আজও বিসর্জনে মিলে যায় দুই বাংলা! কেমন ছিল এবারের ইছামতীর ভাসান?

Durgapuja 2022: বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির ইতিহাস বহন করে চলেছে দুই বাংলার ইছামতি।

Ramen Das
৫ মিনিট
আজও বিসর্জনে মিলে যায় দুই বাংলা! কেমন ছিল এবারের ইছামতীর ভাসান?

বিসর্জন। বিজয়ার শুভ আবহে আর উমা-বিদায়ের সামগ্রিক চিত্রে, আজও ইতিহাস বহন করে চলেছে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি। করোনাকালে খানকিটা থমকে যাওয়ার পরে এবছর ফের উদযাপিত হলো ৩০০ বছরের ইতিহাস। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের আগেই যে প্রথার উদ্ভব হয়েছিল, তা আজও বহমান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রীতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তিত হয়েছে ভাবনাও কিন্তু আজও সেই ইতিহাসই বহন করে চলেছে দুই বাংলার ইছামতি। কালিন্দী, ইছামতি আর বিদ্যাধরীর মিলনক্ষেত্র আজও দেখিয়ে চলেছে সম্প্রীতির ছবি।

বিসর্জন ইতিহাসে টাকি

কচু শাক আর পান্তাভাত। সঙ্গে চালতার চাটনি। আজও দশমীর সকালে কৈলাশের উমার পাতে পড়ে এই পদ। তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে সন্তান-সন্ততি সমেত প্রায় ২৬ বেয়ারার কাঁধে চাপেন ঘোষ বাড়ির মেয়ে। গন্তব্য কৈলাশের শ্বশুরবাড়ি। ইছামতির রাজবাড়ির ঘাটে নৌকা ধরেন দেবী। সঙ্গে বাকিরাও। তারপর নদীবক্ষে চক্কর কেটে মাঝ নদীতে বিলীন হন দেবী দুর্গা। ৩০০ বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি। জলের মাঝেই বিলীন হন মা, মিলে যায় দুই দেশ। রাশি রাশি মানুষের স্পর্শে মিলিত হয় দুই বাংলা।

জানা যায়, মুঘল সাম্রাজ্যে শুরু হয় এই পুজো এবং বিসর্জনের শুরু হয় তখন থেকেই। জমিদার হরিনারায়ণ ঘোষ, তাঁর নিজের বাড়িতে পুজো শুরু করেন ৩০০ বছর আগে। অবিভক্ত বাংলায় এই পুজো ছিল অনেকাংশেই সর্বজনীন। নদী পেরিয়ে মিলে উপস্থিত হতেন সকলেই। অবিভক্ত বাংলার ছত্রে ছত্রে বিরচিত হতো এই পুজো এবং ভাসান।

জমিদারবাড়ির পুজোর প্রথা অন্যদের থেকে ভিন্ন। জানা যায়, অষ্টমীর দিন কুমারী পূজা শুধু নয়, মায়ের ভোগের ক্ষেত্রে আজও থাকে মৌলিকত্ব। এখানে রান্না করে ভোগ নিবেদন করা হয় না দেবীকে। দুর্গার জন্য থাকে গোটা এবং কাঁচা সবজির ব্যবস্থা। নবমীর দিন মহিষ বলি দেওয়া হত এই পুজোয়। যা বন্ধ হয়েছে পরে। দূর-দূরান্ত থেকে সেই বলি দেখতে দুই বাংলার মানুষ আসতেন। সেই জাঁকজমক এখন প্রায় লুপ্ত। সীমান্তে বেড়েছে বিধিনিষেধ। তাই আর আসতে পারেন না অনেকেই। এখন নবমীর দিন এই মহিষের বদলে জমিদারবাড়িতে বলি দেওয়া হয় চালকুমড়ার।

যদিও পুরনো রীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপের একচালার প্রতিমা তৈরি হয় এখনও। ডাকের সাজে সাজানো হয় দুর্গামূর্তি। দু’পাশে থাকে হাতপাখার বাতাস দেওয়ার ব্যবস্থা। পুবের বাড়ি অর্থাৎ ঘোষ বাড়ির প্রতিমার চক্ষুদান হয় মহালয়ায়। এদিকে এই বাড়ির পুজোয় সন্ধিপুজোর আগে এক প্রসাদী ডালা দিয়ে পুজো দেওয়া হয় কুলেশ্বরী কালী বাড়িতে।

