিবারেই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অভিনয়ের জগতে পা রাখেন ‘জানা নাট্য মঞ্চ’ র মধ্যে দিয়ে।

শরীরে বইছে সফদরের রক্ত

তাঁর কাকু, সাফদার হাশমি ছিলেন একজন বিখ্যাত নাট্যকর্মী এবং একজন কমিউনিস্ট নাট্য রচয়িতা। ১৯৮৯ সালে ‘হাল্লা বোল’ নামে একটি পথনাটক করতে গিয়ে তিনি খুন হন। তাই হয়তো বলিউডে পা রাখার পরেও সাবা নাটক থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নেয়নি বরং ‘দ্যা স্কিন’ নামে তাঁর নিজেস্ব একটি থিয়েটার দলও রয়েছে। এছাড়াও তিনি ‘ম্যাডবয়/মিঙ্ক’ নামে একটি ব্যান্ডের লিড ভোকালিস্ট। এই ব্যান্ডে তিনি ছাড়াও শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহের ছেলে ইমাদ শাহ। তাঁদের দুজনের প্রচেষ্টায় ২০১২ সালে এই ব্যান্ডটি জন্ম নিয়েছিল। সঙ্গীত দলের সহকর্মী ছাড়াও ইমাদের সঙ্গে সাবার অন্য একটি সম্পর্ক ছিল। ম্যাডবয়/মিঙ্ক গঠিত হবার পর, ২০১৩ সাল থেকে সাবা এবং ইমাদ দীর্ঘ সাত বছর রিলেশনশিপে ছিলেন। অবশেষে ২০২০ সালে সেই দীর্ঘ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন সাবা। যদিও সম্পর্কের ভাঙলেও ম্যাডবয়/মিঙ্ক ভাঙেনি। গত বছরেই তিনি এইচ অ্যান এম’র মত ব্র্যান্ডের সঙ্গেও কাজ করেছেন।

যিনি রাঁধেন তিনিই চুল বাঁধেন

সাবা আবার একজন প্রশিক্ষিত নৃত্যশিল্পী। ওড়িশি, ব্যালে, জ্যাজ, ল্যাটিন এবং কনটেম্পোরারি ডান্সেও তিনি বেশ পারদর্শী, এমনকী তিনি দেশের বাইরেও একজন নৃত্যশিল্পী হিসাবে অসংখ্য অনুষ্ঠান করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় অসংখ্য ব্রান্ডের অ্যাডেও তাঁকে দেখা গেছে। বলিউডে কোন বড় জায়গা না করতে পারলেও, তিনি যে একেবারে গুণে সরস্বতী একথা বলার অবকাশ আশা করি আর থাকে না।

নিজেদের সম্পর্কের কথা মুখে স্বীকার না করলেও, ইন্সটাগ্রামে নজর রাখলেই বোঝা যায় সম্পর্ক বেশটাই গভীর হয়েছে। অসংখ্যবার একে অপরকে ট্যাগ কিম্বা নিজেদের স্টোরিতে উল্লেখ করা কিন্তু অনুগামীদের নজর এড়াতে পারেনি। হৃতিকের সাবার ছবিতে দুর্দান্ত সব মন্তব্য দেখেই বোঝা যায়, স্বয়ং গ্রীক গড একেবারে প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। শুধু গ্রিক গডই বা কেন, তাঁর গোটা পরিবারের মনও কিন্তু সাবা ইতিমধ্যেই জয় করে ফেলেছেন। কিছুদিন আগেই একটি রবিবারে, সাবা নিজে হৃতিকের কাকু এবং বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক রাজেশ রোশনের জন্মদিনে একটি লাঞ্চেরও আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিল হৃতিকের গোটা পরিবার এবং তাঁর দুই ছেলে হৃদান এবং হৃহানকেও। প্রাক্তন স্ত্রী সুজানকেও সাবার বিভিন্ন পোস্টে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয় তিনি সাবার সঙ্গীতের বেশ ভক্তও বটে তাই তো ম্যাডবয়/মিঙ্ক-এর একটি অনুষ্ঠানে হৃতিক না থাকতে পারলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুজান নিজে, ইন্সটাগ্রামের একটি পোস্ট থেকে এ ঘটনা পরিষ্কার বোঝা গিয়েছে।

কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে হৃদান এবং হৃহান দুজনে ইতিমধ্যেই নাকি সাবার সঙ্গীতের বেশ অনুরাগী হয়ে উঠেছে। সুতরাং সাবার সঙ্গে হৃতিকের সম্পর্কের জল যে তলায় তলায় অনেকখানি গড়িয়েছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে, শুভার্থীরা বলছেন এখন অপেক্ষা শুধু সাতপাকে বাঁধা পরার। অন্তত অনুগামীরা তো সেই শুভক্ষণেরই দিন গুনছেন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।