কোন পথে মণিপুর সমস্যার সমাধান? দিনভর সফর শেষে উপায় বাতলালেন রাহুল

Rahul Gandhi at Manipur: দিনভর মণিপুর সফরের পর রাহুল জানান, তিনি এ নিয়ে তৃতীয়বার মণিপুরে এলেন। তাঁর কথায়, "ভেবেছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি দেখব। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কোনো উন্নতি চোখে পড়ল না।"

Sohini Das
৩ মিনিট
কোন পথে মণিপুর সমস্যার সমাধান? দিনভর সফর শেষে উপায় বাতলালেন রাহুল

মণিপুরে হিংসার এক বছরের বেশি কেটে গেলেও সেখানে পদধুলি পড়েনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এরই মধ্যে তৃতীয় বার মণিপুরে গেলেন রাহুল গান্ধি। হিংসাবিদীর্ণ মণিপুরে এর আগেও দু'বার গিয়েছেন রাহুল। মণিপুর থেকেই তিনি আরম্ভ করেছিলেন এ বছরের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা। লোকসভার অধিবেশনে তিনি একাধিক বার শাসকদলকে মণিপুর-প্রশ্নে বিঁধেছেন। কেন এত দিনে একবারও মণিপুরে যাওয়ার সময় হল না প্রধানমন্ত্রীর, প্রশ্ন তুলেছেন তা নিয়েও। অধিবেশন মিটতেই মণিপুরের অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে সশরীরে সেখানে পৌঁছলেন রাহুল। জিরিবামে ত্রাণ শিবিরে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শোনেন তাঁদের দুর্দশার কথা।

সোমবার সকালে অসমের শিলচর বিমানবন্দরে নামেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান অসম এবং মণিপুরের কংগ্রেস নেতারা। অসমের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মণিপুরের উদ্দ্যেশে রওনা দেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর আগে অসমের চাঁচর জেলায় মণিপুরের দুর্গতদের জন্য করা ত্রাণ শিবিরে যান রাহুল। মণিপুর পৌঁছে সোজা জিরিবামের ওই ত্রাণ শিবিরে উপস্থিত হন রাহুল। সেখানে থাকা মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখান থেকে সড়কপথে চূড়াচাঁদপুরের উদ্দ্যেশে রওনা দেন বিরোধী দলনেতা। চূড়াচাঁদপুরে জাতিগত হিংসায় ঘরছাড়াদের ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেন রাহুল গান্ধী। এদিন রাহুলের সঙ্গে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কেইশাম মেঘচন্দ্র এবং সিএলপি নেতা ও ইবোবি সিং। মেঘচন্দ্র এদিন সাংবাদিকদের বলেন, রাহুল গান্ধীর এই সফরের লক্ষ্য গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মস্কোয় মোদি! হিংসাদীর্ণ মণিপুরে বিধ্বস্তদের পাশে সেই রাহুলই

Rahul Gandhi at Manipur: ইতিমধ্যেই মণিপুরের জিরিবামে পৌঁছেছেন রাহুল। সেখানকার একটি ত্রাণ শিবিরেও যান তিনি। হিংসা ছড়ানোর পর থেকে যেখানে রয়েছেন অসংখ্য বাস্তুচ্যুত মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ।

এদিকে সোমবারই রাশিয়া সফরে গিয়েছেন মোদি। সেখানে দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। তবে নিজের দেশের উত্তর-পূর্বের ছোট্ট রাজ্য মণিপুরে পা রাখার সময় করে উঠতে পারেননি মোদি। সেই ইস্যুতে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানান কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ। এক্স হ্যান্ডেলে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ‘আমাদের নন বায়োলজিক্যাল প্রধানমন্ত্রী মস্কোর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন, অন্যদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা অসম ও মণিপুরে দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে ভয়াবহ হিংসায় রক্তাক্ত মণিপুর। অথচ আজও প্রধানমন্ত্রী ওই এলাকায় পা তো রাখেননি এমনকী সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেননি।’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মণিপুরে চুপ থাকা মানে মেরি-রতন থিয়ামদের অপমান করা! মোদির উদ্দেশ্যে মণিপুরের সাংসদ

Lok Sabha Session 2024: মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন সে রাজ্যের সাংসদ আঙ্গোমচা বিমল আকোইজাম। রাজ্যের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির নীরব দর্শক হয়ে থেকেছে মোদি সরকার, সেই অভিযোগও তোলেন তিনি।

মোদি এদিন মণিপুরে গিয়ে সেখানকার সাংসদদের সঙ্গে দেখা করেন। আলোচনায় বসেন সে রাজ্যের রাজ্যপাল অনুসুইয়া উইকেইয়ের সঙ্গেও। মণিপুরে যাওয়ার আগে তিনি অসম বন্যাবিপর্যস্তদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এদিন কাছাড় জেলার কুম্ভীগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে মণিপুরের উদ্দেশে রওনা হন রাহুল। বন্যায় অসমের আঠাশটি জেলার ২২ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭৮ জনের। বিভিন্ন ত্রাণশিবিরগুলোতে ঘুরে বিপর্যস্তদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। সেখান থেকে যান মণিপুরে। যেখানে মেইতেই ও কুকিদের ত্রাণশিবিরগুলো পরিদর্শন করেন তিনি।

দিনভর মণিপুর সফরের পর রাহুল জানান, তিনি এ নিয়ে তৃতীয়বার মণিপুরে এলেন। তাঁর কথায়, "ভেবেছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি দেখব। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কোনো উন্নতি চোখে পড়ল না। আমি ত্রাণ শিবিরে মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি, তাদের কথা নিবিড় ভাবে শুনেছি। তাদের কষ্ট চোখের সামনে দেখেছি। বুঝতে চেষ্টা করেছি।" তাঁর মতে, হিংসা ও ঘৃণার মাধ্যমে কোনও সমাধানের পথ মণিপুরে মিলবে না। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে মণিপুর-সমস্যার। রাহুল জানান, তিনি রাজ্যপালের সাথে কথা বলেছেন। তাঁকে তিনি জানিয়েছেন, কংগ্রেস পার্টি সামর্থ্য অনুযায়ী মণিপুরের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মণিপুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও মুখ খোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, "আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করি, মণিপুরে এসে বোঝার চেষ্টা করতে। এখানে কী হচ্ছে, বুঝতে। এখানকার মানুষের কষ্টের শুনুন। ওদের মন বুঝুন। গোটা দেশ চায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মণিপুরে আসুন। মানুষের কথা শুনুন। তাহলে মানুষ ভরসা পাবে।"

প্রশ্ন উঠছে বিরোধী নেতার এত ভর্ৎসনা কিংবা অনুরোধের পরেও কি প্রধানমন্ত্রীর চিঁড়ে গলবে? আদৌ কি কখনও হিংসাদীর্ণ মণিপুরে পা পড়বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির? নাকি মণিপুর শুধুমাত্র বিরোধী দলনেতা রাহুলকেই পাশে পাবে জীবনভর? আদৌ কবে মিটবে মণিপুরের সমস্যা? কবে নিজের দেশে সসম্মানে ফিরে আসবেন মণিপুরের বাস্তুচ্যুতরা। সেই প্রশ্ন বোধহয় থেকেই যায়।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।