শুধু আচার নয়, এই পুজোয় রয়েছে ইতিহাসের খোঁজও। বলা হয়, এই পুজোতে নাকি আসতেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শরৎ বসুরা এই পুজোয় উপস্থিত হতেন বলে জানা যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দশমীর সঙ্গে কেন জুড়ে রয়েছে 'বিজয়া'? বিজয়া দশমীর অজানা সব কাহিনী

Vijayadashami: যুদ্ধের পর কার সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে আর কার সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে না তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সেই কারণেই এই বিশেষ দিনে ক্ষত্রিয়দের স্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতেন।

কথিত আছে, টাকির জমিদারের লাঠি আর গোবরডাঙার জমিদারের হাতি ছিল বিখ্যাত। একবার নাকি টাকির জমিদার মতিলাল ঘোষ ৭ ডাকাত পিটিয়ে বিখ্যাত হয়েছিলেন।

আজও জমিদারবাড়ির দুর্গা ভাসানের সঙ্গেই শুরু হয় অন্যান্য বাড়ির ভাসান। আর এখানেই টাকির সমগ্র ভাসান ইতিহাসে মুখ্য ভূমিকা পালন করে পূবের বাড়ি। সমগ্র মিলনক্ষেত্র এবং দুই পাড়ের মানুষের জন্য এই ৩০০ বছরের ইতিহাস আবর্তিত হয়ে আসছে ঘোষবাড়ির সূত্রেই।

টাকির জমিদারবাড়ির পলেস্তরা খসা, ভগ্নপ্রায় দুর্গা দালানের মায়ের বিসর্জনেই সূচিত হয়ে আসছে সবটা। ঘোষদের বাড়ির প্রতিমা নৌকায় ওঠার পরে একে একে নদীবক্ষে উপস্থিত হন মুখার্জিবাড়ি, রায়চৌধুরী-সহ একাধিক বাড়ির প্রতিমা। একটু বেলা গড়াতেই শোভাযাত্রা সমেত সিতুবাবুর ঘাটে পৌঁছয় বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা। যা ৫০ বছর আগে থেকে চলে আসছে। এর আগে শুধুমাত্র বাড়ির পুজোর আধিক্য ছিল টাকিতে।

এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে বিসর্জন। ইছামতির দুই পাড়ে দুই বাংলার মানুষের ঢল নামে এদিন। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের কোলাহল আর নদীবক্ষে নৌকার চলমানতায় সাঙ্গ হয় বিসর্জনের পালা।

এবারের টাকি

২০১৯ সালের আবহ ফের ফিরেছিল ২০২২-এ এসে। কারণ, করোনা আবহে জাঁকজমক বন্ধ ছিল গত বছরেও। শুধুমাত্র উদ্যোক্তাদের হাতে গোনা কয়েকজন এবং বাড়ির পুজোর ক্ষেত্রে গুটিকয়েক সদস্যের উপস্থিতিতে হয় বিসর্জন। খুব একটা ভিড় জমার ক্ষেত্রেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। এবারের পরিস্থিতি ছিল একেবারে আলাদা। জমায়েতের ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ ছিল না এদিন। টাকি রেল স্টেশন থেকেই যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল একাধিক ক্ষেত্রে। জায়গায় পুলিশ পিকেট। এর সঙ্গেই ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ান সারা বছর এই এলাকায় মোতায়েন থাকলেও বিসর্জনের দিন টাকি সরকারি মহাবিদ্যালয়, টাকি গ্রামীণ হাসপাতাল এলাকাতেও কড়া পাহারায় ছিল বিএসএফ। ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে নজরদারি। এবং ইছামতীতে স্পিড বোট, লঞ্চে করে নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছিল পর্যাপ্ত ডুবুরির ব্যবস্থাও। সাধারণ দর্শনার্থীদের গত বছর নৌকায় চড়ে বিসর্জন দেখার সুযোগ না থাকলেও এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। মাথাপিছু বোট অনুযায়ী ভাড়া ছিল ৫০০ অথবা ১০০০ অথবা সমগ্র বোট ভাড়া ৯০০০ টাকা। টিকিট কেটে নৌকা চড়ে ভাসান দেখতে পেরেছেন সকলেই। কিন্তু সীমান্ত খুলে দেওয়ার যে রেওয়াজ বন্ধ করে দেওয়া হয় বহুদিন আগেই, তা বজায় ছিল এই বছরেও। অর্থাৎ নদীবক্ষের মাঝ বরাবর ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও বাংলাদেশের দিকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখে বিএসএফ এবং বিডিআর। শুধু নৌকা করেই ভাসান দর্শন নয়, নদীর দুই পাড়ে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

ছবি সৌজন্য: লেখক

টাকির বিসর্জনে উন্মাদনা

কেউ এসেছেন সুদূর উত্তর কলকাতা থেকে, কেউ হুগলি জেলার ডানকুনি থেকে। টাকির বিসর্জনে মেতে উঠতে হাওড়ার বাউড়িয়া, বাগনান থেকেও এসেছেন কেউ কেউ। আশপাশের শুধু নয়, বারাসাত, বসিরহাট আর কলকাতা, মিলেমিশে একাকার হয় বিসর্জনের টাকি। কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয় ইছামতির দুই পাড়। উত্তর কলকাতার হেদুয়া থেকে এসেছিলেন সুব্রত দাস। ইনস্ক্রিপ্ট-কে তিনি জানান, "ভীষণ ভালো একটা অভিজ্ঞতা হল। নৌকায় বসে চারদিকে জল আর নৌকার মাঝে মায়ের মূর্তি। দুই বাংলার মিলনক্ষেত্র মনে হচ্ছিল। বারাসত থেকে এসেছিলেন অমিত মল্লিক। তাঁর কথায়, "আগেও এসেছি। গত দু'বছর আসতে পারিনি। এর বিশেষত্ব বলে বোঝানোর নয়, তবে এক দিনের জন্য জল সীমান্ত খোলার ব্যবস্থা আবার চালু হলে খুব ভালো।'' রাজেশ্বরী লাহিড়ী এসেছেন গড়িয়া থেকে। তাঁর কথায়, "আমার মায়ের পরিবারের অনেকেই বাংলাদেশের। আমার যাওয়া হয়নি কোনও দিন। কিন্তু টাকির ভাসান খানিকটা নস্টালজিক করে দিল।"

ছবি সৌজন্য: লেখক

জোরদার নিরাপত্তা আর করোনা হটিয়ে এবার নতুনভাবে মেতেছে টাকি। কী বলছেন পুলিশ আধিকারিকরা? বসিরহাট পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, "এই অঞ্চলের অর্থাৎ বিসর্জন ক্ষেত্রের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিএসএফের হাতে অনেকটাই। আমাদের হাতে ঠিক যতটা বা যা যা করণীয়, সব করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিন্দুমাত্র অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।''

নৌকার মাঝি রতন রুইদাস। তাঁর কথায়, "সারাদিন মায়ের ভাসান আর মানুষ টানি জলে। একটু দূরেই তিন নদীর মিলন স্থলেও যায়। নৌকা চালায়। সব ভালো, তবে কিছু দর্শনার্থীদের নিয়ে ভয় হয়। অযথা ঝুঁকে থাকা, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ!''

সব মিলিয়ে আবার ভালো আছে টাকি। ফের ইতিহাস, আভিজাত্য আর দুই বাংলার মিলন মেলায় ভালো আছে বিসর্জন, সুখে আছে উৎসবও। এই একাত্ম শুধু হিন্দুর নয়, এখানে টোটো চালক রহিম আলির সঙ্গেই মিশে যায় নৌকার মাঝি রতন। এখানেই আইস্ক্রিম বিক্রেতা জহিরুলের সঙ্গে মেতে ওঠে আমজাদ, দীপঙ্কররা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে টাকির দশমী শুধু মাতৃ-বিজয়া নয়, এই বিসর্জন দুই দেশের। টাকি, অযাচিত বিচ্ছেদের আবহেই যেন ফের বলে ওঠে, আমরা সবাই এক, আমাদের এই ভাসান রাজত্বে।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।